দিন দিন তীব্রতর হচ্ছে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বৈরিতা। উত্তর ক্যারিবীয় সাগর তীরবর্তী দেশটিতে এখনো সরাসরি হামলার ঘোষণা দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে হামলার সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়ে গেছে।
রণতরীর সঙ্গে যুক্ত হবে ১৫ হাজার মার্কিন সেনা এবং ২ হাজার মেরিন। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে তিনি ‘মনে মনে সিদ্ধান্ত’ নিয়েছেন। তবে বিষয়টি স্পষ্ট করেননি।
এরই মধ্যে খবর এসেছে যে, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলা করার জন্য প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র। এমনটি জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম এনপিআর।
ইতোমধ্যে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে পাঁচ দিনব্যাপী নৌ মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। এজন্য যুদ্ধবিমানবাহী বিশ্বের সবচেয়ে বড় রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড পৌঁছাবে উত্তর ক্যারিবীয় সাগরে।
এদিকে ভেনেজুয়েলার কার্টেল দে লোস সোলেসকে যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় যুক্ত করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এই কার্টেল বা চক্রটি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর নেতৃত্বে চলে বলে অভিযোগ ওয়াশিংটনের।
রোববার এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ওই চক্রটিকে আগামী ২৪ নভেম্বর থেকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন (এফটিও) হিসেবে বিবেচনা করার পরিকল্পনা করছে।
এর অর্থ, সেদিন থেকে মাদুরোও কার্যত সন্ত্রাসী হিসেবেই বিবেচিত হবেন। যুক্তরাষ্ট্র তাকে এই কার্টেলের প্রধান হিসেবে দেখলেও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
নিজস্ব উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌসেনাদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে সারা দেশে বড় পরিসরে সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে ভেনেজুয়েলা।
যুক্তরাষ্ট্র ‘সাউদার্ন স্পিয়ার’ নামে একটি অভিযান ঘোষণা করেছে। তারা বলছে, পশ্চিম গোলার্ধে ‘মাদক চোরাচালানকারীদের’ লক্ষ্য করে এ অভিযান চালানো হবে।
উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকায় কারাকাসে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেখানকার কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর অজুহাত হিসেবে এমন তৎপরতা চালাচ্ছে।
কারাকাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল বলেন, ‘আমরা মার্কিন সাম্রাজ্যকে বলব, তারা যেন দুঃসাহস না করে: আমরা প্রস্তুত আছি।’
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 



















