৫৫ তম বিজয় দিবসে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা জানানোর পাশাপাশি একাত্তরের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বর্ণিল আয়োজনে মুখরিত হয়েছে রাজধানীর রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ প্রাঙ্গন। সেসময় উন্নয়ন রাষ্ট্রের ধারণা সামনে রেখে, স্বাধীনতার প্রকৃত চেতনায় দেশ পুনর্গঠন ও বিনির্মাণের তাগিদ মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্টজনদের।
এই আয়োজনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বিভিন্ন বাহিনীর ছয়টি দল ও ছাপ্পান্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কুচকাওয়াজ এবং মনোজ্ঞ ডিসপ্লেতে ফুটে উঠে লাল-সবুজের বিজয়গাঁথা। উঠে আসে সমৃদ্ধ দেশ বিনির্মাণের প্রত্যাশা।

বিজয়ের পঞ্চান্নতম দিবসে এসেও দেশের কাঙ্খিত অগ্রগতি নিশ্চিত না হওয়ায় আক্ষেপ জানিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
অনুষ্ঠানে আগত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকজন বলেন, সত্যকে সত্য আর মিথ্যাকে মিথ্যা বলতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের যেভাবে মূল্যায়ন করা উচিত ছিল তা করা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধে যে প্রত্যাশা ছিল তা এখনো পূরণ হয়নি।
নির্ধারিত আয়োজনে জাতীর সূর্য সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারবর্গকে সংবর্ধনা দেয়ার মাধ্যমে উঠে আসে তাদের প্রতি জাতির রক্তের ঋণ ও বীরত্বগাঁথা।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চ্যানেল আই হৃদয়ে লাল সবুজ অনুষ্ঠান থেকে সরাসরি রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ প্রাঙ্গনে যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মুকিত মজুমদার বাবু।
অনুষ্ঠানে প্রকৃতিবন্ধু বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বরে চূড়ান্ত বিজয়ের কারণেই আজ আমরা এই মাটিতে দাঁড়িয়ে রয়েছি। এই মাটিই আমরা পেতাম না যদি আমাদের সবার হাত একাত্তরে এক না হতো। ৫৪ বছর হয়ে গেছে, তারপরেও আমরা যেরকমটা হবে আশা করেছিলাম তা হয়নি, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য এখনো আমরা অর্জন করতে পারিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে মুক্তিযোদ্ধারা জীবনবাজি রেখেছে, রক্ত দিয়েছে, মা-বোনেরা রক্ত দিয়েছে, তাদের রক্তের সাথে বেঈমানি হয়ে যাবি, যদি না আমরা দেশকে সবার উপরে স্থান দিতে না পারি। দেশটা আমাদের, একে ভালো রাখার দায়িত্ব সবার।’
বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমান শহীদ বলেন, ‘৩০ লাখ শহীদ এবং ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমে অর্জিত এই দেশ, আমরা তাদেরকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। আমাদের যে ক্ষতি হয়েছিল তা জাতির ইতিহাসে স্মরণীয় স্মৃতি হয়েই থাকবে।’
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ঢাকার জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি আপনাদের আশ্বাস দিতে চাই যে, আপনারা যেকোনো বিষয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমরা নিশ্চিত করবো আপনাদের যেন যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা হয়। এটি আমাদের রেডলাইন, যা ক্রস হবে না।’
বিশ্লেষকগণ বলছেন, বিজয়ের দিনে বিচিত্র বিশেষ আয়োজনই পর্যাপ্ত নয়, বরং স্বাধীনতার প্রকৃত চেতনা ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন সামাজিক ন্যায় বিচার, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন।
মূল রিপোর্ট: আলীম আল রাজি
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 




















