সংবাদ শিরোনাম ::
Logo গণভোটের প্রচারে অন্তর্বর্তী সরকারের নানা কর্মসূচি Logo গ্যাস সংকটের মুখে এলপিজি আমদানির ঋণ সুবিধা সহজ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক Logo নিহত আনুমানিক ৫০০! ইরানে হচ্ছেটা কী! দেশটির নতুন বিক্ষোভের কারণ ও ঘটনাপ্রবাহ দেখুন টাইমলাইনে Logo ৬৬ সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সরে যাওয়ায় বাংলাদেশে সম্ভাব্য প্রভাব Logo দূষিত বাতাসে সোমবারও এক নম্বর ঢাকা Logo বিলুপ্ত জাতের প্রাণী সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি : মৎস্য উপদেষ্টা Logo যে কারণে হলো তাহসান-রোজার বিবাহ বিচ্ছেদ Logo আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠক Logo আজ কিংবদন্তী চলচ্চিত্র নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলামের প্রয়াণ দিবস Logo আজ বায়ুদূষণের তালিকার শীর্ষে ঢাকা, বাতাসের মান ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন আগ্রাসন ও মাদুরোর অপহরণের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট বৈশ্বিক বিভক্তি

২০২৬ সালে এসেও একটি দেশের নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে সস্ত্রীক অপহরণের ঘটনা দেখলো বিশ্ব! ভেনেজুয়েলা মার্কিন আগ্রাসন ও নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দুই রকমের প্রতিক্রিয়া দেখা গেলো বৈশ্বিক রাজনীতির মঞ্চে। নজিরবিহীন অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে ধরে নিয়ে যাওয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চীন ও রাশিয়া। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র পশ্চিমাশক্তি জানিয়েছে সাধুবাদ। যদিও পশ্চিমাদের কেউ কেউ বেশ সাবধানে সরাসরি কোনো পক্ষ নেয়া এড়িয়ে গেছে।

 

চীন, রাশিয়া, ইরান, ব্রাজিল, কলম্বিয়াসহ যেসব দেশ কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে:   

চীন রোববার মাদুরোকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। তাঁদের অবিলম্বে মুক্তি এবং ভেনেজুয়েলার সরকার উৎখাত করা বন্ধ করতে হবে। বিবৃতিতে এই হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

 

ভেনেজুয়েলার মিত্র হিসেবে পরিচিত রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে। তারা এটিকে ‘সশস্ত্র আগ্রাসন’ অ্যাখ্যা দিয়ে বলেছে, হামলার পেছনে বিশ্বাসযোগ্য কোনো যুক্তি নেই।

 

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এমন ঘটনা গভীর উদ্বেগের। মস্কো ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ রক্ষায় সমর্থন দেবে।

 

মার্কিন হামলাকে ‘সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলেছে ইরান। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা বলেছেন, এই কার্যক্রম সীমা অতিক্রম করেছে।

 

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই হামলাকে লাতিন আমেরিকার ‘সার্বভৌমত্বের ওপর আক্রমণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছেন চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিক। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ কানেল  যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘অপরাধমূলক হামলার’ অভিযোগ এনেছেন।

 

যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মিশ্র তবে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া:

প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, তাঁর সরকার মাদুরোর শাসনকাল শেষ হওয়ায় তেমন কিছু ভাবছে না। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনেরও নিন্দা জানাবে না। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, জয় হোক স্বাধীনতার। মিলেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিতি।

 

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ভেনেজুয়েলার মানুষ এখন স্বৈরশাসন থেকে মুক্ত।

 

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মেরৎস জানান, এই অভিযানের আইনি দিক জটিল এবং ভেনেজুয়েলায় নতুন অস্থিরতা তৈরি হওয়া উচিত নয়।

 

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভেনেজুয়েলায় এ হামলার জন্য ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ফেসবুকে বলেছেন, “শুভেচ্ছা, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের জন্য আপনার সাহসী ও ঐতিহাসিক নেতৃত্বের জন্য। আমি আপনার সেনাদের সাহসী দৃঢ় সংকল্পকে স্যালুট জানাই।”

 

কানাডা সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ না নিলেও মাদুরোর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে যুক্তরাষ্ট্রের আইনি অবস্থানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। অটোয়া জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র ফেরাতে মার্কিন এই উদ্যোগ সহায়ক হতে পারে।

 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজা ক্যালাস সরাসরি অভিযানের প্রশংসা না করলেও বলেছেন, মাদুরোর কোনো গণতান্ত্রিক বৈধতা ছিল না।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

গণভোটের প্রচারে অন্তর্বর্তী সরকারের নানা কর্মসূচি

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন আগ্রাসন ও মাদুরোর অপহরণের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট বৈশ্বিক বিভক্তি

আপডেট সময় ০৭:১০:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

২০২৬ সালে এসেও একটি দেশের নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে সস্ত্রীক অপহরণের ঘটনা দেখলো বিশ্ব! ভেনেজুয়েলা মার্কিন আগ্রাসন ও নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দুই রকমের প্রতিক্রিয়া দেখা গেলো বৈশ্বিক রাজনীতির মঞ্চে। নজিরবিহীন অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে ধরে নিয়ে যাওয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চীন ও রাশিয়া। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র পশ্চিমাশক্তি জানিয়েছে সাধুবাদ। যদিও পশ্চিমাদের কেউ কেউ বেশ সাবধানে সরাসরি কোনো পক্ষ নেয়া এড়িয়ে গেছে।

 

চীন, রাশিয়া, ইরান, ব্রাজিল, কলম্বিয়াসহ যেসব দেশ কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে:   

চীন রোববার মাদুরোকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। তাঁদের অবিলম্বে মুক্তি এবং ভেনেজুয়েলার সরকার উৎখাত করা বন্ধ করতে হবে। বিবৃতিতে এই হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

 

ভেনেজুয়েলার মিত্র হিসেবে পরিচিত রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে। তারা এটিকে ‘সশস্ত্র আগ্রাসন’ অ্যাখ্যা দিয়ে বলেছে, হামলার পেছনে বিশ্বাসযোগ্য কোনো যুক্তি নেই।

 

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এমন ঘটনা গভীর উদ্বেগের। মস্কো ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ রক্ষায় সমর্থন দেবে।

 

মার্কিন হামলাকে ‘সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলেছে ইরান। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা বলেছেন, এই কার্যক্রম সীমা অতিক্রম করেছে।

 

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই হামলাকে লাতিন আমেরিকার ‘সার্বভৌমত্বের ওপর আক্রমণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছেন চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিক। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ কানেল  যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘অপরাধমূলক হামলার’ অভিযোগ এনেছেন।

 

যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মিশ্র তবে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া:

প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, তাঁর সরকার মাদুরোর শাসনকাল শেষ হওয়ায় তেমন কিছু ভাবছে না। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনেরও নিন্দা জানাবে না। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, জয় হোক স্বাধীনতার। মিলেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিতি।

 

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ভেনেজুয়েলার মানুষ এখন স্বৈরশাসন থেকে মুক্ত।

 

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মেরৎস জানান, এই অভিযানের আইনি দিক জটিল এবং ভেনেজুয়েলায় নতুন অস্থিরতা তৈরি হওয়া উচিত নয়।

 

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভেনেজুয়েলায় এ হামলার জন্য ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ফেসবুকে বলেছেন, “শুভেচ্ছা, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের জন্য আপনার সাহসী ও ঐতিহাসিক নেতৃত্বের জন্য। আমি আপনার সেনাদের সাহসী দৃঢ় সংকল্পকে স্যালুট জানাই।”

 

কানাডা সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ না নিলেও মাদুরোর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে যুক্তরাষ্ট্রের আইনি অবস্থানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। অটোয়া জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র ফেরাতে মার্কিন এই উদ্যোগ সহায়ক হতে পারে।

 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজা ক্যালাস সরাসরি অভিযানের প্রশংসা না করলেও বলেছেন, মাদুরোর কোনো গণতান্ত্রিক বৈধতা ছিল না।