মাত্র ২ চিকিৎসক দিয়ে দেশের সব বন্যপ্রাণীর চিকিৎসা!

মাত্র ২ চিকিৎসক দিয়ে দেশের সব বন্যপ্রাণীর চিকিৎসা!

প্রায়ই গণমাধ্যমে খবর আসে শিয়াল, বন বিড়াল, মেছো বিড়াল, বাগডাশ ( গন্ধগোকুল), সজারুর মতো বন্যপ্রাণীদের পিটিয়ে হত্যা, আহত করা, বিষ প্রয়োগ, ফাঁদ পেতে ধরার খবর। এইতো কয়েকদিন আগেই সুন্দরবনে চোরা শিকারিদের হরিণ ধরার ফাঁদে পড়ে মরতে মরতে রক্ষা পায় একটি বাঘিনী। ফাঁদে আটকা প্রাণীটির অসহায় চাহনির ছবি মানবিক মানুষদের আবেগকে নাড়া দেয়। আহত বাঘিনীটিকে উদ্ধার করে বন বিভাগ, চিকিৎসার জন্য গাজীপুর থেকে ভেটেরিনারি চিকিৎসক নিয়ে আসা হয়। এখন প্রশ্ন জাগতে পারে খুলনায় আহত বন্যপ্রাণীর চিকিৎসায় সুদূর গাজীপুর থেকে চিকিৎসক আনা লাগবে কেন? আসলে আহত বাঘিনীর চিকিৎসার বিষয়টি সামনে আসতেই দেশে বন্যপ্রাণীদের প্রতি চরম অবহেলার বিষয়টিও সামনে এসেছে এবার। জানা গেলো, মাত্র দুজন চিকিৎসক দিয়ে চলছে দেশের সব বন্যপ্রাণীর চিকিৎসা!

অথচ আহত প্রাণীদের দ্রুত চিকিৎসা না দিতে পারায় বাড়ে প্রাণীর মৃত্যুঝুঁকি। গবেষকেরা বলছেন, বিভাগীয় পর্যায়ে আধুনিক হাসপাতাল গড়ে তোলা জরুরি। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জানিয়েছেন, এরই মধ্যে চিকিৎসকসহ ৫২টি নতুন পদ সৃষ্টি হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই নিয়োগ হবে।

বাগেরহাট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সুন্দরবন থেকে আহত বাঘিনীটি উদ্ধারের পর খুলনায় ছিল না কোনো প্রশিক্ষিত চিকিৎসক। তাই গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে নেওয়া হয় দক্ষ চিকিৎসক। সুন্দরবনে প্রাণীর জন্য চিকিৎসক নিতে হয় গাজীপুর ও কক্সবাজার থেকে। নষ্ট হয় সময়, বাড়ে মৃত্যুঝুঁকি।

গবেষকেরা বলছেন, সুন্দরবন থেকে প্রাণী লোকালয়ে ঢুকে পড়ে মানুষের সাথে সংঘর্ষে ঘটে হতাহত। আবার সাতক্ষীরা-শ্যামনগর থেকে প্রায়ই উদ্ধার হয় পাচার হওয়া প্রাণী। অথচ সেখানে নেই কোনো চিকিৎসক।

বন্যপ্রাণী গবেষক ড. আলী রেজা খান বলেন, ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুরে হাতি-মানুষ দ্বন্দ্বে ঘটে হতাহত। উজানে ভারত থেকে ভেসে আসে হাতি, গন্ডার। শীতের মৌসুমে ভিড় করে শকুনসহ পরিযায়ী পাখি।

তবে এ বিষয়ে পরিবেশ ও বন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলছেন, বণ্যপ্রাণী রক্ষায় কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন হচ্ছে। বরাদ্দ পেলেই বিভাগীয় পর্যায়ে চিকিৎসক নিয়োগ ও আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ হবে।

সুন্দরবনে বাঘিনী চিকিৎসায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপককে প্রধান করে চার সদস্যের কমিটি গঠন হয়েছে। তাঁরা জানান, বাম হাতের ক্ষত সেরে গেলেই বাঘিনীকে বনে ছেড়ে দেওয়া হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

প্লাস্টিক দূষণ রোধে বৈশ্বিক চুক্তির আলোচনা করতে নতুন নেতা নির্বাচিত  

মাত্র ২ চিকিৎসক দিয়ে দেশের সব বন্যপ্রাণীর চিকিৎসা!

আপডেট সময় ১২:৪৬:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

প্রায়ই গণমাধ্যমে খবর আসে শিয়াল, বন বিড়াল, মেছো বিড়াল, বাগডাশ ( গন্ধগোকুল), সজারুর মতো বন্যপ্রাণীদের পিটিয়ে হত্যা, আহত করা, বিষ প্রয়োগ, ফাঁদ পেতে ধরার খবর। এইতো কয়েকদিন আগেই সুন্দরবনে চোরা শিকারিদের হরিণ ধরার ফাঁদে পড়ে মরতে মরতে রক্ষা পায় একটি বাঘিনী। ফাঁদে আটকা প্রাণীটির অসহায় চাহনির ছবি মানবিক মানুষদের আবেগকে নাড়া দেয়। আহত বাঘিনীটিকে উদ্ধার করে বন বিভাগ, চিকিৎসার জন্য গাজীপুর থেকে ভেটেরিনারি চিকিৎসক নিয়ে আসা হয়। এখন প্রশ্ন জাগতে পারে খুলনায় আহত বন্যপ্রাণীর চিকিৎসায় সুদূর গাজীপুর থেকে চিকিৎসক আনা লাগবে কেন? আসলে আহত বাঘিনীর চিকিৎসার বিষয়টি সামনে আসতেই দেশে বন্যপ্রাণীদের প্রতি চরম অবহেলার বিষয়টিও সামনে এসেছে এবার। জানা গেলো, মাত্র দুজন চিকিৎসক দিয়ে চলছে দেশের সব বন্যপ্রাণীর চিকিৎসা!

অথচ আহত প্রাণীদের দ্রুত চিকিৎসা না দিতে পারায় বাড়ে প্রাণীর মৃত্যুঝুঁকি। গবেষকেরা বলছেন, বিভাগীয় পর্যায়ে আধুনিক হাসপাতাল গড়ে তোলা জরুরি। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জানিয়েছেন, এরই মধ্যে চিকিৎসকসহ ৫২টি নতুন পদ সৃষ্টি হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই নিয়োগ হবে।

বাগেরহাট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সুন্দরবন থেকে আহত বাঘিনীটি উদ্ধারের পর খুলনায় ছিল না কোনো প্রশিক্ষিত চিকিৎসক। তাই গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে নেওয়া হয় দক্ষ চিকিৎসক। সুন্দরবনে প্রাণীর জন্য চিকিৎসক নিতে হয় গাজীপুর ও কক্সবাজার থেকে। নষ্ট হয় সময়, বাড়ে মৃত্যুঝুঁকি।

গবেষকেরা বলছেন, সুন্দরবন থেকে প্রাণী লোকালয়ে ঢুকে পড়ে মানুষের সাথে সংঘর্ষে ঘটে হতাহত। আবার সাতক্ষীরা-শ্যামনগর থেকে প্রায়ই উদ্ধার হয় পাচার হওয়া প্রাণী। অথচ সেখানে নেই কোনো চিকিৎসক।

বন্যপ্রাণী গবেষক ড. আলী রেজা খান বলেন, ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুরে হাতি-মানুষ দ্বন্দ্বে ঘটে হতাহত। উজানে ভারত থেকে ভেসে আসে হাতি, গন্ডার। শীতের মৌসুমে ভিড় করে শকুনসহ পরিযায়ী পাখি।

তবে এ বিষয়ে পরিবেশ ও বন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলছেন, বণ্যপ্রাণী রক্ষায় কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন হচ্ছে। বরাদ্দ পেলেই বিভাগীয় পর্যায়ে চিকিৎসক নিয়োগ ও আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ হবে।

সুন্দরবনে বাঘিনী চিকিৎসায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপককে প্রধান করে চার সদস্যের কমিটি গঠন হয়েছে। তাঁরা জানান, বাম হাতের ক্ষত সেরে গেলেই বাঘিনীকে বনে ছেড়ে দেওয়া হবে।