সংবাদ শিরোনাম ::
Logo পাবলো এসকোবারের ‘কোকেন’ জলহস্তীদের নিয়ে বিপাকে কলম্বিয়া Logo জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হতে পারে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা Logo আজ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা Logo ১৬ এপ্রিলের আবহাওয়া স্বস্তিদায়ক হতে পারে, তবে এরপর আবার গরম Logo মিরসরাইয়ে হরিণ জবাই! জড়িতদের ধরতে বন বিভাগের অভিযান Logo জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের নতুন নির্দেশনা Logo প্রাণী নির্যাতন বন্ধে সরকারের কাছে আইনি নোটিশ Logo কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপার ক্ষোভ: এই পৃথিবীতে সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণী মানুষ Logo পহেলা বৈশাখে আকাশ থাকতে পারে মেঘলা, তাপপ্রবাহ চলছে, সঙ্গে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা Logo পহেলা বৈশাখে বন্ধ থাকবে মেট্রোরেলের দুটি স্টেশন

মহাশক্তি নিয়ে আসছে মিল্টন, ফ্লোরিডা দেখবে ‘জীবন-মৃত্যু’ পরিস্থিতি

মহাশক্তি নিয়ে আসছে মিল্টন, ফ্লোরিডা দেখবে ‘জীবন-মৃত্যু’ পরিস্থিতি

ধারণা করা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় আঘাত হানতে যাওয়া হারিকেন মিল্টন ক্যাটাগরি ৩মাত্রার হবে। কিন্তু মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়টি এখন ক্যাটাগরি ফাইভ অর্থাৎ মহাশক্তিশালী হয়ে আছড়ে পড়তে যাচ্ছে ফ্লোরিডা উপকূলে। আবহাওয়া দপ্তর ইতোমধ্যে মিল্টনকে ‘ক্যাটাগরি ৫’ ঝড় হিসেবে উল্লেখ করে এক পূর্বাভাসে বলেছে, গত ১০০ বছরে এত শক্তিশালী কোনো ঝড় দেখা যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দপ্তর থেকে ফ্লোরিডার বাসিন্দাদের জন্য সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, “ঘূর্ণিঝড়টি ফ্লোরিডার উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের জন্য জীবন-মৃত্যুর সংকট সৃষ্টি করতে সক্ষম। তাই যত শিগগির সম্ভব উপকূলীয় শহরগুলোর লোকজনকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।”

যদিও সিএনএন বলছে, অনেকে বাড়িঘর ফেলে নিরাপদে আশ্রয় নিতে গেলেও কিছু বাসিন্দা বাড়িতেই অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফ্লোরিডার যে শহরের উপকূলে ঝড়টি আঘাত হানবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর, সেই টাম্পা বে’র  বাসিন্দা চিয়ান্না পারকিন্স জানিয়েছেন, শহর ত্যাগের কোনো পরিকল্পনা তার নেই।

এই নারী বলেন, “যে বাড়িতে আমি থাকি, সেটি তৈরি করতে আমার যাবতীয় সঞ্চয় ভাঙতে হয়েছে। মাত্র গত মাসে সেটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। আমি যদি বাইরের কোনো শহরে যাই, তাহলেও মানসিক শান্তিতে থাকবো না। সারাক্ষণ বাড়ির কথা মনে পড়বে। তাই যা কিছু হোক, আমি শহর ছাড়ছি না।”

তবে বেশিরভাগই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ঘর-বাড়ি ছেড়েছেন। এমএল ফার্গুসন নামের এক নারী জানিয়েছেন, গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে হ্যারিকেন হেলেনের আঘাতে তার বাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেটির মেরামতের কাজ সবে শুরু করেছিলেন, এমন সময় হারিক্যান মিল্টনের কারণে মেরামত স্থগিত রেখে ব্রাডেনটন ছাড়তে হচ্ছে তাকে।

“হেলেনের আঘাতে আমার বাড়ি তছনছ হয়ে গিয়েছিল, সেই ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই আসছে মিল্টন, যেটি হেলেনের চেয়েও ভয়ঙ্কর। এই ঝড়টি আঘাত হানার পর সম্ভবত আমি পুরোপুরি গৃহহীন হয়ে যাব।”

ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস মঙ্গলবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে বলেছেন, ঝুঁকিতে থাকা শহরগুলোর বাসিন্দাদের জন্য ইতোমধ্যে কয়েক ডজন আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। যারা নিজ শহর ত্যাগ করতে ইচ্ছুক নন, তাদেরকে ঝড় আসার আগে ঠিক সময়ের মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে আসার অনুরোধ করেছেন তিনি।

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, মিল্টনের কেন্দ্রে এখন বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২৭০ কিলোমিটার।

মার্কিন আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, স্থানীয় সময় বুধবার রাতে ফ্লোরিডার জনবহুল টাম্পা বে’র উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে মিল্টন।

ঘূর্ণিঝড় হেলেনের তাণ্ডবে বিপুল প্রাণহানি আর ধ্বংসযজ্ঞের পর এবার হারিকেন মিল্টন এর চেয়েও বড় ধরনের তাণ্ডব চালাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানা হারিকেন হেলেনের তাণ্ডবে অন্তত ২২৫ জন নিহত হন। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আরও শতাধিক মানুষ। মাত্র ১০ দিনের মাথায় আরেক প্রলয়ঙ্করী ঝড়ের জন্য প্রস্তুত হতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

পাবলো এসকোবারের ‘কোকেন’ জলহস্তীদের নিয়ে বিপাকে কলম্বিয়া

মহাশক্তি নিয়ে আসছে মিল্টন, ফ্লোরিডা দেখবে ‘জীবন-মৃত্যু’ পরিস্থিতি

আপডেট সময় ০২:০৭:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ অক্টোবর ২০২৪

ধারণা করা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় আঘাত হানতে যাওয়া হারিকেন মিল্টন ক্যাটাগরি ৩মাত্রার হবে। কিন্তু মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়টি এখন ক্যাটাগরি ফাইভ অর্থাৎ মহাশক্তিশালী হয়ে আছড়ে পড়তে যাচ্ছে ফ্লোরিডা উপকূলে। আবহাওয়া দপ্তর ইতোমধ্যে মিল্টনকে ‘ক্যাটাগরি ৫’ ঝড় হিসেবে উল্লেখ করে এক পূর্বাভাসে বলেছে, গত ১০০ বছরে এত শক্তিশালী কোনো ঝড় দেখা যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দপ্তর থেকে ফ্লোরিডার বাসিন্দাদের জন্য সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, “ঘূর্ণিঝড়টি ফ্লোরিডার উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের জন্য জীবন-মৃত্যুর সংকট সৃষ্টি করতে সক্ষম। তাই যত শিগগির সম্ভব উপকূলীয় শহরগুলোর লোকজনকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।”

যদিও সিএনএন বলছে, অনেকে বাড়িঘর ফেলে নিরাপদে আশ্রয় নিতে গেলেও কিছু বাসিন্দা বাড়িতেই অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফ্লোরিডার যে শহরের উপকূলে ঝড়টি আঘাত হানবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর, সেই টাম্পা বে’র  বাসিন্দা চিয়ান্না পারকিন্স জানিয়েছেন, শহর ত্যাগের কোনো পরিকল্পনা তার নেই।

এই নারী বলেন, “যে বাড়িতে আমি থাকি, সেটি তৈরি করতে আমার যাবতীয় সঞ্চয় ভাঙতে হয়েছে। মাত্র গত মাসে সেটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। আমি যদি বাইরের কোনো শহরে যাই, তাহলেও মানসিক শান্তিতে থাকবো না। সারাক্ষণ বাড়ির কথা মনে পড়বে। তাই যা কিছু হোক, আমি শহর ছাড়ছি না।”

তবে বেশিরভাগই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ঘর-বাড়ি ছেড়েছেন। এমএল ফার্গুসন নামের এক নারী জানিয়েছেন, গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে হ্যারিকেন হেলেনের আঘাতে তার বাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেটির মেরামতের কাজ সবে শুরু করেছিলেন, এমন সময় হারিক্যান মিল্টনের কারণে মেরামত স্থগিত রেখে ব্রাডেনটন ছাড়তে হচ্ছে তাকে।

“হেলেনের আঘাতে আমার বাড়ি তছনছ হয়ে গিয়েছিল, সেই ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই আসছে মিল্টন, যেটি হেলেনের চেয়েও ভয়ঙ্কর। এই ঝড়টি আঘাত হানার পর সম্ভবত আমি পুরোপুরি গৃহহীন হয়ে যাব।”

ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস মঙ্গলবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে বলেছেন, ঝুঁকিতে থাকা শহরগুলোর বাসিন্দাদের জন্য ইতোমধ্যে কয়েক ডজন আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। যারা নিজ শহর ত্যাগ করতে ইচ্ছুক নন, তাদেরকে ঝড় আসার আগে ঠিক সময়ের মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে আসার অনুরোধ করেছেন তিনি।

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, মিল্টনের কেন্দ্রে এখন বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২৭০ কিলোমিটার।

মার্কিন আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, স্থানীয় সময় বুধবার রাতে ফ্লোরিডার জনবহুল টাম্পা বে’র উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে মিল্টন।

ঘূর্ণিঝড় হেলেনের তাণ্ডবে বিপুল প্রাণহানি আর ধ্বংসযজ্ঞের পর এবার হারিকেন মিল্টন এর চেয়েও বড় ধরনের তাণ্ডব চালাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানা হারিকেন হেলেনের তাণ্ডবে অন্তত ২২৫ জন নিহত হন। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আরও শতাধিক মানুষ। মাত্র ১০ দিনের মাথায় আরেক প্রলয়ঙ্করী ঝড়ের জন্য প্রস্তুত হতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।