সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সাকার ফিশের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধে’ নেমেছে সেনাবাহিনী! Logo হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু Logo চলতি মাসে ২-৩ টি তীব্র কালবৈশাখী হতে পারে, রয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা Logo পদ্মা ব্যারেজ: ইলিশের ভাল-মন্দ Logo ২৭তম বিসিএসের বঞ্চিত আরও ৯৬ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন Logo ঈদযাত্রার ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু Logo পরিবেশ দূষণকারীদের ‘মানুষরূপী চতুষ্পদ প্রাণী’ বললেন গাজীপুরের ডিসি   Logo লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় সরকারের নিন্দা Logo শতবর্ষে প্রকৃতির কণ্ঠস্বর: স্যার ডেভিড অ্যাটেনবরো, জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ুর এক অনন্য যোদ্ধা Logo মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানকে বিধ্বস্ত করেছে বাংলাদেশ

বৃষ্টির পরেও দূষিত বায়ুতে বিশ্বে এক নম্বর ঢাকা! কারণ কী?

বৃষ্টির পরেও দূষিত বায়ুতে বিশ্বে এক নম্বর ঢাকা! কারণ কী?

ঢাকায় কয়েক দিন ধরে যথেষ্ট বৃষ্টি হচ্ছে। তবু আজ ৩ মে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক অনলাইন বায়ুমান প্রকাশ করা প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের সূচক তালিকায় সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহর ঢাকা। বৃষ্টির পরেও ঢাকার এই বায়ুমান কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে কয়েকটি কারণ বলা যেতে পারে।

৩ মে, ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারী বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির পরেও ঢাকা বিশ্বের অন্যতম দূষিত বাতাসের শহর (কখনো ১ম, কখনো ৪র্থ) হিসেবে তালিকায় থাকার পেছনে মূলত স্থায়ী স্থানীয় দূষণ উৎস, নির্মাণ কাজ এবং বর্জ্য পোড়ানো প্রধান কারণ।

বৃষ্টি সাময়িকভাবে ধুলাবালি কমিয়ে দিলেও, ঢাকার দূষণের মূল উৎসগুলো এতো তীব্র যে বৃষ্টির পর বাতাস পুরোপুরি পরিষ্কার হতে পারছে না।

বৃষ্টির পরেও ঢাকা দূষিত থাকার প্রধান কারণগুলো:

বিরামহীন নির্মাণ ও ভাঙাচোরা রাস্তা: ঢাকা শহরের প্রায় প্রতিটি এলাকায় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি এবং মেগাপ্রকল্পের কাজ চলছে, যা প্রচুর পরিমাণে ধূলিকণা তৈরি করে। বৃষ্টি থামার পরপরই এই কাদামাটি শুকিয়ে পুনরায় সূক্ষ্ম ধূলিকণায় (PM2.5) পরিণত হয়ে বাতাসে মিশছে।

বর্জ্য ও প্লাস্টিক পোড়ানো: শহরের বিভিন্ন স্থানে (যেমন- মাতুয়াইল ডাম্পিং স্টেশন বা খোলা জায়গায়) প্রতিদিন যে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ও প্লাস্টিক পোড়ানো হয়, তা থেকে সৃষ্ট বিষাক্ত ধোঁয়া বৃষ্টির ফোঁটায় পুরোপুরি ধুয়ে যায় না। এটি বাতাসের মানকে মারাত্মকভাবে অস্বাস্থ্যকর করে রাখে।

পুরানো ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের ধোঁয়া: ঢাকা শহরে চলাচলকারী হাজার হাজার পুরানো গাড়ি ও ভারী যানবাহন থেকে কালো ধোঁয়া (কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড) অনবরত নির্গত হচ্ছে, যা দূষণের অন্যতম প্রধান উৎস।

ইটভাটার ধোঁয়া (শীতকালীন প্রভাবের রেশ): যদিও বর্ষা মৌসুমে ইটভাটা বন্ধ থাকে, কিন্তু এর আগের মাসগুলোতে নির্গত দূষকগুলো (ফাইন পার্টিকুলেট ম্যাটার) মাটির কণা এবং ভবনের গায়ে লেগে থাকে, যা পরে বাতাসে ফিরে আসে।

অকার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: শহরের বর্জ্য সময়মতো পরিষ্কার না করায় সেগুলো বাতাসে উড়ে বা শুকিয়ে দূষণ বাড়ায়।

ট্র্যাপড পলুট্যান্টস বা আটকা পড়া দূষণ: অনেক সময় হালকা বৃষ্টির পর বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যায়, যা ভারী ধূলিকণা বা ধোঁয়াকে ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি ধরে রাখে । একে ‘টেম্পারেচার ইনভার্সন’ বলা হয়, যার ফলে দূষিত বাতাস উপরে উঠতে পারে না ।

সীমান্ত ছাড়ানো দূষণ (Transboundary Pollution): গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার বায়ুদূষণের প্রায় ২৫% আসে দেশের বাইরে থেকে । স্থানীয়ভাবে বৃষ্টি হলেও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে বায়ুপ্রবাহের মাধ্যমে দূষণ পুনরায় শহরে প্রবেশ করতে পারে।

আজ আইকিউএয়ারের বায়ুমান মানচিত্রও বলছে কেবল ঢাকা নয় চীন থেকে শুরু করে ভারত, পাকিস্তান, মিসর, আলজেরিয়া পর্যন্ত দূষিত বায়ু বিস্তৃত।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

সাকার ফিশের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধে’ নেমেছে সেনাবাহিনী!

বৃষ্টির পরেও দূষিত বায়ুতে বিশ্বে এক নম্বর ঢাকা! কারণ কী?

আপডেট সময় ০১:৩৯:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

ঢাকায় কয়েক দিন ধরে যথেষ্ট বৃষ্টি হচ্ছে। তবু আজ ৩ মে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক অনলাইন বায়ুমান প্রকাশ করা প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের সূচক তালিকায় সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহর ঢাকা। বৃষ্টির পরেও ঢাকার এই বায়ুমান কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে কয়েকটি কারণ বলা যেতে পারে।

৩ মে, ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারী বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির পরেও ঢাকা বিশ্বের অন্যতম দূষিত বাতাসের শহর (কখনো ১ম, কখনো ৪র্থ) হিসেবে তালিকায় থাকার পেছনে মূলত স্থায়ী স্থানীয় দূষণ উৎস, নির্মাণ কাজ এবং বর্জ্য পোড়ানো প্রধান কারণ।

বৃষ্টি সাময়িকভাবে ধুলাবালি কমিয়ে দিলেও, ঢাকার দূষণের মূল উৎসগুলো এতো তীব্র যে বৃষ্টির পর বাতাস পুরোপুরি পরিষ্কার হতে পারছে না।

বৃষ্টির পরেও ঢাকা দূষিত থাকার প্রধান কারণগুলো:

বিরামহীন নির্মাণ ও ভাঙাচোরা রাস্তা: ঢাকা শহরের প্রায় প্রতিটি এলাকায় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি এবং মেগাপ্রকল্পের কাজ চলছে, যা প্রচুর পরিমাণে ধূলিকণা তৈরি করে। বৃষ্টি থামার পরপরই এই কাদামাটি শুকিয়ে পুনরায় সূক্ষ্ম ধূলিকণায় (PM2.5) পরিণত হয়ে বাতাসে মিশছে।

বর্জ্য ও প্লাস্টিক পোড়ানো: শহরের বিভিন্ন স্থানে (যেমন- মাতুয়াইল ডাম্পিং স্টেশন বা খোলা জায়গায়) প্রতিদিন যে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ও প্লাস্টিক পোড়ানো হয়, তা থেকে সৃষ্ট বিষাক্ত ধোঁয়া বৃষ্টির ফোঁটায় পুরোপুরি ধুয়ে যায় না। এটি বাতাসের মানকে মারাত্মকভাবে অস্বাস্থ্যকর করে রাখে।

পুরানো ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের ধোঁয়া: ঢাকা শহরে চলাচলকারী হাজার হাজার পুরানো গাড়ি ও ভারী যানবাহন থেকে কালো ধোঁয়া (কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড) অনবরত নির্গত হচ্ছে, যা দূষণের অন্যতম প্রধান উৎস।

ইটভাটার ধোঁয়া (শীতকালীন প্রভাবের রেশ): যদিও বর্ষা মৌসুমে ইটভাটা বন্ধ থাকে, কিন্তু এর আগের মাসগুলোতে নির্গত দূষকগুলো (ফাইন পার্টিকুলেট ম্যাটার) মাটির কণা এবং ভবনের গায়ে লেগে থাকে, যা পরে বাতাসে ফিরে আসে।

অকার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: শহরের বর্জ্য সময়মতো পরিষ্কার না করায় সেগুলো বাতাসে উড়ে বা শুকিয়ে দূষণ বাড়ায়।

ট্র্যাপড পলুট্যান্টস বা আটকা পড়া দূষণ: অনেক সময় হালকা বৃষ্টির পর বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যায়, যা ভারী ধূলিকণা বা ধোঁয়াকে ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি ধরে রাখে । একে ‘টেম্পারেচার ইনভার্সন’ বলা হয়, যার ফলে দূষিত বাতাস উপরে উঠতে পারে না ।

সীমান্ত ছাড়ানো দূষণ (Transboundary Pollution): গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার বায়ুদূষণের প্রায় ২৫% আসে দেশের বাইরে থেকে । স্থানীয়ভাবে বৃষ্টি হলেও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে বায়ুপ্রবাহের মাধ্যমে দূষণ পুনরায় শহরে প্রবেশ করতে পারে।

আজ আইকিউএয়ারের বায়ুমান মানচিত্রও বলছে কেবল ঢাকা নয় চীন থেকে শুরু করে ভারত, পাকিস্তান, মিসর, আলজেরিয়া পর্যন্ত দূষিত বায়ু বিস্তৃত।