সংবাদ শিরোনাম ::
Logo পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন তাহসান খান Logo এবার মুস্তাফিজকে নিয়ে মুখ খুললেন সাকিব আল হাসান Logo বাঘ-হাতি হত্যা করলে ৭ বছর জেল, ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অন্যান্য প্রাণী শিকারেও দ্বিগুণ শাস্তি Logo নির্বাচনে ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা Logo হাইড্রোজেন ওয়াটার যে উপকারে আসে Logo ট্রাম্পের সামরিক বৈঠক, ইরানও প্রস্তুত! দুই দেশ কি তবে শিগগিরই যুদ্ধে জড়াচ্ছে? Logo তাহসান-রোজার বিচ্ছেদ নিয়ে পাওয়া গেল চাঞ্চল্যকর তথ্য Logo এবার স্পন্সরশিপ হারাচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেট Logo মাত্র ২ চিকিৎসক দিয়ে দেশের সব বন্যপ্রাণীর চিকিৎসা! Logo মুহাম্মদ মনির হোসেন সম্পাদিত ‘নদীকাহন’ গ্রন্থের পাঠ উন্মোচন
পরিবেশ বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের হুঁশিয়ারি

ভারতের মানচিত্র থেকে মুছে যাবে হিমাচল!

ভারতের মানচিত্র থেকে মুছে যাবে হিমাচল!

ভারতের  হিমাচল প্রদেশের পরিবেশগত সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। ভারী বর্ষণ, ভূমিধস ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাজ্যটির টেকসই ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে— এখনই পদক্ষেপ না নিলে মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যেতে পারে হিমাচল।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ জুলাই ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জে বি পার্দিওয়ালা ও বিচারপতি আর মাধবনের বেঞ্চ হিমাচলের পরিবেশগত অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

 

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার ওপর জোর দিয়ে তাঁরা বলেন, ‘হিমাচল রাজ্যের পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ থেকে মারাত্মক হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ছে রাজ্যটি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তীব্র পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা। যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে মানচিত্র থেকে হিমাচল প্রদেশের চিরতরে মুছে যাওয়ার দিন খুব বেশি দূরে নয়।’

গত বছর রাজ্যের বেশ কিছু এলাকাকে ‘সংরক্ষিত সবুজ এলাকা’ ঘোষণা করে সেসব অঞ্চলে গাছ কাটা, পাহাড় কাটা এবং প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন হিমাচল হাইকোর্ট। কিছুদিন আগে হাইকোর্টের সেই নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করে পিটিশন দায়ের করা হয়। সেই পিটিশনের শুনানি ছিল গেল ২৮ জুলাই।

 

শুনানির শুরুর পর বিচারপতি জে বি পার্দিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মাধবনের বেঞ্চ জানান, তাঁরা হিমাচল হাইকোর্টের আদেশে হস্তক্ষেপ করতে ইচ্ছুক নন। সেই সঙ্গে রাজ্যের কোন কোন জায়গায় নির্মাণ কাজ করা যাবে এবং কোন এলাকা থেকে কী কী প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ করা যাবে– এ সম্পর্কিত একটি সুস্পষ্ট নির্দেশনার পক্ষপাতী বলে উল্লেখ করা হয়।

 

বিচারপতিরা বলেন, এই অবস্থার জন্য প্রকৃতি নয়, মানুষই দায়ী। মানুষ প্রকৃতিকে রক্ষা করতে পারেনি। অত্যাচার চালিয়ে গেছে। লাগামছাড়া উন্নয়নের পথে হেঁটেছে, চার লেনের রাস্তা তৈরি হয়েছে। পাহাড়ে সুড়ঙ্গ তৈরি হয়েছে। বসতি স্থাপন বেড়েউ চলেছে। ভূতত্ত্ববিদ, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, স্থানীয় মানুষ কারও মতামত নেওয়া হয়নি। পরিবেশকে গুরুত্ব না দিয়ে অনিয়ন্ত্রিত পর্যটকের আগমন রাজ্যকে ভয়ানক ক্ষতির মুখে ফেলছে।

বিচারপতিদের বেঞ্চ জানান, ইচ্ছেমতো গাছ কাটা ও লাগামছাড়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি বন্ধ করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় নির্মাণকাজও নিয়ন্ত্রণ জরুরি। পর্যটক আগমনও কমানো দরকার। এখনই সতর্ক না হলে মানচিত্র থেকে হিমাচল প্রদেশেই একদিন মুছে যাবে।

 

সতর্কবার্তা দিয়ে আদালত আরও বলে, ‘পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস করে রাজস্ব আয় করা কখনও যুক্তিসঙ্গত হতে পারে না। যদি এমন নীতি চলতে থাকে, তাহলে হিমাচল একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে। আমরা চাই না, এমন দিন দেখতে হোক।’

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন তাহসান খান

পরিবেশ বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের হুঁশিয়ারি

ভারতের মানচিত্র থেকে মুছে যাবে হিমাচল!

আপডেট সময় ০৪:৪৪:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

ভারতের  হিমাচল প্রদেশের পরিবেশগত সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। ভারী বর্ষণ, ভূমিধস ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাজ্যটির টেকসই ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে— এখনই পদক্ষেপ না নিলে মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যেতে পারে হিমাচল।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ জুলাই ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জে বি পার্দিওয়ালা ও বিচারপতি আর মাধবনের বেঞ্চ হিমাচলের পরিবেশগত অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

 

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার ওপর জোর দিয়ে তাঁরা বলেন, ‘হিমাচল রাজ্যের পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ থেকে মারাত্মক হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ছে রাজ্যটি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তীব্র পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা। যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে মানচিত্র থেকে হিমাচল প্রদেশের চিরতরে মুছে যাওয়ার দিন খুব বেশি দূরে নয়।’

গত বছর রাজ্যের বেশ কিছু এলাকাকে ‘সংরক্ষিত সবুজ এলাকা’ ঘোষণা করে সেসব অঞ্চলে গাছ কাটা, পাহাড় কাটা এবং প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন হিমাচল হাইকোর্ট। কিছুদিন আগে হাইকোর্টের সেই নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করে পিটিশন দায়ের করা হয়। সেই পিটিশনের শুনানি ছিল গেল ২৮ জুলাই।

 

শুনানির শুরুর পর বিচারপতি জে বি পার্দিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মাধবনের বেঞ্চ জানান, তাঁরা হিমাচল হাইকোর্টের আদেশে হস্তক্ষেপ করতে ইচ্ছুক নন। সেই সঙ্গে রাজ্যের কোন কোন জায়গায় নির্মাণ কাজ করা যাবে এবং কোন এলাকা থেকে কী কী প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ করা যাবে– এ সম্পর্কিত একটি সুস্পষ্ট নির্দেশনার পক্ষপাতী বলে উল্লেখ করা হয়।

 

বিচারপতিরা বলেন, এই অবস্থার জন্য প্রকৃতি নয়, মানুষই দায়ী। মানুষ প্রকৃতিকে রক্ষা করতে পারেনি। অত্যাচার চালিয়ে গেছে। লাগামছাড়া উন্নয়নের পথে হেঁটেছে, চার লেনের রাস্তা তৈরি হয়েছে। পাহাড়ে সুড়ঙ্গ তৈরি হয়েছে। বসতি স্থাপন বেড়েউ চলেছে। ভূতত্ত্ববিদ, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, স্থানীয় মানুষ কারও মতামত নেওয়া হয়নি। পরিবেশকে গুরুত্ব না দিয়ে অনিয়ন্ত্রিত পর্যটকের আগমন রাজ্যকে ভয়ানক ক্ষতির মুখে ফেলছে।

বিচারপতিদের বেঞ্চ জানান, ইচ্ছেমতো গাছ কাটা ও লাগামছাড়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি বন্ধ করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় নির্মাণকাজও নিয়ন্ত্রণ জরুরি। পর্যটক আগমনও কমানো দরকার। এখনই সতর্ক না হলে মানচিত্র থেকে হিমাচল প্রদেশেই একদিন মুছে যাবে।

 

সতর্কবার্তা দিয়ে আদালত আরও বলে, ‘পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস করে রাজস্ব আয় করা কখনও যুক্তিসঙ্গত হতে পারে না। যদি এমন নীতি চলতে থাকে, তাহলে হিমাচল একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে। আমরা চাই না, এমন দিন দেখতে হোক।’