সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার ভিডিও বার্তা Logo বৈধ অস্ত্র ৩১ জানুয়ারির মধ্যে থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশ Logo সিলেটে ট্রেনের ধাক্কায় মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়া হাতির অবস্থা আশঙ্কাজনক Logo সড়কজুড়ে অবৈধ বালুর ব্যবসা, হুমকির মুখে পরিবেশ Logo শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ Logo কেন ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ও অন্তর্বর্তী সরকার: প্রেস উইংয়ের ব্যাখ্যা Logo যে উপায়ে কাপড়ের কঠিন দাগ সহজে দূর করা যায় Logo ইরানে বিক্ষোভ-সহিংসতায় নিহত বেড়ে ৫ হাজার, ইসরায়েল-আমেরিকাকে দায়ী করলেন খামেনি Logo প্লাস্টিক বর্জ্য পুড়িয়ে ধান সেদ্ধ! বাতাসে, খাদ্যে, ফসলে বিষ Logo জুলাই যোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে পৃথক বিভাগ করার প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

মার্কিন আদালতে মাদুরো: ‘আমি নির্দোষ, আমিই আমার দেশের প্রেসিডেন্ট, আমাকে অপহরণ করা হয়েছে’

মার্কিন আদালতে মাদুরো: ‘আমি নির্দোষ, আমিই আমার দেশের প্রেসিডেন্ট, আমাকে অপহরণ করা হয়েছে’

নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মাদক-সন্ত্রাসবাদ মামলায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, আমি আমার দেশের প্রেসিডেন্ট, আমাকে তুলে নিয়ে আসা হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ম্যানহাটনের আদালতে মাদুরো ও তার স্ত্রী  সিলিয়া ফ্লোরেসকে হাজির করা হয়। সিলিয়া ফ্লোরেসও আদালতে মাদক সম্পর্কিত অভিযোগ থেকে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

 

আদালতকক্ষে ঢোকার সময় হাসিমুখে, শার্ট ও ট্রাউজার পরা মাদুরো নরম স্বরে কথা বলছিলেন।

 

মাদুরোর মামলার বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টাইন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো পড়ে শোনানোর পর তার বক্তব্য জানতে চান।

 

মাদুরো আদালতে দোভাষীর মাধ্যমে স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমি ভেনেজুয়েলা প্রজাতন্ত্রের   প্রেসিডেন্ট এবং গত ৩ জানুয়ারি শনিবার আমাকে অপহরণ করা হয়েছে, ‘ভেনেজুয়েলার কারাকাসে আমার বাড়ি থেকে আমাকে আটক করা হয়েছে।’

 

শুনানি নিয়ে আদালত আগামী ১৭ মার্চ মাদুরোর পরবর্তী হাজিরার দিন ধার্য করেন। বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টাইন এ নির্দেশ দিয়েছেন।

 

এর আগে, সোমবার ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে কড়া নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে তোলা হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ফটোগ্রাফারের তোলা ছবিতে দেখা গেছে, মাদুরোকে একটি হেলিকপ্টার থেকে নামিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সদস্যরা। এ সময় মাদুরোর হাত বাঁধা ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ইউএস কোড ৮৪১-এর অধীনে ২৮০ গ্রামের বেশি ক্র্যাক কোকেন বা ৫ কিলোগ্রামের বেশি কোকেন বিতরণ বা বিতরণের উদ্দেশ্যে নিজের কাছে রাখার ষড়যন্ত্রের জন্য ন্যূনতম ১০ বছর থেকে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১ কোটি ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

 

কর্নেল ল’ স্কুলের তথ্য অনুযায়ী, ইউএস কোড ৯৬০-এর আওতায় মাদক-সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে, ধারা ৮৪১-এর ন্যূনতম শাস্তির অন্তত দ্বিগুণ কারাদণ্ড হতে পারে। এর অর্থ ন্যূনতম শাস্তি কমপক্ষে ২০ বছর।

 

২০২০ সালে ট্রাম্পের আগের মেয়াদে মাদক-সন্ত্রাসবাদ, কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র এবং অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগে মাদুরোসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছিল। ওই মামলায় অবশ্য মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের নাম ছিল না।

 

২০২০ সালের ওই অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, মাদুরো কলম্বিয়ার গেরিলা সংগঠন ফার্কের সঙ্গে কাজ করেছেন। অভিযোগপত্রে তাকে ‘কার্টেল দে লস সোলেস’-এর নেতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

 

প্রসঙ্গত, শনিবার ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে পরিচালিত এক আকস্মিক অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায় মার্কিন ডেল্টা ফোর্স। একটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে রাষ্ট্রপ্রধানকে তুল নেয়ার ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। তবে সেসব তোয়াক্কা না করে লাতিন আমেরিকার আরও কয়েকটি দেশে হামলা চালানোর প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার ভিডিও বার্তা

মার্কিন আদালতে মাদুরো: ‘আমি নির্দোষ, আমিই আমার দেশের প্রেসিডেন্ট, আমাকে অপহরণ করা হয়েছে’

আপডেট সময় ১২:২৭:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মাদক-সন্ত্রাসবাদ মামলায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, আমি আমার দেশের প্রেসিডেন্ট, আমাকে তুলে নিয়ে আসা হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ম্যানহাটনের আদালতে মাদুরো ও তার স্ত্রী  সিলিয়া ফ্লোরেসকে হাজির করা হয়। সিলিয়া ফ্লোরেসও আদালতে মাদক সম্পর্কিত অভিযোগ থেকে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

 

আদালতকক্ষে ঢোকার সময় হাসিমুখে, শার্ট ও ট্রাউজার পরা মাদুরো নরম স্বরে কথা বলছিলেন।

 

মাদুরোর মামলার বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টাইন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো পড়ে শোনানোর পর তার বক্তব্য জানতে চান।

 

মাদুরো আদালতে দোভাষীর মাধ্যমে স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমি ভেনেজুয়েলা প্রজাতন্ত্রের   প্রেসিডেন্ট এবং গত ৩ জানুয়ারি শনিবার আমাকে অপহরণ করা হয়েছে, ‘ভেনেজুয়েলার কারাকাসে আমার বাড়ি থেকে আমাকে আটক করা হয়েছে।’

 

শুনানি নিয়ে আদালত আগামী ১৭ মার্চ মাদুরোর পরবর্তী হাজিরার দিন ধার্য করেন। বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টাইন এ নির্দেশ দিয়েছেন।

 

এর আগে, সোমবার ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে কড়া নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে তোলা হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ফটোগ্রাফারের তোলা ছবিতে দেখা গেছে, মাদুরোকে একটি হেলিকপ্টার থেকে নামিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সদস্যরা। এ সময় মাদুরোর হাত বাঁধা ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ইউএস কোড ৮৪১-এর অধীনে ২৮০ গ্রামের বেশি ক্র্যাক কোকেন বা ৫ কিলোগ্রামের বেশি কোকেন বিতরণ বা বিতরণের উদ্দেশ্যে নিজের কাছে রাখার ষড়যন্ত্রের জন্য ন্যূনতম ১০ বছর থেকে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১ কোটি ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

 

কর্নেল ল’ স্কুলের তথ্য অনুযায়ী, ইউএস কোড ৯৬০-এর আওতায় মাদক-সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে, ধারা ৮৪১-এর ন্যূনতম শাস্তির অন্তত দ্বিগুণ কারাদণ্ড হতে পারে। এর অর্থ ন্যূনতম শাস্তি কমপক্ষে ২০ বছর।

 

২০২০ সালে ট্রাম্পের আগের মেয়াদে মাদক-সন্ত্রাসবাদ, কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র এবং অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগে মাদুরোসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছিল। ওই মামলায় অবশ্য মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের নাম ছিল না।

 

২০২০ সালের ওই অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, মাদুরো কলম্বিয়ার গেরিলা সংগঠন ফার্কের সঙ্গে কাজ করেছেন। অভিযোগপত্রে তাকে ‘কার্টেল দে লস সোলেস’-এর নেতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

 

প্রসঙ্গত, শনিবার ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে পরিচালিত এক আকস্মিক অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায় মার্কিন ডেল্টা ফোর্স। একটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে রাষ্ট্রপ্রধানকে তুল নেয়ার ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। তবে সেসব তোয়াক্কা না করে লাতিন আমেরিকার আরও কয়েকটি দেশে হামলা চালানোর প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।