আজ ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। বিজয় দিবসে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণে প্রতিবছরই চ্যানেল আইয়ের ‘চেতনা চত্বরে’ বসে লাল-সবুজের মেলা। তার ব্যতিক্রম হয়নি এবারও । মহান মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহীদ-বীরাঙ্গনাদের স্মরণ এবং জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বরণ করতে এবারের আয়োজনের শিরোনাম ছিল ‘হৃদয়ে লাল সবুজ, বিজয় দিবস ২০২৫’। এই আয়োজনে দশ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে আজীবন সম্মাননা জানিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইমপ্রেস গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় শান্তির প্রতীক পায়রা এবং রঙিন বেলুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইমপ্রেস গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান প্রকৃতিবন্ধু মুকিত মজুমদার বাবু দশ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকার চেক তুলে দেন। এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরীয় পরিয়ে ও ক্রেস্ট প্রদানের মাধ্যমে সম্মাননা জানানো হয়।

আজীবন সম্মাননা প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধারা হলেন : মানিকগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা শারফুদ্দিন আহমেদ (নুরু), বরগুনা জেলার সদর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আঃ কাদের, ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ বজলুর রহমান, গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল মান্নান হান্নান, জামালপুর জেলার সদর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল করিম, কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নুরুল ইসলাম, নওগাঁ জেলার সদর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আল আমিন (আব্দুল আমিন), শরিয়তপুর জেলার সদর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব হোসেন চোকদার, শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ কটা সেক ও রাঙ্গামাটি জেলার সদর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা চিত্তরঞ্জন দাশ।

মুকিত মজুমদার বাবু ও চ্যানেল আই এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আজীবন সম্মাননাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রেখে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। যুদ্ধে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে দেশ স্বাধীন করেছি। আজকে এখানে সম্মানিত হয়ে নিজেদের ধন্য মনে হচ্ছে। এই সম্মাননা আমাদের ত্যাগ ও সংগ্রামের স্বীকৃতি। মুকিত মজুমদার বাবুর প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইতিহাস নতুন প্রজন্মের মাঝে তুলে ধরতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা জানিয়ে মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল এই মাটির জন্য, এই দেশের জন্য, আমাদের অধিকারের জন্য। ১৯৭১ সালে ত্রিশ লাখ মানুষের প্রাণ, লাখো মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বহুকষ্টে আমরা বাংলার স্বাধীনতা পেয়েছি। এখন ৫৪ বছর আগে পাওয়া এই স্বাধীনতাকে ধরে রাখার সংগ্রাম, এগিয়ে যাওয়ার সংগ্রাম।’ বাংলাদেশের জন্য যারা আত্মত্যাগ করেছেন, যে মুক্তিযোদ্ধারা দেশের জন্য লড়েছেন, যে নারীরা নির্যাতিত হয়েছেন তাদের কথা যদি আমরা ভুলে যাই তাহলে তাদের রক্তের সাথে বেঈমানি করা হবে। একাত্তরকে ফেলে দিয়ে কোনো কিছুই এগুতে পারে না। একাত্তর আমাদের মূল চেতনা, একাত্তর আমাদের সবকিছুর উর্ধে। এই একাত্তরকে ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। আসুন আমরা বাংলাদেশকে সবকিছুর উর্ধে রাখি।’
বীর মুক্তিযোদ্ধা মুকিত মজুমদার বাবু জানান, তাঁর মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ও ব্যক্তিগত তহবিল থেকে প্রতি বছরই বিজয় দিবসে (১৬ ডিসেম্বর) দশ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ৫০ হাজার টাকা সম্মাননা ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
বিজয় দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠানে দেশবরেণ্য কবি-সাহিত্যিক, লেখকসহ দেশের বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ ও নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ এসেছিলেন চ্যানেল আইয়ের ‘চেতনা চত্বরে। পুরো আয়োজন সরাসরি সম্প্রচারিত হয়েছে চ্যানেল আইতে।
জোবায়ের আহমেদ 




















