শীতের মৌসুমে বাইক নিয়ে সফর যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনই এই সময় রাস্তায় নামার আগে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন থাকে।
ভোরের ঘন কুয়াশা, হিমেল হাওয়া আর হঠাৎ কমে যাওয়া দৃশ্যমানতা বাইক রাইডকে কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। তাই নিরাপদ ও সাবলীল ভ্রমণের জন্য বাইকে কিছু জরুরি গ্যাজেট রাখা এখন সময়ের দাবি।
রাইডারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হেলমেটে অ্যান্টি-ফগ ভাইজার বা স্প্রে ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি, যা কুয়াশার মধ্যেও সামনের রাস্তা স্পষ্ট দেখতে সাহায্য করে।
এছাড়া বাইকের নিজস্ব হেডলাইটের পাশাপাশি শক্তিশালী অক্সিলিয়ারি ফগ লাইট সংযোজন করলে রাস্তার গর্ত বা সামনের বাধা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
দীর্ঘ ভ্রমণে শীতের তীব্রতায় হাত জমে গেলে বাইকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয় থাকে। এক্ষেত্রে হিটেড গ্রিপ বা উন্নত মানের থার্মাল গ্লাভস হাত উষ্ণ রেখে ক্লাচ ও ব্রেকের ওপর সঠিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
পাশাপাশি টায়ার প্রেশার মনিটরিং সিস্টেম বা টিপিএমএস ব্যবহার করলে যাত্রাপথেই টায়ারের বাতাসের খবর পাওয়া যায়, যা স্কিড করার ঝুঁকি কমায়।
সফরে মোবাইল ফোনই নেভিগেশন ও যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। কিন্তু ঠান্ডায় ফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়ার প্রবণতা থাকে, তাই বাইকে ইউএসবি চার্জার বা সাথে পাওয়ার ব্যাঙ্ক রাখা আবশ্যিক। কুয়াশার মধ্যে বারবার পকেট থেকে ফোন বের করা বিপজ্জনক হতে পারে, তাই ভালো মানের ফোন মাউন্ট বা জিপিএস ডিভাইস সরাসরি চোখের সামনে দিকনির্দেশনা পেতে সহায়ক হয়।
দৃশ্যমানতা কম থাকা অবস্থায় অন্য যানবাহনের চালকদের নজর কাড়তে বাইকে রিফ্লেকটিভ স্টিকার বা অতিরিক্ত এলইডি ইন্ডিকেটর লাগানো নিরাপদ। এছাড়া ব্লুটুথ হেলমেট ইন্টারকম ব্যবহার করলে রাস্তা থেকে চোখ না সরিয়েই নেভিগেশনের নির্দেশ শোনা বা কল রিসিভ করা সম্ভব হয়।
জরুরি অবস্থায় বা বাইকে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে ব্যবহারের জন্য সাথে একটি ছোট এলইডি টর্চ বা হেডল্যাম্প রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
সবশেষে, সফরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসওএস বা ট্র্যাকিং ডিভাইস ব্যবহার করা উচিত, যাতে দুর্ঘটনা বা বিপদে পরিবার ও বন্ধুরা দ্রুত অবস্থান জানতে পারে এবং প্রয়োজনীয় সাহায্য পাঠাতে পারে।
এই ছোট ছোট গ্যাজেটগুলো আপনার শীতকালীন বাইক সফরকে যেমন নিরাপদ করবে, তেমনই করে তুলবে অনেক বেশি আনন্দদায়ক।
ডেস্ক রিপোর্ট 
























