মানিকগঞ্জের দৌলতপুরের দুর্গম চর কলিকাপুরে অসহায় দুঃস্থদের শীতবস্ত্র ও বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে প্রকৃতি ও জীবন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। হাতের নাগালে স্বাস্থ্যসেবা ও ঔষধ পেয়ে আনন্দিত সুবিধাবঞ্চিতরা। প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান সুধিজনদের।
দিনপঞ্জিতে অগ্রহায়ণের মধ্যভাগ হলেও দেশজুড়ে শীত নেমেছে আরও অন্তত সপ্তাহ দেড়েক আগেই। শিশির মোড়ানো সকালে যখন সূর্য উঁকি দিচ্ছে, তখন কর্মব্যস্ত মানিকগঞ্জের জাফরগঞ্জ ঘাট। নৌকায় বোঝাই করা হচ্ছে, জরুরি ওষুধ ও উষ্ণতা। বিচিত্র জনপদ ও জীবনযুদ্ধের চিত্র পেরিয়ে যমুনার বুকে দীর্ঘ নৌযাত্রা। গন্তব্য দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের দুর্গম চর কলিকাপুর।

মানচিত্র ধরে মানিকগঞ্জ রাজধানীর যতোটা কাছে আর সহজগম্য, দৌলতপুরের চর কলিকাপুর ততোটাই দুর্গম। হাল আমলের অধিকাংশ সুবিধাবঞ্চিত এই জনপদের প্রধান বাহন সনাতন ঘোড়ার গাড়ি। বিস্তীর্ণ মেঠোপথ আর নির্মল দৃশ্যপট যতোটা আকর্ষণীয়, এখনকার জীবন-জীবিকা ততোটাই রুক্ষ।
ঋতুচক্রের পালাবদলে জেঁকে বসা শীতে প্রান্তিক মানুষের শীতবস্ত্র ও স্বাস্থ্যসেবা অনেকটাই অধরা। এমন পরিস্থিতিতে প্রান্তিক এই জনপদে স্বস্তি ও উষ্ণতার বার্তা নিয়ে প্রকৃতি ও জীবন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র।
দুর্মূল্যের বাজারে বিনামূল্য স্বাস্থ্যসেবা ও কম্বল পেয়ে স্বস্তি জানিয়েছেন সুবিধাবঞ্চিতরা।

শুধু সাময়িক সহায়তা কিংবা সেবাই নয়, দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও উদ্যোগের তাগিদ সুধিজনদের।
প্রকৃতি ও জীবন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, ‘চরাঞ্চলের দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই মহতী কাজটি করতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমি মনে করি যে মানুষের সেবায় আরও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান, সংস্থাও যেন আন্তরিকতার হাত বাড়িয়ে দেয়।’
প্রান্তিক জনপদের জীবনমান উন্নয়ন ছাড়া দেশের টেকসই অগ্রযাত্রা নিশ্চিত অসম্ভব বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
মূল প্রতিবেদন: মোশাহিদ রনি
ভিডিওচিত্রে: আব্দুল করিম
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 



















