প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জমকালো আয়োজনে সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অফ দ্য প্যারালাইজড (সিআরপি) এর প্রতিষ্ঠাতা ও মানবতাবাদী ব্যক্তিত্ব ভ্যালেরি অ্যান টেইলরের জন্মদিন উদযাপন করা হয়েছে। সাভারের সিআরপি প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সিআরপির কর্মকর্তা-কর্মচারী, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, রোগী, স্বেচ্ছাসেবক এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভ্যালেরি অ্যান টেইলরের জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন, মানপত্র পাঠ, কেক কাটা, সিআরপির শিশুদের পক্ষ থেকে সম্মাননা প্রদান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভ্যালেরি অ্যান টেইলরের কর্মময় জীবন তুলে ধরে নির্মিত ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। এতে তাঁর বাংলাদেশে আগমন, প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য কাজ করার অনুপ্রেরণা, সিআরপি প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এবং দীর্ঘ পথচলার নানা দিক তুলে ধরা হয়।অনুষ্ঠানে মানপত্র পাঠের মাধ্যমে তাঁর দীর্ঘদিনের মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। মানপত্রে উল্লেখ করা হয়—বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী মানুষের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে তাঁর অবদান অনন্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।
জন্মদিনের শুভেচ্ছা বক্তব্যে ভ্যালেরি অ্যান টেইলর বলেন, আমার জন্মদিনে এত সুন্দর আয়োজন করার জন্য প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবুকে অসংখ্য ধন্যবাদ। ভ্যালেরি বলেন, মুকিত মজুমদার বাবুর আয়োজন সবসময় এক নাম্বার।

ছোট বেলার স্মৃতিচারণ করে ভ্যালেরি বলেন অনেক ছোট বেলায় আমরা দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্টিনায় ৩ বছর ছিলাম। আমার ছোট বোন সেখানেই জন্মগ্রহণ করেন। বোনের সাথে কাটানো সময়গুলো তিনি খুব উপভোগ করতাম। আর্জেন্টিনা থেকে জাহাজে করে আমরা দেশে ফেরার সময় একটা মজার ঘটনা ঘটেছিলো। জাহাজে খাবার খাওয়ার সময় জাহাজটি খুব দুলতে ছিল, আমরা ঠিকভাবে খাবার খেতে পারছিলাম না। আমরা যখন বাটি থেকে খাবার তুলছিলাম বড় বড় ঢেউ এর কারণে বার বার খাবারের বাটি দূরে সরে যাচ্ছিলো।
সিআরপিকে যারা আজকের অবস্থায় নিয়ে আসছেন তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ভ্যালেরি অ্যান টেইলর বলেন, আজকে শুধু আমার জন্মদিন না, এই আয়োজন শুধু আমার জন্য নয়। প্রত্যেকটি মানুষ যারা কঠোর পরিশ্রম করেছেন আমাদের রোগীদের জন্য, আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য, যাদের পরিশমের ফলে আজকে সিআরপি এই পর্যায় এসেছে আজকে তাদের সবার জন্মদিন। আজকে আমাদের প্রত্যেকের জন্য একটা আনন্দের দিন। সবাই একসাথে উদযাপন করবো আজকের এই দিন।

ভ্যালেরি অ্যান টেলর এর জন্মদিনে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, আজকে এমন একটা দিন, যে দিনে আমরা সত্যিই অনেক খুশি। কারণ আজকে একটা বিশেষ মানুষের জন্মদিন। ভ্যালেরি অ্যান টেইলর এর জন্মদিন আগামী বছর সারাদেশব্যাপী পালনের আশা প্রকাশ করে প্রকৃতিবন্ধু বলেন, সারা বাংলাদেশের জন্য এই মহিয়সী নারী একটা দৃষ্টান্ত। আমাদের জন্য, এই পৃথিবীর জন্য এবং বিশেষ করে যারা বিভিন্ন সমস্যায় আছে তাদের জন্য দৃষ্টান্ত। কারণ যারা বিভিন্ন সমস্যায় আছেন তাদের জন্য ভ্যালেরি অ্যান টেইলর যেসব অবদান রেখে যাচ্ছেন এবং যেটা শুরু করেছিলেন যেসময় কেউ চিন্তা করেনি এই ধরণের একটি কাজের কথা । নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে সারাটা জীবন কাটিয়ে দিলেন যারা বিভিন্ন সমস্যায় আছেন, আমাদের জন্য সারা বাংলাদেশের জন্য।
ভ্যালেরি অ্যান টেইলর নামের আগে সেবামাতা নামটি যুক্ত করে মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, আমাদের জন্য তিনি যে কাজ করে যাচ্ছেন তার জন্য আমাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। কারণ তিনি সারাটা জীবন কাটিয়ে গেছেন আমাদের সেবা দিয়ে।
প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সিআরপিতে যারা রোগী নিয়ে আসেন, তারা এখানকার পরিবেশ, গাছপালা সব মিলিয়ে একটা সবুজের আবহাওয়ায় মানসিক প্রশান্তি পায়। প্রতিনিয়ত মানুষকে প্রশান্তি দেওয়ার প্রচেষ্টা করে যাচ্ছেন ভ্যালেরি অ্যান টেইলর। তাকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা। শুধু চিকিৎসা সেবা না পাশাপাশি প্রকৃতির প্রতি তার যে ভালোবাসা, সে ভালোবাসাটাও কিন্তু তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন এই সিআরপিকে ঘিরে।

অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল সিআরপির শিশুরা ফুল দিয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানায় এবং তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করে।

সিআরপির শিশুদের পক্ষ থেকে ভ্যালেরি অ্যান টেইলরের জন্মদিনে সম্মাননা ও উপহার প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে সিআরপির শিক্ষার্থী ও শিল্পীরা গান, নৃত্য এবং আবৃত্তি পরিবেশন করেন। সংগীতানুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক ও অনুপ্রেরণামূলক গান পরিবেশন করা হয়।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রকৃতি ও জীবন মিউজিক ক্লাবের সংগীত পরিবেশন। ক্লাবের শিল্পীরা মনোমুগ্ধকর গান পরিবেশন করেন।
জোবায়ের আহমেদ 


















