ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় এক বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে,বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে, নিখোঁজ হয়েছে অনেকে।
বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় প্রধান সড়কগুলোতে ধস নেমে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম ও প্রশাসনের বরাতে বুধবার জানানো হয়, উত্তরকাশী জেলার ধারালী গ্রামে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।

এই গ্রামটি গঙ্গোত্রীর পথে একটি জনপ্রিয় পর্যটনস্থল হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়রা জানান, মেঘভাঙা বৃষ্টি হয়েছে ক্ষীর গঙ্গা নদীর উজানে। সেখান থেকে মুহূর্তেই বিপুল পরিমাণ পানির ধ্বংসাত্মক ধারা নেমে এসে বিপর্যয় ঘটায়।
ধারালী থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে হর্ষিল সেনাবাহিনীর একটি ক্যাম্পে পাহাড় থেকে নেমে আসা হড়কা বানের ধাক্কায় ৯ সেনা নিখোঁজ হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কী কারণে এমন বিপর্যয়, মেঘবিস্ফোরণ অথবা মেঘভাঙা বৃষ্টি কী?
পাহাড় থেকে ক্ষীরগঙ্গা ধরে নেমে আসা হড়পা বানের পথে বাঁক থাকায় সেটি বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে হড়পা বানের গতিপথ বদলে যায়। ভাগীরথীর ধারে রয়েছে হর্ষিল হেলিপ্যাড, সেনা ছাউনি, ধারালী গ্রাম, কল্প কেদার মন্দির। হড়পা বানে সেনা ছাউনি, হেলিপ্যাড, ধারালী গ্রাম প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।
ধারালী ট্র্যাজেডির জন্য অনেকে মেঘবিস্ফোরণ অথবা মেঘভাঙা বৃষ্টিকে দায়ী করছে। কোনো ছোট এলাকায় (এক থেকে ১০ কিলোমিটার বিস্তৃত) এক ঘণ্টায় ১০ সেন্টিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টিপাত হলে সেই ঘটনাকে ক্লাউডবার্স্ট বা মেঘবিস্ফোরণ অথবা মেঘভাঙা বলে চিহ্নিত করা হয়। ক্লাউডবার্স্ট-এর কারণে অতিভারী বৃষ্টি দেখা যায়। তবে এর সঙ্গে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পার্থক্য আছে।

একটা ছোট্ট এলাকায় মেঘ হঠাৎ ঘনীভূত হওয়ার কারণে বৃষ্টি দেখা দেয়। এর তীব্রতা এবং প্রভাব স্বাভাবিক অবস্থায় ভারী বা অতিভারী বৃষ্টির চাইতে অনেক বেশি, ক্ষতি করার শক্তিও বেশি।
স্যাটেলাইট চিত্র এবং আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, মেঘ ভাঙা বৃষ্টি নয় বরং হিমবাহ ধস অথবা গ্লেসিয়ার লেকে বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ হড়পা বানের এবং সেটা থেকেই পরিস্থিতি এমন ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
এদিকে ভারী বৃষ্টি ছাড়াও ঘনঘন বজ্রপাত, ধস ও বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে উত্তরাখণ্ডের একাধিক জেলায়।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 




















