ভারতের রাজধানী দিল্লি ও এনসিআর অঞ্চলে সব বেওয়ারিশ কুকুর অপসারণে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশনার তীব্র সমালোচনা করেছেন ভারতের কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।
আজ ১২ আগস্ট মঙ্গলবার তিনি এক ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, এই পদক্ষেপ মানবিকতা ও বৈজ্ঞানিক নীতির প্রতি একটি বড় পশ্চাৎপদতা। বেওয়ারিশ কুকুর এমন কোনো সমস্যা নয়, যাদের মুছে ফেলতে হবে।
রাহুল গান্ধীর মতে, এরা নির্বাক প্রাণী-যাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব আছে। আশ্রয়কেন্দ্র, নিবীর্যকরণ, টিকাদান ও কমিউনিটি কেয়ার-এই পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে নিষ্ঠুরতা ছাড়া রাস্তা নিরাপদ রাখা যায়।
রাহুল গান্ধী কড়া ভাষায় বলেন, সব কুকুর অপসারণের সিদ্ধান্ত নিষ্ঠুর, অদূরদর্শী এবং সহানুভূতির অভাব প্রকাশ করে। জননিরাপত্তা এবং প্রাণীর কল্যাণ একসঙ্গে নিশ্চিত করা সম্ভব-একটিকে বেছে নিতে গিয়ে অন্যটিকে অবহেলা করা উচিত নয়।
সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্ট দিল্লি-এনসিআর এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ে বর্ধিত অভিযোগ ও মানুষের নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে সব কুকুর অপসারণের নির্দেশ দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রাণী অধিকারকর্মী ও মানবিক সমাজের বিভিন্ন স্তরে প্রতিবাদ দেখা যায়।
কেবল রাহুল গান্ধী নন, বিজেপি নেত্রী ও রাহুলের চাচী মেনকা গান্ধীও কুকুর অপসারণ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। পশুপ্রেমী ও পশুঅধিকারকর্মী বলে পরিচিত মেনকা কেন্দ্রীয় শাসকদল বিজেপির নেত্রী হয়েও এই নির্দেশকে খুবই আশ্চর্যজনক বলেছেন।
তাঁর মতে, কুকুরের উপর প্রবল রাগ আছে, এমন কেউই একথা বলতে পারেন। ফলে রাগ থেকে আসা সিদ্ধান্তের কোনও গভীর আবেগ থাকে না। তিনি আরও জানান, দিল্লিতে সরকার পরিচালিত কোনও কুকুরের খোঁয়াড় নেই। এখন ৩ লক্ষ পথকুকুরকে আশ্রয় দেওয়ার মতো কতগুলো খোঁয়াড় তৈরি করতে হবে, প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মেনকা হিসাব দিয়ে বলেন, এ ধরনের খোঁয়াড় তৈরি করতে শহরের বাইরে ৩০০০ জায়গা লাগবে এবং শেল্টার বানাতে খরচ পড়বে আনুমানিক ১৫ হাজার কোটি টাকা। এত জায়গা পাওয়া যাবে কোথা থেকে, টাকাই বা কোথা থেকে আসবে! এছাড়াও মেনকা বলেছেন, পথকুকুরকে রাস্তা থেকে তুলতে অন্তত দেড় লক্ষ কর্মী নিয়োগ করতে হবে। আর যে গলিতেই তাঁরা যাবেন, সেখানে কুকুর ধরা নিয়ে পৌরসভার সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ বেঁধে যেতে পারে। আপনারা কী শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করতে চান, প্রশ্ন মেনকার।
উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার পথকুকুর নিয়ে কড়া নির্দেশনা দেয় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। দিল্লি ও ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিওনের (এনসিআর) পৌরসভাকে রাস্তার সমস্ত কুকুরকে ধরার নির্দেশ দেয়। শুধু তাই নয়, এই সব কুকুরকে নির্বীজকরণ করে স্থায়ীভাবে তাদের খোঁয়াড়ে পাঠানোর আদেশও দেয়া হয়েছে। কঠোরভাবে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, এই নির্দেশের যেন অন্যথা না হয় এবং যথাযথভাবে পালন করা হয়। সর্বোচ্চ আদালত পশুপ্রেমীদের সতর্ক করে দিয়ে আরও বলেছে, যদি কোনও ব্যক্তি বা সংগঠন এই কাজে বাধা দেয়, তাহলে তার বা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 


















