এনবিসি নিউজের প্রতিবেদন

রাশিয়া-ইউক্রেন বাফার জোনে বাংলাদেশ থেকে সেনা নেওয়া হতে পারে!

রাশিয়া-ইউক্রেন বাফার জোনে বাংলাদেশ থেকে সেনা নেওয়া হতে পারে!

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তিচুক্তি হলে উভয় দেশের মধ্যে যে বাফার জোন হবে তা পর্যবেক্ষণে নেতৃত্ব দেবে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, এই বাফার জোনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সৌদি আরব বা বাংলাদেশের মতো ন্যাটো-বহির্ভূত দেশগুলোর সেনা সদস্য মোতায়েন করা হতে পারে।

 

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, এই বাফার জোন পর্যবেক্ষণে নেতৃত্ব দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, আর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সৌদি আরব বা বাংলাদেশের মতো ন্যাটো-বহির্ভূত দেশগুলোর সেনা সদস্য মোতায়েন করা হতে পারে।

 

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এমন চারজনের বরাতে এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার ভবিষ্যত আক্রমণ থেকে ইউক্রেনকে রক্ষার জন্য পরিকল্পনা করা বাফার জোনটি একটি বৃহৎ সামরিক নিরস্ত্রীকরণ অঞ্চল হবে। এটি সৌদি আরব কিংবা বাংলাদেশের মতো এক বা একাধিক ন্যাটো বহির্ভূত দেশের সৈন্য দ্বারা সুরক্ষিত হতে পারে।

 

তবে শীঘ্রই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ কিংবা দুই দেশের প্রেসিডেন্টকে একত্রে বৈঠকে বসানোর কোনো সম্ভাবনা না থাকায় এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে হতাশা বাড়ছে বলেও এনবিসি জানিয়েছে।

 

যুদ্ধ বন্ধে আলাস্কায় গত মাসে ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মুখোমুখি বসেছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত শান্তি চুক্তির ব্যাপারে মস্কোর সম্মত হওয়ার কোনো প্রকাশ্য লক্ষণ দেখা যায়নি। অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বসার ব্যাপারেও কোনো ইতিবাচক বার্তা পুতিনের কাছ থেকে এখনও আসেনি।

 

প্রসঙ্গত, বাফার জোন হলো দুটি সংঘাতময় বা সংবেদনশীল এলাকার মধ্যে অবস্থিত একটি নিরপেক্ষ বা নিয়ন্ত্রিত এলাকা, যা উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘাত বা নেতিবাচক প্রভাব প্রতিরোধ করে।

 

গত আগস্টের মাঝামাঝি হোয়াইট হাউসে ইউরোপীয় নেতা এবং ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, রাশিয়ার সঙ্গে চলা যুদ্ধ বন্ধে যেকোনো চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। ওই আশ্বাসের প্রেক্ষিতে ট্রাম্পের সঙ্গে সেই বৈঠককে ‘সেরা বৈঠক’ বলে মন্তব্য করেছিলেন জেলেনস্কি। তিনি বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র শুধু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে সমন্বয়ই করবে না, নিরাপত্তা নিশ্চয়তার অংশীদারও হবে- স্পষ্ট এমন ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটি বড় একটি অগ্রগতি বলে আমি মনে করি।’ তবে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে নিরাপত্তা সহায়তা দেবে তা স্পষ্ট করেননি কেউ।

 

এদিকে, শুক্রবার পুতিন বিদেশি সেনা মোতায়েনের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, শান্তিচুক্তি হলে রাশিয়া তা পূর্ণভাবে মানবে। তাই অন্য দেশের সেনার উপস্থিতির কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

অবহেলার জীবনগাছে পরিবেশবান্ধব অর্থনীতির নতুন আশা

এনবিসি নিউজের প্রতিবেদন

রাশিয়া-ইউক্রেন বাফার জোনে বাংলাদেশ থেকে সেনা নেওয়া হতে পারে!

আপডেট সময় ১২:৫১:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তিচুক্তি হলে উভয় দেশের মধ্যে যে বাফার জোন হবে তা পর্যবেক্ষণে নেতৃত্ব দেবে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, এই বাফার জোনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সৌদি আরব বা বাংলাদেশের মতো ন্যাটো-বহির্ভূত দেশগুলোর সেনা সদস্য মোতায়েন করা হতে পারে।

 

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, এই বাফার জোন পর্যবেক্ষণে নেতৃত্ব দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, আর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সৌদি আরব বা বাংলাদেশের মতো ন্যাটো-বহির্ভূত দেশগুলোর সেনা সদস্য মোতায়েন করা হতে পারে।

 

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এমন চারজনের বরাতে এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার ভবিষ্যত আক্রমণ থেকে ইউক্রেনকে রক্ষার জন্য পরিকল্পনা করা বাফার জোনটি একটি বৃহৎ সামরিক নিরস্ত্রীকরণ অঞ্চল হবে। এটি সৌদি আরব কিংবা বাংলাদেশের মতো এক বা একাধিক ন্যাটো বহির্ভূত দেশের সৈন্য দ্বারা সুরক্ষিত হতে পারে।

 

তবে শীঘ্রই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ কিংবা দুই দেশের প্রেসিডেন্টকে একত্রে বৈঠকে বসানোর কোনো সম্ভাবনা না থাকায় এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে হতাশা বাড়ছে বলেও এনবিসি জানিয়েছে।

 

যুদ্ধ বন্ধে আলাস্কায় গত মাসে ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মুখোমুখি বসেছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত শান্তি চুক্তির ব্যাপারে মস্কোর সম্মত হওয়ার কোনো প্রকাশ্য লক্ষণ দেখা যায়নি। অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বসার ব্যাপারেও কোনো ইতিবাচক বার্তা পুতিনের কাছ থেকে এখনও আসেনি।

 

প্রসঙ্গত, বাফার জোন হলো দুটি সংঘাতময় বা সংবেদনশীল এলাকার মধ্যে অবস্থিত একটি নিরপেক্ষ বা নিয়ন্ত্রিত এলাকা, যা উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘাত বা নেতিবাচক প্রভাব প্রতিরোধ করে।

 

গত আগস্টের মাঝামাঝি হোয়াইট হাউসে ইউরোপীয় নেতা এবং ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, রাশিয়ার সঙ্গে চলা যুদ্ধ বন্ধে যেকোনো চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। ওই আশ্বাসের প্রেক্ষিতে ট্রাম্পের সঙ্গে সেই বৈঠককে ‘সেরা বৈঠক’ বলে মন্তব্য করেছিলেন জেলেনস্কি। তিনি বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র শুধু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে সমন্বয়ই করবে না, নিরাপত্তা নিশ্চয়তার অংশীদারও হবে- স্পষ্ট এমন ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটি বড় একটি অগ্রগতি বলে আমি মনে করি।’ তবে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে নিরাপত্তা সহায়তা দেবে তা স্পষ্ট করেননি কেউ।

 

এদিকে, শুক্রবার পুতিন বিদেশি সেনা মোতায়েনের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, শান্তিচুক্তি হলে রাশিয়া তা পূর্ণভাবে মানবে। তাই অন্য দেশের সেনার উপস্থিতির কোনো যৌক্তিকতা নেই।