সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার ভিডিও বার্তা Logo বৈধ অস্ত্র ৩১ জানুয়ারির মধ্যে থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশ Logo সিলেটে ট্রেনের ধাক্কায় মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়া হাতির অবস্থা আশঙ্কাজনক Logo সড়কজুড়ে অবৈধ বালুর ব্যবসা, হুমকির মুখে পরিবেশ Logo শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ Logo কেন ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ও অন্তর্বর্তী সরকার: প্রেস উইংয়ের ব্যাখ্যা Logo যে উপায়ে কাপড়ের কঠিন দাগ সহজে দূর করা যায় Logo ইরানে বিক্ষোভ-সহিংসতায় নিহত বেড়ে ৫ হাজার, ইসরায়েল-আমেরিকাকে দায়ী করলেন খামেনি Logo প্লাস্টিক বর্জ্য পুড়িয়ে ধান সেদ্ধ! বাতাসে, খাদ্যে, ফসলে বিষ Logo জুলাই যোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে পৃথক বিভাগ করার প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

যে প্রাণীরা ভূমিকম্প কয়েকদিন আগেই টের পায়, জেনে নিন এরকম কয়েকটি ঘটনা

যে প্রাণীরা ভূমিকম্প কয়েকদিন আগেই টের পায়, জেনে নিন এরকম কয়েকটি ঘটনা

এখন পর্যন্ত মানুষ যে প্রযুক্তিতে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস পাচ্ছে তাতে দুর্যোগটি ঘটার বড়জোর আধ ঘণ্টা আগে সাধারণ মানুষকে সতর্কর্বাতা দেয়া যাচ্ছে। কিন্তু প্রাণী জগতে এমন কয়েকটি প্রাণী আছে যারা ভূমিকম্প হতে যাচ্ছে তার আভাস কয়েকদিন আগেই টের পেয়ে যায়।

 

পৃথিবীতে ভূমিকম্পের আগাম সংকেত কোন প্রাণী সবচেয়ে আগে বুঝতে পারে তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে কুনো ব্যাঙ হলো সেই প্রাণী, যারা সবচেয়ে আগে ভূমিকম্পের সংকেত পেয়ে যায়।

 

গবেষকদের মতে, ভূমিকম্পের পাঁচ থেকে সাত দিন আগে কুনো ব্যাঙ তাদের স্বাভাবিক বসবাসের জায়গা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যায়। এই আচরণের আকস্মিক পরিবর্তনই ভূমিকম্পের আগাম ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

কেবল ব্যাঙ নয়, সাপ, মাছ, হাতি, গাধা এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখিও ভূমিকম্পের আগের পরিবেশগত পরিবর্তনগুলো অনুভব করতে সক্ষম। তবে ব্যাঙদের প্রতিক্রিয়া সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট, নিয়মিত এবং দ্রুত দেখা যায়।

ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রাচীন গ্রিসের হেলাইক শহরটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ধ্বংস হওয়ার কয়েকদিন আগে থেকে ইঁদুর, সাপ এবং শতপদীরা পালিয়ে গিয়েছিল বলে জানা গেছে।

 

১৯৭৫ সালে চীনের হাইচেং-এর কর্তৃপক্ষ দেখতে পায় প্রচণ্ড শীতেও সাপেরা তাদের গর্ত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে! এছাড়া বিভিন্ন প্রাণীর অস্বাভাবিক আচরণ দেখা যায়। এসব পর্যবেক্ষণ করার পর কর্তৃপক্ষ শহরটি খালি করার নির্দেশ দেয়। এতে করে শহরটিতে ৭.৩ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানলেও অনেক জীবন রক্ষা পায়।

 

আরেকটি এমন ঘটনা আছে ইতালিতে, ২০০৯ সালে। সেইবছর লা’আকিলায় ৬.৩ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানার পাঁচ দিন আগে ব্যাঙেদের দেখা যাচ্ছিল তাদের স্বাভাবিক প্রজনন স্থান হঠাৎ করে ছেড়ে চলে যাচ্ছে!

 

বিজ্ঞানীদের মতে, প্রাণীরা ‘পি-ওয়েভ’ (প্রাইমারি ওয়েভ) নামে পরিচিত অতি সূক্ষ্ম কম্পন অনুভব করতে পারে, যা মানুষের পক্ষে ধরা প্রায় অসম্ভব। এই কম্পন থেকেই তারা বিপদের আগাম সংকেত বুঝতে পারে।

 

ভূমিকম্পের সময় প্রাণীরা অস্থির হয়ে পড়ার পাশাপাশি গর্তে আশ্রয় নেয় অথবা পানি ও গাছপালার কাছে নিরাপদ অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করে, যা তাদের বেঁচে থাকার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ।

 

সংক্ষেপে বলা যায়, কুনো ব্যাঙ প্রথমে ভূমিকম্পের সংকেত অনুভব করে, এরপর সাপ, পাখি, মাছ, গাধা এবং হাতিসহ অন্যান্য প্রাণীরা পর্যায়ক্রমে সেই সংকেত গ্রহণ করে বিপদ থেকে নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা করে।

 

এই গবেষণা আমাদের প্রকৃতির অদ্ভুত সংবেদনশীলতা এবং প্রাণীদের বিশেষ ক্ষমতার প্রতি নতুন আলো ফেলেছে। ভূমিকম্পের আগাম সতর্কতা ব্যবস্থায় প্রাণীদের এই আচরণকে ভবিষ্যতে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা যেতে পারে।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার ভিডিও বার্তা

যে প্রাণীরা ভূমিকম্প কয়েকদিন আগেই টের পায়, জেনে নিন এরকম কয়েকটি ঘটনা

আপডেট সময় ০৫:০৩:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

এখন পর্যন্ত মানুষ যে প্রযুক্তিতে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস পাচ্ছে তাতে দুর্যোগটি ঘটার বড়জোর আধ ঘণ্টা আগে সাধারণ মানুষকে সতর্কর্বাতা দেয়া যাচ্ছে। কিন্তু প্রাণী জগতে এমন কয়েকটি প্রাণী আছে যারা ভূমিকম্প হতে যাচ্ছে তার আভাস কয়েকদিন আগেই টের পেয়ে যায়।

 

পৃথিবীতে ভূমিকম্পের আগাম সংকেত কোন প্রাণী সবচেয়ে আগে বুঝতে পারে তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে কুনো ব্যাঙ হলো সেই প্রাণী, যারা সবচেয়ে আগে ভূমিকম্পের সংকেত পেয়ে যায়।

 

গবেষকদের মতে, ভূমিকম্পের পাঁচ থেকে সাত দিন আগে কুনো ব্যাঙ তাদের স্বাভাবিক বসবাসের জায়গা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যায়। এই আচরণের আকস্মিক পরিবর্তনই ভূমিকম্পের আগাম ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

কেবল ব্যাঙ নয়, সাপ, মাছ, হাতি, গাধা এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখিও ভূমিকম্পের আগের পরিবেশগত পরিবর্তনগুলো অনুভব করতে সক্ষম। তবে ব্যাঙদের প্রতিক্রিয়া সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট, নিয়মিত এবং দ্রুত দেখা যায়।

ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রাচীন গ্রিসের হেলাইক শহরটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ধ্বংস হওয়ার কয়েকদিন আগে থেকে ইঁদুর, সাপ এবং শতপদীরা পালিয়ে গিয়েছিল বলে জানা গেছে।

 

১৯৭৫ সালে চীনের হাইচেং-এর কর্তৃপক্ষ দেখতে পায় প্রচণ্ড শীতেও সাপেরা তাদের গর্ত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে! এছাড়া বিভিন্ন প্রাণীর অস্বাভাবিক আচরণ দেখা যায়। এসব পর্যবেক্ষণ করার পর কর্তৃপক্ষ শহরটি খালি করার নির্দেশ দেয়। এতে করে শহরটিতে ৭.৩ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানলেও অনেক জীবন রক্ষা পায়।

 

আরেকটি এমন ঘটনা আছে ইতালিতে, ২০০৯ সালে। সেইবছর লা’আকিলায় ৬.৩ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানার পাঁচ দিন আগে ব্যাঙেদের দেখা যাচ্ছিল তাদের স্বাভাবিক প্রজনন স্থান হঠাৎ করে ছেড়ে চলে যাচ্ছে!

 

বিজ্ঞানীদের মতে, প্রাণীরা ‘পি-ওয়েভ’ (প্রাইমারি ওয়েভ) নামে পরিচিত অতি সূক্ষ্ম কম্পন অনুভব করতে পারে, যা মানুষের পক্ষে ধরা প্রায় অসম্ভব। এই কম্পন থেকেই তারা বিপদের আগাম সংকেত বুঝতে পারে।

 

ভূমিকম্পের সময় প্রাণীরা অস্থির হয়ে পড়ার পাশাপাশি গর্তে আশ্রয় নেয় অথবা পানি ও গাছপালার কাছে নিরাপদ অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করে, যা তাদের বেঁচে থাকার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ।

 

সংক্ষেপে বলা যায়, কুনো ব্যাঙ প্রথমে ভূমিকম্পের সংকেত অনুভব করে, এরপর সাপ, পাখি, মাছ, গাধা এবং হাতিসহ অন্যান্য প্রাণীরা পর্যায়ক্রমে সেই সংকেত গ্রহণ করে বিপদ থেকে নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা করে।

 

এই গবেষণা আমাদের প্রকৃতির অদ্ভুত সংবেদনশীলতা এবং প্রাণীদের বিশেষ ক্ষমতার প্রতি নতুন আলো ফেলেছে। ভূমিকম্পের আগাম সতর্কতা ব্যবস্থায় প্রাণীদের এই আচরণকে ভবিষ্যতে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা যেতে পারে।