১৯০০ সাল থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে ভূমিকম্পের রেকর্ড রাখা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। সেই রেকর্ড বলছে, বুধবার বিশ্বের ষষ্ঠ শক্তিশালী ভূমিকম্পের শিকার হয়েছে রাশিয়া।
রাশিয়ার দূর প্রাচ্যের কামচাটকা উপদ্বীপের উপকূলে উৎপত্তি হওয়া ৮ দশমিক ৮ মাত্রার প্রবল শক্তিশালী ভূমিকম্পটি রেকর্ডকৃত ইতিহাসের সবচেয়ে তীব্রতম দশটি ভূমিকম্পের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-পদার্থবিজ্ঞান ও টেকটোনিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হেলেন ইয়েনেশাভস্কি বিবিসিকে এমনটি জানিয়েছেন।
তিনি জানান, এটি ২০১০ সালে চিলির বিওবিওতে হওয়া ভূমিকম্প এবং ১৯০৬ সালে একুয়েডরের এস্মেরালদাসে হওয়া ভূমিকম্পের পাশাপাশি রেকর্ডকৃত ইতিহাসের ষষ্ঠ তীব্রতম ভূমিকম্প।
আজ বুধবার রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় কামচাটকা উপদ্বীপে ৮ দশমিক ৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্প এবং তারপর ৬ দশমিক ৯ এবং ৬ দশমিক ৩ মাত্রার দু’টি ‘আফটার শক’ হয়। ভূমিকম্পটির এপিসেন্টার বা উৎপত্তিস্থল কামচাটকার পেত্রোপাভলোভস্ক-কামচাটস্কি শহর থেকে ১১৯ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে ভূপৃষ্ঠের ১৯ দশমিক ৩ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পের পর পরই সুনামি আঘাত হেনেছে রাশিয়ার কুড়িল, জাপানের হোক্কাইডোতে। বেশ কয়েকটি দেশে জারি করা হয়েছে উচ্চ সতর্কতা।

এক বিবৃতিতে ইউএসজিএস জানিয়েছে, শক্তি ও ধ্বংসক্ষমতার বিবেচনায় কামচাটকার এই ভূমিকম্প বিশ্বের ইতিহাসে ষষ্ঠ। এর আগে ২০১০ সালে চিলিতে এবং ১৯০৬ সালে ইকুয়েডরে এই মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছিল, চিলির ওই ভূমিকম্পটি কুইরিহুয়ে শহরের উপকূলে হয়েছিল। এই প্রবল শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৫২৩ জন নিহত ও তিন লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়েছিল।
আর একুয়েডরের ভূমিকম্পটিকে তখন ‘একুয়েডর-কলম্বিয়া ভূমিকম্প’ হিসেবে উল্লেখ করে ইউএসজিএস জানিয়েছিল, এই ভূমিকম্পের পরে শক্তিশালী সুনামি আঘাত হেনেছিল আর তাতে ১৫০০ মানুষ মারা পড়েছিল। ওই সুনামির ঢেউ অনেক উত্তরে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলের স্যান ফ্রান্সিসকো শহরেও আঘাত হেনেছিল।
পঞ্চম তীব্রতম ভূমিকম্পটিও হয়েছিল রাশিয়ার এই কামচাটকা উপদ্বীপের ক্রাই এলাকায়। ১৯৫২ সালে হওয়া এই ভূমিকম্পটি ছিল ‘বিশ্বের প্রথম রেকর্ডকৃত ৯ মাত্রার ভূমিকম্প’।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 




















