সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার ভিডিও বার্তা Logo বৈধ অস্ত্র ৩১ জানুয়ারির মধ্যে থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশ Logo সিলেটে ট্রেনের ধাক্কায় মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়া হাতির অবস্থা আশঙ্কাজনক Logo সড়কজুড়ে অবৈধ বালুর ব্যবসা, হুমকির মুখে পরিবেশ Logo শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ Logo কেন ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ও অন্তর্বর্তী সরকার: প্রেস উইংয়ের ব্যাখ্যা Logo যে উপায়ে কাপড়ের কঠিন দাগ সহজে দূর করা যায় Logo ইরানে বিক্ষোভ-সহিংসতায় নিহত বেড়ে ৫ হাজার, ইসরায়েল-আমেরিকাকে দায়ী করলেন খামেনি Logo প্লাস্টিক বর্জ্য পুড়িয়ে ধান সেদ্ধ! বাতাসে, খাদ্যে, ফসলে বিষ Logo জুলাই যোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে পৃথক বিভাগ করার প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

বায়োফিলিয়া

  • আলম হোসেন
  • আপডেট সময় ০৫:০০:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 175

বায়োফিলিয়া

আমাদের এই যে সুবিস্তৃত সবুজের সমাহার,
যা দেখে আমাদের চোখ জুড়িয়ে যায়,
যা থেকে আমরা পাই আমাদের বেঁচে থাকার রশদ,
যা আমাদের অস্তিত্বকে এখনও টিকিয়ে রেখেছে,
তার মূলে রয়েছে আমাদের চারপাশের গাছগাছালি,
পাখ পাখালি, জীব জন্তু ও বিশাল জলাধার।

আমাদের এই যে পৃথিবী-
এর জল ও স্থলে অবস্থিত মানুষ ও অন‍্যান‍্য জীবন্ত সত্তা,
বিশেষ করে আমাদের প্রকৃতি ও প্রতিবেশ-
জুড়ে থাকা বিভিন্ন প্রাণী ও গাছপালার প্রতি,
এক সহজাত আকর্ষণ ও সংযোগের প্রবণতা,
আর “জীবের প্রতি ভালোবাসা” হচ্ছে বায়োফিলিয়া।

আমরা জানি কি?
জার্মান বিজ্ঞানী এরিক ফর্ম এই ধারণাটির প্রবর্তক,
আর এই ধারণার জনপ্রিয়তার কাজটি করেন,
আমেরিকান জীববিজ্ঞানী এডওয়ার্ড ও উইলসন।
এদের ধারণা মতে বায়োফিলিয়া হলো-
আমাদের প্রকৃতি ও মানুষের মধ‍্যে বিদ‍্যমান সম্পর্ক,
মানুষের প্রাকৃতিক পরিবেশের সান্নিধ্য খোঁজা,
যা আমাদেকে মানসিক ও শারীরিক প্রশান্তি দেয়।

এটি মানুষের একটি সহজাত প্রবণতা কিংবা জিনগত বৈশিষ্ট্য,
যা তাকে প্রকৃতির সাথে যুক্ত থাকতে,
প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রতি ভালোবাসার অনুভূতি সৃষ্টি করে।

আমার ছেলেবেলা কাটে গ্রামের পরিবেশে,
যেখানকার প্রকৃতি ও প্রতিবেশ জুড়ে শুধু সবুজ আর সবুজ।
সেখানকার গাছপালা ও সবুজ প্রকৃতি- আমাকে সর্বক্ষণ মুগ্ধ করে রাখে।

তখন থেকেই আমি আমার হৃদয়ে প্রকৃতির প্রতি-
এক ধরণের বিশেষ টান অনুভব করি।
তাদের সাথে আমার এক ধরণের বন্ধুত্ব তৈরি হয়,
তাদের সেবা যত্নে আমার দিন কেটে যায়,
তাদের সুন্দর ভাবে বেড়ে ওঠায় পাই এক গভীর প্রশান্তি।
তাদের যে কোনো ক্ষতিতে-
আমি হৃদয়ে গভীর ব‍্যাথা অনুভব করি।
বাড়ির আশে পাশে তাদের পরশ আমাকে স্বতঃস্ফূর্ত করে রাখে।

প্রকৃতির প্রতি মানুষের এই যে গভীর টান,
প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকা,
তার কোনো ক্ষতি হতে না দেয়া,
যে কোনো ক্ষতির হাত থেকে প্রকৃতি ও প্রতিবেশ রক্ষা করা,
বিনা প্রয়োজনে গাছ না কাটা,
বেশি বেশি করে গাছ লাগানো,
নগরায়ন থেকে বের হয়ে-
প্রকৃতির কাছে ফিরে যাওয়ায়ই হচ্ছে বায়োফিলিয়া।

বায়োফিলিয়া আমাদেরকে প্রকৃতির গাছ, পাখি, নদ-নদীর,
সংস্পর্শে অনাবিল আনন্দ দেয়,
প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার প্রতি-
এক গভীর ভালোবাসা ও মায়ার জন্ম দেয়।
আমরা আমাদের স্থাপত‍্যে প্রকৃতির যে উপাদান-
দিনের আলো, গাছপালা, প্রাকৃতিক জলধারা,
কিংবা প্রাকৃতিক উপাদানের ব‍্যবহার,
পার্কে হাঁটা, গাছের নিচে বসে থাকা,
বাড়ির ভেতরে গাছ লাগানো,
একটি অফিস বা বাড়িতে বড় জানালা দিয়ে প্রাকৃতিক দৃশ‍্য দেখা,
সৌন্দর্য বর্ধনে ইনডোর প্লান্ট ব‍্যবহার করা,
এ সবই বায়োফিলিয়ার অংশ।

আজো বায়োফিলিয়া আমাকে শিকড়ের দিকে টানে,
তবে জীবন জীবিকার তাগিদে আমার তা হয়ে উঠে না।
আমরা যদি সকলে বায়োফিলিয়া দ্বারা প্রভাবিত হই,
আবার প্রকৃতির কাছে ফিরে যাই,
আমাদের দায়বদ্ধতা থেকে প্রকৃতি রক্ষায় এগিয়ে আসি,
তবে একটি সুস্থ‍্য, সুন্দর, বাসযোগ‍্য পৃথিবী গড়তে পারবো।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার ভিডিও বার্তা

বায়োফিলিয়া

আপডেট সময় ০৫:০০:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

আমাদের এই যে সুবিস্তৃত সবুজের সমাহার,
যা দেখে আমাদের চোখ জুড়িয়ে যায়,
যা থেকে আমরা পাই আমাদের বেঁচে থাকার রশদ,
যা আমাদের অস্তিত্বকে এখনও টিকিয়ে রেখেছে,
তার মূলে রয়েছে আমাদের চারপাশের গাছগাছালি,
পাখ পাখালি, জীব জন্তু ও বিশাল জলাধার।

আমাদের এই যে পৃথিবী-
এর জল ও স্থলে অবস্থিত মানুষ ও অন‍্যান‍্য জীবন্ত সত্তা,
বিশেষ করে আমাদের প্রকৃতি ও প্রতিবেশ-
জুড়ে থাকা বিভিন্ন প্রাণী ও গাছপালার প্রতি,
এক সহজাত আকর্ষণ ও সংযোগের প্রবণতা,
আর “জীবের প্রতি ভালোবাসা” হচ্ছে বায়োফিলিয়া।

আমরা জানি কি?
জার্মান বিজ্ঞানী এরিক ফর্ম এই ধারণাটির প্রবর্তক,
আর এই ধারণার জনপ্রিয়তার কাজটি করেন,
আমেরিকান জীববিজ্ঞানী এডওয়ার্ড ও উইলসন।
এদের ধারণা মতে বায়োফিলিয়া হলো-
আমাদের প্রকৃতি ও মানুষের মধ‍্যে বিদ‍্যমান সম্পর্ক,
মানুষের প্রাকৃতিক পরিবেশের সান্নিধ্য খোঁজা,
যা আমাদেকে মানসিক ও শারীরিক প্রশান্তি দেয়।

এটি মানুষের একটি সহজাত প্রবণতা কিংবা জিনগত বৈশিষ্ট্য,
যা তাকে প্রকৃতির সাথে যুক্ত থাকতে,
প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রতি ভালোবাসার অনুভূতি সৃষ্টি করে।

আমার ছেলেবেলা কাটে গ্রামের পরিবেশে,
যেখানকার প্রকৃতি ও প্রতিবেশ জুড়ে শুধু সবুজ আর সবুজ।
সেখানকার গাছপালা ও সবুজ প্রকৃতি- আমাকে সর্বক্ষণ মুগ্ধ করে রাখে।

তখন থেকেই আমি আমার হৃদয়ে প্রকৃতির প্রতি-
এক ধরণের বিশেষ টান অনুভব করি।
তাদের সাথে আমার এক ধরণের বন্ধুত্ব তৈরি হয়,
তাদের সেবা যত্নে আমার দিন কেটে যায়,
তাদের সুন্দর ভাবে বেড়ে ওঠায় পাই এক গভীর প্রশান্তি।
তাদের যে কোনো ক্ষতিতে-
আমি হৃদয়ে গভীর ব‍্যাথা অনুভব করি।
বাড়ির আশে পাশে তাদের পরশ আমাকে স্বতঃস্ফূর্ত করে রাখে।

প্রকৃতির প্রতি মানুষের এই যে গভীর টান,
প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকা,
তার কোনো ক্ষতি হতে না দেয়া,
যে কোনো ক্ষতির হাত থেকে প্রকৃতি ও প্রতিবেশ রক্ষা করা,
বিনা প্রয়োজনে গাছ না কাটা,
বেশি বেশি করে গাছ লাগানো,
নগরায়ন থেকে বের হয়ে-
প্রকৃতির কাছে ফিরে যাওয়ায়ই হচ্ছে বায়োফিলিয়া।

বায়োফিলিয়া আমাদেরকে প্রকৃতির গাছ, পাখি, নদ-নদীর,
সংস্পর্শে অনাবিল আনন্দ দেয়,
প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার প্রতি-
এক গভীর ভালোবাসা ও মায়ার জন্ম দেয়।
আমরা আমাদের স্থাপত‍্যে প্রকৃতির যে উপাদান-
দিনের আলো, গাছপালা, প্রাকৃতিক জলধারা,
কিংবা প্রাকৃতিক উপাদানের ব‍্যবহার,
পার্কে হাঁটা, গাছের নিচে বসে থাকা,
বাড়ির ভেতরে গাছ লাগানো,
একটি অফিস বা বাড়িতে বড় জানালা দিয়ে প্রাকৃতিক দৃশ‍্য দেখা,
সৌন্দর্য বর্ধনে ইনডোর প্লান্ট ব‍্যবহার করা,
এ সবই বায়োফিলিয়ার অংশ।

আজো বায়োফিলিয়া আমাকে শিকড়ের দিকে টানে,
তবে জীবন জীবিকার তাগিদে আমার তা হয়ে উঠে না।
আমরা যদি সকলে বায়োফিলিয়া দ্বারা প্রভাবিত হই,
আবার প্রকৃতির কাছে ফিরে যাই,
আমাদের দায়বদ্ধতা থেকে প্রকৃতি রক্ষায় এগিয়ে আসি,
তবে একটি সুস্থ‍্য, সুন্দর, বাসযোগ‍্য পৃথিবী গড়তে পারবো।