সংবাদ শিরোনাম ::
Logo গণভোটের প্রচারে অন্তর্বর্তী সরকারের নানা কর্মসূচি Logo গ্যাস সংকটের মুখে এলপিজি আমদানির ঋণ সুবিধা সহজ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক Logo নিহত আনুমানিক ৫০০! ইরানে হচ্ছেটা কী! দেশটির নতুন বিক্ষোভের কারণ ও ঘটনাপ্রবাহ দেখুন টাইমলাইনে Logo ৬৬ সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সরে যাওয়ায় বাংলাদেশে সম্ভাব্য প্রভাব Logo দূষিত বাতাসে সোমবারও এক নম্বর ঢাকা Logo বিলুপ্ত জাতের প্রাণী সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি : মৎস্য উপদেষ্টা Logo যে কারণে হলো তাহসান-রোজার বিবাহ বিচ্ছেদ Logo আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠক Logo আজ কিংবদন্তী চলচ্চিত্র নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলামের প্রয়াণ দিবস Logo আজ বায়ুদূষণের তালিকার শীর্ষে ঢাকা, বাতাসের মান ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’

ভূমিকম্প নারী-শিশুর উপর কিরূপ প্রভাব ফেলে

ভূমিকম্প নারী-শিশুর উপর কিরূপ প্রভাব ফেলে

ভূমিকম্প নারী ও শিশুদের উপর বহুমাত্রিক ও গুরুতর প্রভাব ফেলে। ভূমিকম্পে কেঁপে উঠে শুধু ভূমি নয়, মানুষের মনও। রাজধানীসহ সারাদেশে গত শুক্রবার সকালের দুলুনিতে যে আতঙ্ক তৈরি হয়। কয়েক সেকেন্ডের আকস্মিক ঝাঁকুনিতে ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক ভবনের অবকাঠামো। এতে ১০ জনের প্রাণহানি ও আহত সাত শতাধিক মানুষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্প বাংলাদেশে তুলনামূলক কম ঘটায় মানসিক প্রস্তুতি কম। তাই মাঝারি মাত্রার কম্পনও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বড় ধাক্কা। এক্ষেত্রে নারী ও শিশুদের উপর বেশি প্রভাব ফেলে।

ঘুমাতে গেলে মনে হবে খাট দুলছে। মনে হবে ঘর কাঁপছে। পাশের টেবিল কাঁপছে। কাজে মনোযোগ হবে না। আতঙ্কে অনেক পরিবার তার সন্তানকে নিয়ে শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যায়। এসব মানসিক লক্ষণ নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি দেখায় যায়।

ভূমিকম্প নারী ও শিশুর ওপর শারীরিক, মানসিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলে। গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে আঘাত, রক্তক্ষরণ, অকালে প্রসব ঝুঁকি অনেক বাড়ে। জরুরি সহায়তা, স্যানিটারি সামগ্রী, চিকিৎসা না পাওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। শিশুদের শরীর দুর্বল হওয়ায় সামান্য ভাঙা-চাপা পড়লেও মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। নারীদের স্বজন হারানোর মানসিক চাপ, নিরাপত্তাহীনতা দেখা যায়। অনিশ্চয়তা ও পুনরায় ভূমিকম্প হওয়ার ভয় বেশি দেখা যায়।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পজনিত ট্রমার লক্ষণ শিশুদের ক্ষেত্রে ভিন্নভাবে প্রকাশ পায়। অনেক শিশুর মধ্যে দেখা যাচ্ছে-হঠাৎ চিৎকার করে ওঠা, রাতে ঘুম ভেঙে কান্না, স্কুলে যেতে অনীহা ইত্যাদি। অভিভাবকরা জানিয়েছেন, তাদের সন্তানরা সামান্য কম্পন বা দরজা-জানালা নড়ামাত্রই আতঙ্কে লাফিয়ে উঠে দৌড়ে বাইরে যেতে চায়। আবার কেউ কেউ জিজ্ঞাসা করছে-আবার কি ভূমিকম্প হবে? ভয়, দুঃস্বপ্ন, কান্নাকাটি, অতিরিক্ত আঁকড়ে থাকা এগুলো শিশুদের সাধারণ লক্ষণ। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া, পড়াশোনায় মনোযোগ হারানো ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের আকস্মিকতা মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত ভীতি, প্যানিক অ্যাটাক, ঘুমের ব্যাঘাত, বিভ্রান্তি ও ঝাঁকুনির মতো অনুভূতির উপসর্গ তৈরি করে।

ভূমিকম্প মানুষের চিন্তা ও অনুভূতিকে তীব্রভাবে নাড়া দেয়। এই মানসিক চাপ অনেক সময় এতটা বেড়ে যায় যে, দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করে। যা পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারে (পিটিএসডি) রূপ নিতে পারে। নারী ও শিশুদের মধ্যে এ প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। ভয়াবহ ঘটনার স্মৃতি বারবার ফিরে আসে। শব্দ বা দৃশ্য সেই আতঙ্ক জাগিয়ে তোলে। এছাড়া দেখা দিতে পারে মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, বুক ধড়ফড়, হাত-পা কাঁপা ও অরুচির মত শারীরিক প্রতিক্রিয়া। অনেকে বিষণ্নতায় ভোগেন।

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনির জটিলতার মতো দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা বাড়ছে। সাম্প্রতিক ভূমিকম্প মানুষের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যে বড় ধাক্কা দিয়েছে। অনেকের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে, কাজে মনোযোগ দিতে পারছেন না।

পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত খাবার, আতঙ্ক ছড়ায় এমন সংবাদ থেকে দূরে থাকা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। জাপানে ভূমিকম্পের মতো আকস্মিক দুর্যোগের পর জনসাধারণের গুরুতর চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক ধাক্কা সামাল দিতে জাতীয় নীতিমালা রয়েছে। শিশুদের ট্রমা কাটিয়ে ওঠার জন্য অভিভাবকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের আশ্বস্ত করতে হবে সে নিরাপদ। তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। তার ভয়ের অনুভূতিকে মূল্যায়ন করতে হবে। দৈনন্দিন রুটিন যেমন-পড়াশোনা, খেলা, ঘুম এসব নিয়মিত করার চেষ্টা করতে হবে। খুব বেশি ভয়ে থাকলে শিশু মনোচিকিৎসকের সাহায্য নিতে হবে।

উন্নত দেশে এই ধরনের দুর্যোগে কেমন মানসিক অস্থিরতা তৈরি হয় এবং এটি কমাতে নানা ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকে। বাংলাদেশেও এমন উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।  ভূমিকম্পের প্রস্তুতি এবং দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে নারী ও শিশুদের বিশেষ চাহিদা এবং দুর্বলতাগুলো বিবেচনায় নিয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

 

 

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণভোটের প্রচারে অন্তর্বর্তী সরকারের নানা কর্মসূচি

ভূমিকম্প নারী-শিশুর উপর কিরূপ প্রভাব ফেলে

আপডেট সময় ০৫:২৪:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

ভূমিকম্প নারী ও শিশুদের উপর বহুমাত্রিক ও গুরুতর প্রভাব ফেলে। ভূমিকম্পে কেঁপে উঠে শুধু ভূমি নয়, মানুষের মনও। রাজধানীসহ সারাদেশে গত শুক্রবার সকালের দুলুনিতে যে আতঙ্ক তৈরি হয়। কয়েক সেকেন্ডের আকস্মিক ঝাঁকুনিতে ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক ভবনের অবকাঠামো। এতে ১০ জনের প্রাণহানি ও আহত সাত শতাধিক মানুষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্প বাংলাদেশে তুলনামূলক কম ঘটায় মানসিক প্রস্তুতি কম। তাই মাঝারি মাত্রার কম্পনও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বড় ধাক্কা। এক্ষেত্রে নারী ও শিশুদের উপর বেশি প্রভাব ফেলে।

ঘুমাতে গেলে মনে হবে খাট দুলছে। মনে হবে ঘর কাঁপছে। পাশের টেবিল কাঁপছে। কাজে মনোযোগ হবে না। আতঙ্কে অনেক পরিবার তার সন্তানকে নিয়ে শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যায়। এসব মানসিক লক্ষণ নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি দেখায় যায়।

ভূমিকম্প নারী ও শিশুর ওপর শারীরিক, মানসিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলে। গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে আঘাত, রক্তক্ষরণ, অকালে প্রসব ঝুঁকি অনেক বাড়ে। জরুরি সহায়তা, স্যানিটারি সামগ্রী, চিকিৎসা না পাওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। শিশুদের শরীর দুর্বল হওয়ায় সামান্য ভাঙা-চাপা পড়লেও মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। নারীদের স্বজন হারানোর মানসিক চাপ, নিরাপত্তাহীনতা দেখা যায়। অনিশ্চয়তা ও পুনরায় ভূমিকম্প হওয়ার ভয় বেশি দেখা যায়।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পজনিত ট্রমার লক্ষণ শিশুদের ক্ষেত্রে ভিন্নভাবে প্রকাশ পায়। অনেক শিশুর মধ্যে দেখা যাচ্ছে-হঠাৎ চিৎকার করে ওঠা, রাতে ঘুম ভেঙে কান্না, স্কুলে যেতে অনীহা ইত্যাদি। অভিভাবকরা জানিয়েছেন, তাদের সন্তানরা সামান্য কম্পন বা দরজা-জানালা নড়ামাত্রই আতঙ্কে লাফিয়ে উঠে দৌড়ে বাইরে যেতে চায়। আবার কেউ কেউ জিজ্ঞাসা করছে-আবার কি ভূমিকম্প হবে? ভয়, দুঃস্বপ্ন, কান্নাকাটি, অতিরিক্ত আঁকড়ে থাকা এগুলো শিশুদের সাধারণ লক্ষণ। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া, পড়াশোনায় মনোযোগ হারানো ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের আকস্মিকতা মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত ভীতি, প্যানিক অ্যাটাক, ঘুমের ব্যাঘাত, বিভ্রান্তি ও ঝাঁকুনির মতো অনুভূতির উপসর্গ তৈরি করে।

ভূমিকম্প মানুষের চিন্তা ও অনুভূতিকে তীব্রভাবে নাড়া দেয়। এই মানসিক চাপ অনেক সময় এতটা বেড়ে যায় যে, দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করে। যা পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারে (পিটিএসডি) রূপ নিতে পারে। নারী ও শিশুদের মধ্যে এ প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। ভয়াবহ ঘটনার স্মৃতি বারবার ফিরে আসে। শব্দ বা দৃশ্য সেই আতঙ্ক জাগিয়ে তোলে। এছাড়া দেখা দিতে পারে মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, বুক ধড়ফড়, হাত-পা কাঁপা ও অরুচির মত শারীরিক প্রতিক্রিয়া। অনেকে বিষণ্নতায় ভোগেন।

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনির জটিলতার মতো দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা বাড়ছে। সাম্প্রতিক ভূমিকম্প মানুষের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যে বড় ধাক্কা দিয়েছে। অনেকের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে, কাজে মনোযোগ দিতে পারছেন না।

পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত খাবার, আতঙ্ক ছড়ায় এমন সংবাদ থেকে দূরে থাকা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। জাপানে ভূমিকম্পের মতো আকস্মিক দুর্যোগের পর জনসাধারণের গুরুতর চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক ধাক্কা সামাল দিতে জাতীয় নীতিমালা রয়েছে। শিশুদের ট্রমা কাটিয়ে ওঠার জন্য অভিভাবকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের আশ্বস্ত করতে হবে সে নিরাপদ। তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। তার ভয়ের অনুভূতিকে মূল্যায়ন করতে হবে। দৈনন্দিন রুটিন যেমন-পড়াশোনা, খেলা, ঘুম এসব নিয়মিত করার চেষ্টা করতে হবে। খুব বেশি ভয়ে থাকলে শিশু মনোচিকিৎসকের সাহায্য নিতে হবে।

উন্নত দেশে এই ধরনের দুর্যোগে কেমন মানসিক অস্থিরতা তৈরি হয় এবং এটি কমাতে নানা ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকে। বাংলাদেশেও এমন উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।  ভূমিকম্পের প্রস্তুতি এবং দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে নারী ও শিশুদের বিশেষ চাহিদা এবং দুর্বলতাগুলো বিবেচনায় নিয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।