বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা চামড়া শিল্পকে টেকসই শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিবেশগত প্রভাব ও অধিকার নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং করণীয় নির্ধারণে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ নভেম্বর) কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ‘অ্যাওয়ারনেস রেইজিং ক্যাম্পেইন অন এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্টস এন্ড রাইটস অ্যাট লেদার সেক্টর’ শিরোনামে এই সভার আয়োজন করা হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় সলিডার সুইসের তত্ত্বাবধানে ওশি ফাউন্ডেশনের পরিচালনায়, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে “বিল্ডিং এ সাসটেইনেবল লেদার সেক্টর ইন বাংলাদেশ” প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত হয় এই সভা।

সভায় ওশি (ওএসএইচই) ফাউন্ডেশনের পরিচালক মো: আলম হোসেন ট্যানারি শিল্পে ব্যবহৃত ক্রোমিয়ামের ক্ষতিকর প্রভাব উল্লেখ করে বলেন, এই ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করে গবাদি পশুর জন্য খাদ্য উৎপাদন করা হয়।ব্রয়লার মুরগিতে থাকে মাত্রাতিরিক্ত ক্রোমিয়ামে ভরা। এই খাবার গ্রহণের মাধ্যমে আমাদের শরীরে ক্রোমিয়ামে প্রবেশ করে। এর বিষাক্ত প্রভাব পড়ছে আমাদের দেহে।
ট্যানারির বর্জ্যকে গোল্ড উল্লেখ করে আলম হোসেন বলেন, এই বর্জ্যকে সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা যায় এবং আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। সাভারে ইতোমধ্যে ট্যানারির বর্জ্য পরিশোধন করে পণ্য তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সাদ বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এম মতিউর রহমান সাগর বলেন, পরিবেশের ক্ষতি করে ব্যবসা করা যাবে না। শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন পরিবেশ ঠিক না থাকলে আপনারা বারবার অসুস্থ হবেন কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হবে। মালিকদের উদ্দেশ্যে বলেন কারখানার সুরক্ষার দায়িত্ব মালিকের। কারখানা সুরক্ষা না থাকলে মালিকই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। জুতার কারখানায় অনেক কেমিক্যাল ব্যবহার করতে হয় সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করে সকল কেমিক্যাল ব্যবহার করতে শ্রমিকদের তাগিদ দেন মতিউর রহমান।
সভায় চামড়া শিল্পের পরিবেশগত প্রভাব ও অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা, এবং এই শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বক্তারা উল্লেখ করেন, টেকসই চামড়া শিল্প গড়ে তোলার জন্য পরিবেশগত ক্ষতির কারণগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করা প্রয়োজন। শ্রমিকদের সুরক্ষা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার, এবং তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই শিল্পকে আরও টেকসই করা সম্ভব।

সভার সঞ্চালনায় ছিলেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর এ এম এম খায়রুল আনাম এবং সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার শারমিন বন্যা।
সভায় সরকারি পর্যায়ের প্রতিনিধি, চামড়া শিল্পের উদ্যোক্তা, মালিক পক্ষের প্রতিনিধি, শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
জোবায়ের আহমেদ 




















