সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার ভিডিও বার্তা Logo বৈধ অস্ত্র ৩১ জানুয়ারির মধ্যে থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশ Logo সিলেটে ট্রেনের ধাক্কায় মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়া হাতির অবস্থা আশঙ্কাজনক Logo সড়কজুড়ে অবৈধ বালুর ব্যবসা, হুমকির মুখে পরিবেশ Logo শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ Logo কেন ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ও অন্তর্বর্তী সরকার: প্রেস উইংয়ের ব্যাখ্যা Logo যে উপায়ে কাপড়ের কঠিন দাগ সহজে দূর করা যায় Logo ইরানে বিক্ষোভ-সহিংসতায় নিহত বেড়ে ৫ হাজার, ইসরায়েল-আমেরিকাকে দায়ী করলেন খামেনি Logo প্লাস্টিক বর্জ্য পুড়িয়ে ধান সেদ্ধ! বাতাসে, খাদ্যে, ফসলে বিষ Logo জুলাই যোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে পৃথক বিভাগ করার প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

ফেলানী হত্যার ১৫ বছর : এখনো বিচারের আশায় পরিবার

ফেলানী হত্যার ১৫ বছর : এখনো বিচারের আশায় পরিবার

ফেলানী হত্যার ১৫ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১১ সালের এই দিনে (৭ জানুয়ারি) ফুলবাড়ী সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন কিশোরী ফেলানী খাতুন। হত্যার পর দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতারে ঝুলে ছিল তার নিথর মরদেহ। সেই দৃশ্য বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করলেও ১৫ বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু আজও ঝুলে আছে ফেলানী হত্যার বিচার।

ফেলানীর বাড়ি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কলোনীটারী গ্রামে। তার বাবা নূরুল ইসলাম পরিবারসহ বসবাস করতেন ভারতের আসাম রাজ্যের বঙ্গাইগাঁও এলাকায়। নূরুল ইসলামের বড় মেয়ে ফেলানীর বিয়ে ঠিক হয় বাংলাদেশে। বিয়ের উদ্দেশে ভারতের কাঁটাতার টপকে নিজ দেশে আসতে হবে তাদের। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি শুক্রবার। ভোর ৬টা ফুলবাড়ি উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে মই বেয়ে কাঁটাতার টপকান ফেলানীর বাবা। পরে কাঁটাতার টপকানোর চেষ্টা করে ফেলানী। এ সময় বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে বিদ্ধ হয় সে। গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা ছটফট করার পর ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। সকাল পৌনে ৭টা থেকে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা কাঁটাতারেই ঝুলে থাকে ফেলানীর মরদেহ।

ঘটনাটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ভারত সরকার ও বিএসএফ। এর প্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট ভারতের কোচবিহারে জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্টে ফেলানী হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়। ওই মামলায় সাক্ষ্য দেন ফেলানীর বাবা নূরুল ইসলাম ও মামা হানিফ।

তবে একই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর বিএসএফের বিশেষ আদালত অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে খালাস দেন। রায় প্রত্যাখ্যান করে ফেলানীর পরিবার পুনর্বিচারের আবেদন জানায়। ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পুনর্বিচার শুরু হয় এবং ১৭ নভেম্বর ফের সাক্ষ্য দেন ফেলানীর বাবা। কিন্তু ২০১৫ সালের ২ জুলাই দ্বিতীয় দফায়ও অমিয় ঘোষকে খালাস দেওয়া হয়।

রায়ের বিরুদ্ধে ভারতের মানবাধিকার সংগঠন ‘মাসুম’র সহায়তায় ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই ফেলানীর বাবা নূরুল ইসলামের পক্ষে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। একই বছরের ৬ অক্টোবর রিটের শুনানি শুরু হলেও ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে একাধিকবার তা পিছিয়ে যায়। সর্বশেষ ২০২০ সালের ১৮ মার্চ শুনানির তারিখ নির্ধারিত থাকলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে সেটিও হয়নি। এরপর আর রিটের কোনো অগ্রগতির খবর পায়নি ফেলানীর পরিবার।

হতাশা প্রকাশ করে ফেলানীর বাবা নূরুল ইসলাম বলেন, ‘ফেলানী হত্যার ১৪ বছর পার হয়ে ১৫ বছরে পড়ল, কিন্তু বিচার পেলাম না। ভারতের সুপ্রিম কোর্টে মামলাটা নিলেও কয়েকবার শুনানির তারিখ দিয়ে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন আর কোনো খবরই পাই না। আমার মেয়ের বিচার হলে সীমান্তে আর মানুষ মরত না। আমি সরকারের কাছে দাবি জানাই—মরার আগে যেন মেয়ের বিচারটা দেখে যেতে পারি।’

রিট পিটিশনের পাশাপাশি ২০১৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ফেলানী হত্যার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচার এবং ক্ষতিপূরণ দাবিতে ফেলানীর বাবা নূরুল ইসলাম ও বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালমা আলী ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। এতে আইন ও বিচার বিষয়ক মন্ত্রণালয় (ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া) এবং বিএসএফ মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়। পরে ২০১৫ সালের ২১ জুলাই ফেলানীর বাবার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণের আবেদনও করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার ভিডিও বার্তা

ফেলানী হত্যার ১৫ বছর : এখনো বিচারের আশায় পরিবার

আপডেট সময় ০১:৪৩:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
ফেলানী হত্যার ১৫ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১১ সালের এই দিনে (৭ জানুয়ারি) ফুলবাড়ী সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন কিশোরী ফেলানী খাতুন। হত্যার পর দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতারে ঝুলে ছিল তার নিথর মরদেহ। সেই দৃশ্য বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করলেও ১৫ বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু আজও ঝুলে আছে ফেলানী হত্যার বিচার।

ফেলানীর বাড়ি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কলোনীটারী গ্রামে। তার বাবা নূরুল ইসলাম পরিবারসহ বসবাস করতেন ভারতের আসাম রাজ্যের বঙ্গাইগাঁও এলাকায়। নূরুল ইসলামের বড় মেয়ে ফেলানীর বিয়ে ঠিক হয় বাংলাদেশে। বিয়ের উদ্দেশে ভারতের কাঁটাতার টপকে নিজ দেশে আসতে হবে তাদের। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি শুক্রবার। ভোর ৬টা ফুলবাড়ি উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে মই বেয়ে কাঁটাতার টপকান ফেলানীর বাবা। পরে কাঁটাতার টপকানোর চেষ্টা করে ফেলানী। এ সময় বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে বিদ্ধ হয় সে। গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা ছটফট করার পর ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। সকাল পৌনে ৭টা থেকে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা কাঁটাতারেই ঝুলে থাকে ফেলানীর মরদেহ।

ঘটনাটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ভারত সরকার ও বিএসএফ। এর প্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট ভারতের কোচবিহারে জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্টে ফেলানী হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়। ওই মামলায় সাক্ষ্য দেন ফেলানীর বাবা নূরুল ইসলাম ও মামা হানিফ।

তবে একই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর বিএসএফের বিশেষ আদালত অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে খালাস দেন। রায় প্রত্যাখ্যান করে ফেলানীর পরিবার পুনর্বিচারের আবেদন জানায়। ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পুনর্বিচার শুরু হয় এবং ১৭ নভেম্বর ফের সাক্ষ্য দেন ফেলানীর বাবা। কিন্তু ২০১৫ সালের ২ জুলাই দ্বিতীয় দফায়ও অমিয় ঘোষকে খালাস দেওয়া হয়।

রায়ের বিরুদ্ধে ভারতের মানবাধিকার সংগঠন ‘মাসুম’র সহায়তায় ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই ফেলানীর বাবা নূরুল ইসলামের পক্ষে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। একই বছরের ৬ অক্টোবর রিটের শুনানি শুরু হলেও ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে একাধিকবার তা পিছিয়ে যায়। সর্বশেষ ২০২০ সালের ১৮ মার্চ শুনানির তারিখ নির্ধারিত থাকলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে সেটিও হয়নি। এরপর আর রিটের কোনো অগ্রগতির খবর পায়নি ফেলানীর পরিবার।

হতাশা প্রকাশ করে ফেলানীর বাবা নূরুল ইসলাম বলেন, ‘ফেলানী হত্যার ১৪ বছর পার হয়ে ১৫ বছরে পড়ল, কিন্তু বিচার পেলাম না। ভারতের সুপ্রিম কোর্টে মামলাটা নিলেও কয়েকবার শুনানির তারিখ দিয়ে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন আর কোনো খবরই পাই না। আমার মেয়ের বিচার হলে সীমান্তে আর মানুষ মরত না। আমি সরকারের কাছে দাবি জানাই—মরার আগে যেন মেয়ের বিচারটা দেখে যেতে পারি।’

রিট পিটিশনের পাশাপাশি ২০১৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ফেলানী হত্যার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচার এবং ক্ষতিপূরণ দাবিতে ফেলানীর বাবা নূরুল ইসলাম ও বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালমা আলী ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। এতে আইন ও বিচার বিষয়ক মন্ত্রণালয় (ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া) এবং বিএসএফ মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়। পরে ২০১৫ সালের ২১ জুলাই ফেলানীর বাবার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণের আবেদনও করা হয়।