দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক

বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে এক চুক্তি, চার সমঝোতা স্মারক সই

বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে এক চুক্তি, চার সমঝোতা স্মারক সই

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক রোববার দুপুরে শেষ হয়েছে। বৈঠক শেষে উভয় দেশের মধ্যে একটি চুক্তি, চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও একটি কর্মসূচি (প্রোগ্রাম) সই হয়েছে। বেলা পৌনে ১১টার দিকে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বৈঠকটি শুরু হয়েছিল।

এ বৈঠক শেষে দুদেশের মধ্যে যে চুক্তি ও সমঝোতাগুলো সই করা হয়:

 

ভিসা বিলোপ চুক্তি

দুই দেশের সরকারি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের ভিসা বিলোপ চুক্তি সই হয়েছে।

 

সমঝোতাসমূহ

সই হওয়া সমঝোতাগুলো- দুই দেশের বাণিজ্যবিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন।

দুই দেশের ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে সহযোগিতা।

দুই দেশের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার (বাসস ও এপিপিসি) মধ্যে সহযোগিতা।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) সঙ্গে পাকিস্তানের ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ইসলামাবাদের (আইএসএসআই) সহযোগিতা।

 

কর্মসূচি সই

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সংস্কৃতিবিনিময় কর্মসূচি (সিইপি) সই।

 

শনিবার দুই দিনের সফরে ঢাকা এসেছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার। আজ পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের সামনে আসেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, একাত্তরে গণহত্যার জন্য ক্ষমা চাওয়াসহ অমীমাংসিত বিষয় দুইবার সমাধান হয়েছে।

 

বৈঠকে ১৯৭১ এর অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে ইসহাক দার বলেন, অমীমাংসিত ইস্যু নিয়ে বলতে চাই, ১৯৭৪ সালে প্রথমবারের মতো একাত্তর ইস্যুর নিষ্পত্তি হয়েছে। ওই সময়ের দলিলটি দুই দেশের জন্য ঐতিহাসিক। এরপর জেনারেল পারভেজ মোশাররফ এখানে (বাংলাদেশে) এসে প্রকাশ্যে এবং খোলামনে বিষয়টির সমাধান করেছেন। ফলে বিষয়টির দুইবার সমাধান হয়েছে। একবার ১৯৭৪ এ, আরেকবার ২০০০ এর শুরুতে।

 

বৈঠকের পর ইসহাক দারের সফর উপলক্ষে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেছে সরকার। বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এরপর তিনি বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ে বেশ কয়েকটি বৈঠকের কথা রয়েছে।  ইসহাক দার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও  জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসায় দেখা করতে যাবেন। রোববার রাতে বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করবেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার জন্য পাকিস্তানের নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া, যুদ্ধের জন্য ক্ষতিপূরণ, বাংলাদেশে আটকে পড়া পাকিস্তানির প্রত্যাবাসন, সম্পদের হিস্যা, ১৯৭০ সালে অবিভক্ত পাকিস্তানের ঘূর্ণিঝড়ের সময় দেওয়া বৈদেশিক সহায়তার পাওনা পরিশোধের মতো বিষয়গুলোর সুরাহা করা জরুরি বলে মনে করে ঢাকা।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

প্লাস্টিক দূষণ রোধে বৈশ্বিক চুক্তির আলোচনা করতে নতুন নেতা নির্বাচিত  

দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক

বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে এক চুক্তি, চার সমঝোতা স্মারক সই

আপডেট সময় ০২:১৬:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক রোববার দুপুরে শেষ হয়েছে। বৈঠক শেষে উভয় দেশের মধ্যে একটি চুক্তি, চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও একটি কর্মসূচি (প্রোগ্রাম) সই হয়েছে। বেলা পৌনে ১১টার দিকে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বৈঠকটি শুরু হয়েছিল।

এ বৈঠক শেষে দুদেশের মধ্যে যে চুক্তি ও সমঝোতাগুলো সই করা হয়:

 

ভিসা বিলোপ চুক্তি

দুই দেশের সরকারি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের ভিসা বিলোপ চুক্তি সই হয়েছে।

 

সমঝোতাসমূহ

সই হওয়া সমঝোতাগুলো- দুই দেশের বাণিজ্যবিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন।

দুই দেশের ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে সহযোগিতা।

দুই দেশের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার (বাসস ও এপিপিসি) মধ্যে সহযোগিতা।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) সঙ্গে পাকিস্তানের ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ইসলামাবাদের (আইএসএসআই) সহযোগিতা।

 

কর্মসূচি সই

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সংস্কৃতিবিনিময় কর্মসূচি (সিইপি) সই।

 

শনিবার দুই দিনের সফরে ঢাকা এসেছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার। আজ পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের সামনে আসেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, একাত্তরে গণহত্যার জন্য ক্ষমা চাওয়াসহ অমীমাংসিত বিষয় দুইবার সমাধান হয়েছে।

 

বৈঠকে ১৯৭১ এর অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে ইসহাক দার বলেন, অমীমাংসিত ইস্যু নিয়ে বলতে চাই, ১৯৭৪ সালে প্রথমবারের মতো একাত্তর ইস্যুর নিষ্পত্তি হয়েছে। ওই সময়ের দলিলটি দুই দেশের জন্য ঐতিহাসিক। এরপর জেনারেল পারভেজ মোশাররফ এখানে (বাংলাদেশে) এসে প্রকাশ্যে এবং খোলামনে বিষয়টির সমাধান করেছেন। ফলে বিষয়টির দুইবার সমাধান হয়েছে। একবার ১৯৭৪ এ, আরেকবার ২০০০ এর শুরুতে।

 

বৈঠকের পর ইসহাক দারের সফর উপলক্ষে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেছে সরকার। বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এরপর তিনি বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ে বেশ কয়েকটি বৈঠকের কথা রয়েছে।  ইসহাক দার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও  জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসায় দেখা করতে যাবেন। রোববার রাতে বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করবেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার জন্য পাকিস্তানের নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া, যুদ্ধের জন্য ক্ষতিপূরণ, বাংলাদেশে আটকে পড়া পাকিস্তানির প্রত্যাবাসন, সম্পদের হিস্যা, ১৯৭০ সালে অবিভক্ত পাকিস্তানের ঘূর্ণিঝড়ের সময় দেওয়া বৈদেশিক সহায়তার পাওনা পরিশোধের মতো বিষয়গুলোর সুরাহা করা জরুরি বলে মনে করে ঢাকা।