সংবাদ শিরোনাম ::
Logo পাবলো এসকোবারের ‘কোকেন’ জলহস্তীদের নিয়ে বিপাকে কলম্বিয়া Logo জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হতে পারে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা Logo আজ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা Logo ১৬ এপ্রিলের আবহাওয়া স্বস্তিদায়ক হতে পারে, তবে এরপর আবার গরম Logo মিরসরাইয়ে হরিণ জবাই! জড়িতদের ধরতে বন বিভাগের অভিযান Logo জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের নতুন নির্দেশনা Logo প্রাণী নির্যাতন বন্ধে সরকারের কাছে আইনি নোটিশ Logo কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপার ক্ষোভ: এই পৃথিবীতে সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণী মানুষ Logo পহেলা বৈশাখে আকাশ থাকতে পারে মেঘলা, তাপপ্রবাহ চলছে, সঙ্গে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা Logo পহেলা বৈশাখে বন্ধ থাকবে মেট্রোরেলের দুটি স্টেশন
নাসার প্রতিবেদন

মাত্র ৫ বছরে বৈশ্বিক আবহাওয়ায় নাটকীয় পরিবর্তন, চরম রূপ নিচ্ছে বন্যা-খরা

মাত্র ৫ বছরে বৈশ্বিক আবহাওয়ায় নাটকীয় পরিবর্তন, চরম রূপ নিচ্ছে বন্যা-খরা

মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার নতুন তথ্য থেকে জানা গেছে যে, গত পাঁচ বছরে খরা এবং বন্যার মতো আবহাওয়া সংক্রান্ত ঘটনার তীব্রতা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

গবেষণায় দেখা গেছে, এই ধরনের চরম ঘটনাগুলি আরও ঘন ঘন, দীর্ঘস্থায়ী এবং আরও তীব্র হয়ে উঠছে, গত বছরের পরিসংখ্যান ২০০৩-২০২০ সালের গড়ের দ্বিগুণে পৌঁছেছে।

 

এই তীব্রতা আগে থেকে অনুমান করা যায়নি। গবেষকরা বলছেন, নাসার গ্রেস স্যাটেলাইটের সতর্ক দৃষ্টি থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ পরিসংখ্যান দেখে তারা বিস্মিত এবং শঙ্কিত, যা গ্রহের পরিবেশগত পরিবর্তনগুলি সুক্ষ্মভাবে তুলে ধরেছে। তারা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনই এই আপাত প্রবণতার সবচেয়ে সম্ভাব্য কারণ, যদিও চরম তাপমাত্রার তীব্রতা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের চেয়েও দ্রুত সময়ে ঘটে চলেছে।

 

আবহাওয়া অফিসের একজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, অনেক আগেই তীব্র তাপপ্রবাহ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, এখন বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, মানুষ এই ধরনের চরম আবহাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল না, এসব পূর্বের অভিজ্ঞতার বাইরে।

গার্ডিয়ানের গ্রাফিকসে চরম আবহাওয়া বৃদ্ধির প্রবণতা

সাম্প্রতিক গবেষণাটি এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে পর্যালোচনা করা হয়নি। গবেষকরা বলেছেন এটিকে একটি প্রবণতা হিসেবে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করতে তাদের আরও ১০ বা তার বেশি বছর সময় লাগবে।

 

এই তথ্যটি নাসার গদার্দ স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের হাইড্রোলজিক্যাল সায়েন্সেস ল্যাবরেটরির ড. বেইলিং লি সহ-প্রযোজনা করেন – যা মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ সিস্টেম সায়েন্স ইন্টারডিসিপ্লিনারি সেন্টারের সাথে সম্পর্কিত।

 

তিনি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানকে বলেছেন: “আমরা এখনও এই চরম আবহাওয়ার কার্যকারণ প্রমাণ করতে পারছি না – আমাদের আরও দীর্ঘ ও বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত প্রয়োজন হবে। এখানে ঠিক কী ঘটছে তা নির্ধারণ করা কঠিন, তবে অন্যান্য ঘটনাগুলি ইঙ্গিত দেয় যে (বিশ্ব) উষ্ণায়নই এসব ঘটাচ্ছে। আমরা বিশ্বজুড়ে আরও বেশি করে চরম ঘটনা দেখতে পাচ্ছি, তাই এটি অবশ্যই উদ্বেগজনক।”

 

তার সহকর্মী ড.ম্যাথিউ রোডেল, গডার্ডের হাইড্রোলজিক সায়েন্সেসের প্রধান, সর্বশেষ তথ্যের উপর সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন, কিন্তু স্বীকার করেছেন যে তিনিও ধ্বংসাত্মক ঘটনার প্রবণতার এই বাড়বাড়ন্ত দেখে চিন্তিত। তার ভাষ্যে, “এটি অবশ্যই ভীতিকর।”

 

গার্ডিয়ানকে মেট অফিস এবং এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক রিচার্ড বেটস নাসার প্রতিবেদন সম্পর্কে বলেন: “এটি স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেয় যে একটি উষ্ণ গ্রহের অর্থ আরও ভয়াবহ বন্যা এবং খরা। এটি অনেক আগে থেকেই ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল, কিন্তু এখন বাস্তবে দেখা যাচ্ছে।”

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

পাবলো এসকোবারের ‘কোকেন’ জলহস্তীদের নিয়ে বিপাকে কলম্বিয়া

নাসার প্রতিবেদন

মাত্র ৫ বছরে বৈশ্বিক আবহাওয়ায় নাটকীয় পরিবর্তন, চরম রূপ নিচ্ছে বন্যা-খরা

আপডেট সময় ০৪:২৮:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫

মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার নতুন তথ্য থেকে জানা গেছে যে, গত পাঁচ বছরে খরা এবং বন্যার মতো আবহাওয়া সংক্রান্ত ঘটনার তীব্রতা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

গবেষণায় দেখা গেছে, এই ধরনের চরম ঘটনাগুলি আরও ঘন ঘন, দীর্ঘস্থায়ী এবং আরও তীব্র হয়ে উঠছে, গত বছরের পরিসংখ্যান ২০০৩-২০২০ সালের গড়ের দ্বিগুণে পৌঁছেছে।

 

এই তীব্রতা আগে থেকে অনুমান করা যায়নি। গবেষকরা বলছেন, নাসার গ্রেস স্যাটেলাইটের সতর্ক দৃষ্টি থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ পরিসংখ্যান দেখে তারা বিস্মিত এবং শঙ্কিত, যা গ্রহের পরিবেশগত পরিবর্তনগুলি সুক্ষ্মভাবে তুলে ধরেছে। তারা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনই এই আপাত প্রবণতার সবচেয়ে সম্ভাব্য কারণ, যদিও চরম তাপমাত্রার তীব্রতা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের চেয়েও দ্রুত সময়ে ঘটে চলেছে।

 

আবহাওয়া অফিসের একজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, অনেক আগেই তীব্র তাপপ্রবাহ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, এখন বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, মানুষ এই ধরনের চরম আবহাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল না, এসব পূর্বের অভিজ্ঞতার বাইরে।

গার্ডিয়ানের গ্রাফিকসে চরম আবহাওয়া বৃদ্ধির প্রবণতা

সাম্প্রতিক গবেষণাটি এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে পর্যালোচনা করা হয়নি। গবেষকরা বলেছেন এটিকে একটি প্রবণতা হিসেবে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করতে তাদের আরও ১০ বা তার বেশি বছর সময় লাগবে।

 

এই তথ্যটি নাসার গদার্দ স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের হাইড্রোলজিক্যাল সায়েন্সেস ল্যাবরেটরির ড. বেইলিং লি সহ-প্রযোজনা করেন – যা মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ সিস্টেম সায়েন্স ইন্টারডিসিপ্লিনারি সেন্টারের সাথে সম্পর্কিত।

 

তিনি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানকে বলেছেন: “আমরা এখনও এই চরম আবহাওয়ার কার্যকারণ প্রমাণ করতে পারছি না – আমাদের আরও দীর্ঘ ও বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত প্রয়োজন হবে। এখানে ঠিক কী ঘটছে তা নির্ধারণ করা কঠিন, তবে অন্যান্য ঘটনাগুলি ইঙ্গিত দেয় যে (বিশ্ব) উষ্ণায়নই এসব ঘটাচ্ছে। আমরা বিশ্বজুড়ে আরও বেশি করে চরম ঘটনা দেখতে পাচ্ছি, তাই এটি অবশ্যই উদ্বেগজনক।”

 

তার সহকর্মী ড.ম্যাথিউ রোডেল, গডার্ডের হাইড্রোলজিক সায়েন্সেসের প্রধান, সর্বশেষ তথ্যের উপর সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন, কিন্তু স্বীকার করেছেন যে তিনিও ধ্বংসাত্মক ঘটনার প্রবণতার এই বাড়বাড়ন্ত দেখে চিন্তিত। তার ভাষ্যে, “এটি অবশ্যই ভীতিকর।”

 

গার্ডিয়ানকে মেট অফিস এবং এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক রিচার্ড বেটস নাসার প্রতিবেদন সম্পর্কে বলেন: “এটি স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেয় যে একটি উষ্ণ গ্রহের অর্থ আরও ভয়াবহ বন্যা এবং খরা। এটি অনেক আগে থেকেই ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল, কিন্তু এখন বাস্তবে দেখা যাচ্ছে।”