মার্কিন সেনা অভিযানে আটকের পর ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নেওয়া হয়েছে। এ অভিযানে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন।
নজিরবিহীন এই অভিযানে প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে আটকের পর যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় চলছে। এই অভিযানের পর এখন পর্যন্ত যেসব তথ্য পাওয়া গেল—
যুক্তরাষ্ট্র সময় শনিবার রাতে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি নিউইয়র্কের স্টুয়ার্ট এয়ার ন্যাশনাল গার্ড বেসে অবতরণ করে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এরপর তাকে সরাসরি ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে (এমডিসি) নিয়ে যাওয়া হয়।

এই কারাগারটি জেফরি এপস্টাইনের সহযোগী ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েল এবং বর্তমান সময়ের আলোচিত র্যাপার শন ‘ডিডি’ কম্বসের মতো হাই-প্রোফাইল বন্দিদের রাখার জন্য পরিচিত।
এদিকে মাদুরোর অনুপস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেছে। আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং দেশের সার্বিক প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শনিবার রাতে সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে তার ‘শর্ত’ এখন যুক্তরাষ্ট্র নির্ধারণ করবে। এ সময় তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘প্রেসিডেন্ট অব অ্যাকশন আখ্যা’ দিয়ে তার প্রশংসা করেন।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার কয়েক ঘণ্টা পরই দেশটি সাময়িকভাবে ‘চালানোর’ ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (৩ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলায় নিরাপদ, সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত রাজনৈতিক পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র দেশটির প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকবে।
ট্রাম্প বলেন, আমরা কাউকে ক্ষমতায় বসাতে চাই না। কিন্তু যতদিন না পরিস্থিতি স্থিতিশীল হচ্ছে, আমেরিকা ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে।
রোববার ৪ জানুয়ারি আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।
ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরেই মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালানকারীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করে আসছে। মাদুরো এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিতে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়।
শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প জানান, বড় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার ধ্বংসপ্রাপ্ত তেল অবকাঠামো মেরামতের কাজে এগিয়ে আসবে। তার ভাষায়, এতে ভেনেজুয়েলার জনগণ ধনী, স্বাধীন ও নিরাপদ হবে।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 




















