বিদায় নিচ্ছে শীত। শীত বিদায় নেওয়ার সাথে সাথেই ভারী কম্বল আর সোয়েটারগুলোকে আলমারিতে তুলে রাখার সময় চলে আসে। তবে অগোছালোভাবে রেখে দিলে পরের বছর এগুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে বা ভ্যাপসা গন্ধ হতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নিয়মে পরিষ্কার ও সংরক্ষণ করলেই শীতের পোশাক দীর্ঘদিন ভালো রাখা সম্ভব।
প্রথম ধাপেই সব শীতের পোশাক ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া জরুরি। অনেকেই মনে করেন, কম পরা জামাকাপড় ধোয়ার দরকার নেই। কিন্তু কাপড়ে ঘাম, ধুলো ও শরীরের তেল লেগে থাকে, যা দীর্ঘদিন জমে থাকলে দাগ, দুর্গন্ধ বা পোকামাকড়ের সমস্যা তৈরি করতে পারে। উলের সোয়েটার হালকা ডিটারজেন্ট বা শ্যাম্পু দিয়ে ধোয়া ভালো, আর ভারী কোট বা ব্লেজার হলে ড্রাই ক্লিন করানোই নিরাপদ। ধোয়ার পর পোশাক পুরোপুরি শুকনো করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য ভেজাভাব থাকলেও ফাঙ্গাস বা ছত্রাক জন্মাতে পারে। তাই রোদে বা খোলা বাতাসে ভালোভাবে শুকিয়ে তবেই ভাঁজ করুন।
বিশেষজ্ঞরা জানান, উলের পোশাক দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখা ঠিক নয়, এতে পোশাকের আকৃতি নষ্ট হতে পারে। পরিষ্কার করে ভাঁজ করে রাখা সবচেয়ে ভালো। কটন ব্যাগ বা ঢাকনাওয়ালা স্টোরেজ বক্স ব্যবহার করলে পোশাক নিরাপদ থাকে। প্লাস্টিক ব্যাগে আর্দ্রতা জমতে পারে, তাই সেদিকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
পোকামাকড়ের হাত থেকে বাঁচাতে ন্যাপথলিন বল, নিমপাতা বা ল্যাভেন্ডার পাউচ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এগুলো সরাসরি কাপড়ে না রেখে আলাদা কাপড়ে মুড়ে রাখলে কাপড়ে তীব্র গন্ধ বসে না। এছাড়া পোশাক রাখার আলমারি বা স্টোরেজ জায়গা পরিষ্কার ও শুকনো রাখা জরুরি। মাঝে মাঝে আলমারি খুলে বাতাস লাগালে স্যাঁতসেঁতে ভাব কমে যায়।
কাপড় তুলে রাখার আগে অবশ্যই তা পরিষ্কার করে নিতে হবে। অল্প সময়ের জন্য পরা হলেও তাতে ঘাম বা ধুলোবালি লেগে থাকতে পারে, যা দীর্ঘ সময় আলমারিতে থাকলে দাগ বা দুর্গন্ধ তৈরি করে। কাপড়ের কোণায় বা ভাঁজে ন্যাপথলিন ব্যবহার করুন। তবে খেয়াল রাখবেন যেন তা সরাসরি কাপড়ের গায়ে না লেগে থাকে (কাগজে মুড়িয়ে দিতে পারেন)। শুকনো নিমপাতা বা কালোজিরা ছোট কাপড়ের পুটলি করে কাপড়ের ফাঁকে রেখে দিতে পারেন। এটি প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবে দারুণ কাজ করে।
কাপড় গুছিয়ে রাখার সময় পকেটে কিছু আছে কি না তা ভালো করে পরীক্ষা করে নিন। অনেক সময় টিস্যু বা চকোলেট থেকে কাপড়ে স্থায়ী দাগ পড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য যত্ন আর পরিকল্পনাই শীতের পোশাককে দীর্ঘদিন নতুনের মতো রাখতে পারে। তাই শীত বিদায়ের এই সময়েই সঠিকভাবে গুছিয়ে রাখুন।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 
























