সংবাদ শিরোনাম ::
Logo গণভোটের প্রচারে অন্তর্বর্তী সরকারের নানা কর্মসূচি Logo গ্যাস সংকটের মুখে এলপিজি আমদানির ঋণ সুবিধা সহজ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক Logo নিহত আনুমানিক ৫০০! ইরানে হচ্ছেটা কী! দেশটির নতুন বিক্ষোভের কারণ ও ঘটনাপ্রবাহ দেখুন টাইমলাইনে Logo ৬৬ সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সরে যাওয়ায় বাংলাদেশে সম্ভাব্য প্রভাব Logo দূষিত বাতাসে সোমবারও এক নম্বর ঢাকা Logo বিলুপ্ত জাতের প্রাণী সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি : মৎস্য উপদেষ্টা Logo যে কারণে হলো তাহসান-রোজার বিবাহ বিচ্ছেদ Logo আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠক Logo আজ কিংবদন্তী চলচ্চিত্র নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলামের প্রয়াণ দিবস Logo আজ বায়ুদূষণের তালিকার শীর্ষে ঢাকা, বাতাসের মান ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’

শতাব্দীর ভয়াবহ খরার কবলে ইরাক; এখন ‘তেলের বিনিময়ে পানি’ চুক্তিতেই ভরসা  

শতাব্দীর ভয়াবহ খরার কবলে ইরাক; এখন ‘তেলের বিনিময়ে পানি’ চুক্তিতেই ভরসা  

৪ কোটি ৬০ লাখ জনসংখ্যার ইরাক এখন যেন পুরোটাই কারবালা। বিষাদসিন্ধুর সেই কারবালায় আমরা জানি একবিন্দু পানির জন্য কত হাহাকার করেছিল হাসান-হোসাইনের আপনজনেরা। আজ কারবালার সেই ইরাকে আবার পানির জন্য হাহাকার। দেশটি বছরজুড়ে খরা, ধারাবাহিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং নদীর পানিপ্রবাহ হ্রাসের মুখোমুখি হচ্ছে। উজানে বাঁধ, যুদ্ধ আর সরকারি অব্যবস্থাপনার কারণে আগে থেকেই নড়বড়ে ছিল ইরাকের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। সব মিলিয়ে গত ১০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরার মুখে পড়েছে ইরাক।

 

ইরাকের এই পানিশূন্যতার জন্য মূলত ইরান ও তুরস্কে নির্মিত উজানের বাঁধগুলোকে দায়ী করা হচ্ছে, যেগুলো প্রাচীনকাল থেকে ইরাককে সেচ সুবিধা দেওয়া শক্তিশালী ফোরাত ও দজলা নদীর প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমিয়ে দিয়েছে। এর ওপর আবার ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে এসেছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরার মুখে পড়েছে ইরাক।

চরম পানি সংকটে নিজেদের সবচেয়ে দামি সম্পদ ‘তেল’–কে কাজে লাগাচ্ছে ইরাক। দেশটিকে তেলের বিনিময়ে পানি ব্যবস্থাপনা করে দিচ্ছে তুরস্ক।

 

বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে, ইরাকের পানির উৎসের প্রায় ৬০ শতাংশই আসে প্রতিবেশী দেশ তুরস্ক থেকে। তবে উজানে বাঁধ নির্মাণের কারণে আগের চেয়ে অনেক কম পানি পাচ্ছে দেশটি। এই সংকট কাটাতে এবার তুরস্কের সঙ্গে বিতর্কিত একটি সহযোগিতা চুক্তিতে গেছে বাগদাদ। সহজ কথায়, এই চুক্তির মূল বিষয় হলো—ইরাকের তেল আয়ের বিনিময়ে দেশটির পানি অবকাঠামো উন্নয়ন করে দেবে তুরস্ক।

 

ইরাকি গ্রিন ক্লাইমেট অর্গানাইজেশনের প্রধান ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ মুখতার খামিস বলেন, তুরস্ক দজলা ও ফোরাত নদীর উজানে যেসব বাঁধ দিয়েছে, তা ইরাকে পানির প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমিয়ে দিচ্ছে। এতে ইরাকের চলমান পানি সংকট আরও গভীর হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরের পর বছর ধরে চলা দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে পানি বণ্টন নিয়ে দরকষাকষিতে ইরাক বেশ দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। সংকট যখন চরমে, তখনই তুরস্কের সঙ্গে এই সহযোগিতা চুক্তি করল বাগদাদ।

 

বিষয়টি অনেকটা তেলের বিনিময়ে পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টার মতো।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

গণভোটের প্রচারে অন্তর্বর্তী সরকারের নানা কর্মসূচি

শতাব্দীর ভয়াবহ খরার কবলে ইরাক; এখন ‘তেলের বিনিময়ে পানি’ চুক্তিতেই ভরসা  

আপডেট সময় ০৬:১২:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

৪ কোটি ৬০ লাখ জনসংখ্যার ইরাক এখন যেন পুরোটাই কারবালা। বিষাদসিন্ধুর সেই কারবালায় আমরা জানি একবিন্দু পানির জন্য কত হাহাকার করেছিল হাসান-হোসাইনের আপনজনেরা। আজ কারবালার সেই ইরাকে আবার পানির জন্য হাহাকার। দেশটি বছরজুড়ে খরা, ধারাবাহিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং নদীর পানিপ্রবাহ হ্রাসের মুখোমুখি হচ্ছে। উজানে বাঁধ, যুদ্ধ আর সরকারি অব্যবস্থাপনার কারণে আগে থেকেই নড়বড়ে ছিল ইরাকের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। সব মিলিয়ে গত ১০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরার মুখে পড়েছে ইরাক।

 

ইরাকের এই পানিশূন্যতার জন্য মূলত ইরান ও তুরস্কে নির্মিত উজানের বাঁধগুলোকে দায়ী করা হচ্ছে, যেগুলো প্রাচীনকাল থেকে ইরাককে সেচ সুবিধা দেওয়া শক্তিশালী ফোরাত ও দজলা নদীর প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমিয়ে দিয়েছে। এর ওপর আবার ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে এসেছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরার মুখে পড়েছে ইরাক।

চরম পানি সংকটে নিজেদের সবচেয়ে দামি সম্পদ ‘তেল’–কে কাজে লাগাচ্ছে ইরাক। দেশটিকে তেলের বিনিময়ে পানি ব্যবস্থাপনা করে দিচ্ছে তুরস্ক।

 

বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে, ইরাকের পানির উৎসের প্রায় ৬০ শতাংশই আসে প্রতিবেশী দেশ তুরস্ক থেকে। তবে উজানে বাঁধ নির্মাণের কারণে আগের চেয়ে অনেক কম পানি পাচ্ছে দেশটি। এই সংকট কাটাতে এবার তুরস্কের সঙ্গে বিতর্কিত একটি সহযোগিতা চুক্তিতে গেছে বাগদাদ। সহজ কথায়, এই চুক্তির মূল বিষয় হলো—ইরাকের তেল আয়ের বিনিময়ে দেশটির পানি অবকাঠামো উন্নয়ন করে দেবে তুরস্ক।

 

ইরাকি গ্রিন ক্লাইমেট অর্গানাইজেশনের প্রধান ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ মুখতার খামিস বলেন, তুরস্ক দজলা ও ফোরাত নদীর উজানে যেসব বাঁধ দিয়েছে, তা ইরাকে পানির প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমিয়ে দিচ্ছে। এতে ইরাকের চলমান পানি সংকট আরও গভীর হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরের পর বছর ধরে চলা দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে পানি বণ্টন নিয়ে দরকষাকষিতে ইরাক বেশ দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। সংকট যখন চরমে, তখনই তুরস্কের সঙ্গে এই সহযোগিতা চুক্তি করল বাগদাদ।

 

বিষয়টি অনেকটা তেলের বিনিময়ে পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টার মতো।