প্লাস্টিক বর্জ্য পুড়িয়ে ধান সেদ্ধ! বাতাসে, খাদ্যে, ফসলে বিষ

প্লাস্টিক বর্জ্য পুড়িয়ে ধান সেদ্ধ! বাতাসে, খাদ্যে, ফসলে বিষ

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পলিথিন, পুরোনো টায়ার, পুরোনো রাবার, সিন্থেটিক গার্মেন্টস পণ্যের ঝুট, জুতা-স্যান্ডেলসহ বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য পুড়িয়ে ধান সেদ্ধ করা হচ্ছে। এতে করে পরিবেশ দূষণের মাত্রা বেড়েছে। বাণিজ্যিকভাবে ধান সেদ্ধ করার এই কাজ চলছে উপজেলার বিভিন্ন চালকল ও চাতালে।

 

স্থানীয়রা জানান, ব্যস্ত সড়কের পাশে ও আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এসব চাল কল ও ধান শুকানোর চাতালে রয়েছে বড় বড় চুলা ও বয়লার। সচরাচর তুষগুঁড়া ব্যবহার করে সেখানে ধান শুকানো ও সেদ্ধ করা হয়। সম্প্রতি এসব প্রাকৃতিক উপাদানের পরিবর্তে ধান সেদ্ধ করার কাজে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে বাতাস বিষাক্ত হচ্ছে, সেদ্ধ করা চালে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে এবং আশপাশের জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এক কথায় গোটা পরিবেশ বিষাক্ত হচ্ছে।

 

এক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ পরিস্থিতি তুলে ধরেছে সংবাদমাধ্যম সমকাল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে: বিভিন্ন চাতালের আশপাশে বসবাসকারীদের ভাষ্য মতে, প্লাস্টিক বর্জ্য পোড়ানোর কারণে কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। চাতাল ও বয়লারের চুলা থেকে ছাই উড়ে গিয়ে পড়ছে ফসলের জমিতে। এতে নষ্ট হচ্ছে ফল-ফসল ও শীতকালীন বিভিন্ন সবজি। কালো ধোঁয়ার কারণে সড়কে চলাচলরত যানবাহন ও পথচারীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

 

উপজেলার দাশুড়িয়া তেতুঁলতলা এলাকার মাঠে খিরা, ভুট্টা, সরিষা, ধনিয়া, গম, লালশাক, ফুলকপিসহ বিভিন্ন সবজির মাঠে চাতালের ছাই উড়ে এসে পড়ার কারণে এসব এলাকার ফসলে ফলন কমেছে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

 

পরিবেশবাদী সংগঠন সবুজ পৃথিবী ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কলেজ শিক্ষক মনিরুল ইসলাম বাবু বলেন, পলিথিন, পুরোনো টায়ার, প্লাস্টিক-রাবারের পুরোনো জুতা, স্যান্ডেলসহ প্লাস্টিক বর্জ্য পুড়িয়ে সেদ্ধ করা ধানের চাল মানুষের জন্য নিরাপদ নয়। তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এসব বর্জ্য পুড়িয়ে পরিবেশ দূষণ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন।

 

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) উপজেলার সাধারণ সম্পাদক সহিদ মাহমুদ বলেন, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে প্রতিনিয়ত এভাবে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। পরিবেশের জন্য এসব বর্জ্য পোড়ানো কালো ধোঁয়া মানব দেহের জন্য যেমন ক্ষতির কারণ, তেমনি ফসলের উৎপাদন ব্যাহত এবং গাছও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণের অনুরোধ জানান।

 

এতসব ক্ষতির পরও স্থানীয় চালকল-চাতাল মালিকদের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

 

সূত্র: সমকাল

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

প্লাস্টিক দূষণ রোধে বৈশ্বিক চুক্তির আলোচনা করতে নতুন নেতা নির্বাচিত  

প্লাস্টিক বর্জ্য পুড়িয়ে ধান সেদ্ধ! বাতাসে, খাদ্যে, ফসলে বিষ

আপডেট সময় ০৪:৩৩:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পলিথিন, পুরোনো টায়ার, পুরোনো রাবার, সিন্থেটিক গার্মেন্টস পণ্যের ঝুট, জুতা-স্যান্ডেলসহ বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য পুড়িয়ে ধান সেদ্ধ করা হচ্ছে। এতে করে পরিবেশ দূষণের মাত্রা বেড়েছে। বাণিজ্যিকভাবে ধান সেদ্ধ করার এই কাজ চলছে উপজেলার বিভিন্ন চালকল ও চাতালে।

 

স্থানীয়রা জানান, ব্যস্ত সড়কের পাশে ও আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এসব চাল কল ও ধান শুকানোর চাতালে রয়েছে বড় বড় চুলা ও বয়লার। সচরাচর তুষগুঁড়া ব্যবহার করে সেখানে ধান শুকানো ও সেদ্ধ করা হয়। সম্প্রতি এসব প্রাকৃতিক উপাদানের পরিবর্তে ধান সেদ্ধ করার কাজে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে বাতাস বিষাক্ত হচ্ছে, সেদ্ধ করা চালে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে এবং আশপাশের জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এক কথায় গোটা পরিবেশ বিষাক্ত হচ্ছে।

 

এক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ পরিস্থিতি তুলে ধরেছে সংবাদমাধ্যম সমকাল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে: বিভিন্ন চাতালের আশপাশে বসবাসকারীদের ভাষ্য মতে, প্লাস্টিক বর্জ্য পোড়ানোর কারণে কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। চাতাল ও বয়লারের চুলা থেকে ছাই উড়ে গিয়ে পড়ছে ফসলের জমিতে। এতে নষ্ট হচ্ছে ফল-ফসল ও শীতকালীন বিভিন্ন সবজি। কালো ধোঁয়ার কারণে সড়কে চলাচলরত যানবাহন ও পথচারীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

 

উপজেলার দাশুড়িয়া তেতুঁলতলা এলাকার মাঠে খিরা, ভুট্টা, সরিষা, ধনিয়া, গম, লালশাক, ফুলকপিসহ বিভিন্ন সবজির মাঠে চাতালের ছাই উড়ে এসে পড়ার কারণে এসব এলাকার ফসলে ফলন কমেছে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

 

পরিবেশবাদী সংগঠন সবুজ পৃথিবী ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কলেজ শিক্ষক মনিরুল ইসলাম বাবু বলেন, পলিথিন, পুরোনো টায়ার, প্লাস্টিক-রাবারের পুরোনো জুতা, স্যান্ডেলসহ প্লাস্টিক বর্জ্য পুড়িয়ে সেদ্ধ করা ধানের চাল মানুষের জন্য নিরাপদ নয়। তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এসব বর্জ্য পুড়িয়ে পরিবেশ দূষণ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন।

 

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) উপজেলার সাধারণ সম্পাদক সহিদ মাহমুদ বলেন, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে প্রতিনিয়ত এভাবে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। পরিবেশের জন্য এসব বর্জ্য পোড়ানো কালো ধোঁয়া মানব দেহের জন্য যেমন ক্ষতির কারণ, তেমনি ফসলের উৎপাদন ব্যাহত এবং গাছও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণের অনুরোধ জানান।

 

এতসব ক্ষতির পরও স্থানীয় চালকল-চাতাল মালিকদের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

 

সূত্র: সমকাল