সংবাদ শিরোনাম ::
Logo এবার মুস্তাফিজকে নিয়ে মুখ খুললেন সাকিব আল হাসান Logo বাঘ-হাতি হত্যা করলে ৭ বছর জেল, ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অন্যান্য প্রাণী শিকারেও দ্বিগুণ শাস্তি Logo নির্বাচনে ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা Logo হাইড্রোজেন ওয়াটার যে উপকারে আসে Logo ট্রাম্পের সামরিক বৈঠক, ইরানও প্রস্তুত! দুই দেশ কি তবে শিগগিরই যুদ্ধে জড়াচ্ছে? Logo তাহসান-রোজার বিচ্ছেদ নিয়ে পাওয়া গেল চাঞ্চল্যকর তথ্য Logo এবার স্পন্সরশিপ হারাচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেট Logo মাত্র ২ চিকিৎসক দিয়ে দেশের সব বন্যপ্রাণীর চিকিৎসা! Logo মুহাম্মদ মনির হোসেন সম্পাদিত ‘নদীকাহন’ গ্রন্থের পাঠ উন্মোচন Logo শ্রমিকরাই মূলত দেশ গড়ার কারিগর: ড. মঈন খান

শৈলকূপায় একের পর এক বন্যপ্রাণী হত্যা, নির্বিকার প্রশাসন!

শৈলকূপায় একের পর এক বন্যপ্রাণী হত্যা, নির্বিকার প্রশাসন!

দেশে বন্যপ্রাণী হত্যা আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অথচ প্রাণী হত্যা থেমে নেই। জনসচেতনতার অভাব, নির্বিকার প্রশাসন ও শাস্তির ব্যবস্থা না হওয়ায় দেশের প্রত্যন্ত জনপদগুলোতে বন্যপ্রাণী হত্যা চলছে, এমনকি এসব প্রাণী আক্রমণাত্মক হিংস্র না হলেও মানুষের হিংস্রতার শিকার হচ্ছে। গত কয়েক মাসে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় একের পর এক ঘটে চলেছে বন্যপ্রাণী হত্যা। এই নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে গ্রামেরকাগজ নামের একটি পত্রিকার অনলাইনে।

 

এম হাসান মুসা নামের এক সংবাদকর্মী তার প্রতিবেদনে জানিয়েছেন: গত জুনে শৈলকুপার হাকিমপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে খাবারের খোঁজে একটি  কুমির রাতে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে, শিকার হয় নির্মমতার। উত্তেজিত জনতা কুমিরটিকে পিটিয়ে হত্যা করে এবং উল্লাস করতে থাকে। এই ঘটনার এক মাস না পেরোতেই গড়াই নদীতে জেলেদের জালে আটকে পড়ে একটি শুশুক। আহত এই প্রাণীটিকে মেরে ফেলা হয়।

 

সর্বশেষ, শৈলকুপা পৌরসভার সাতগাছিতে ঘটে আরও একটি মর্মান্তিক ঘটনা। একটি মেছো বিড়াল ধানের ক্ষেতে আশ্রয় নিলে ধান কাটা মেশিনে গুরুতর আহত হয়। আহত অবস্থায় স্থানীয় জনগণ তাকে পিটিয়ে হত্যা করে। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে আরেকটি মেছো বিড়াল পিটিয়ে মেরেছিল স্থানীয়রা।

 

এভাবে একের পর এক বিরল প্রজাতির প্রাণী হত্যার ঘটনা স্থানীয় পরিবেশে মারাত্মক বিপর্যয়ের আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।

 

বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ কার্যকর রয়েছে। এই আইন অনুযায়ী, যেকোনো বন্যপ্রাণী হত্যা, শিকার, বা তাদের বাসস্থান ধ্বংস করা একটি গুরুতর অপরাধ। এই আইনের তফসিল-১ অনুযায়ী, কুমির, শুশুক এবং মেছোবাঘ হলো সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী। এদের হত্যা করলে বা ক্ষতিসাধন করলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

 

এই আইনের ধারা ৩৮ (১) অনুযায়ী, সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী হত্যা বা শিকার করলে দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ এক লক্ষ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে।

 

একই অপরাধ দ্বিতীয়বার করলে শাস্তির মাত্রা আরও বাড়ে, যা সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা দুই লক্ষ টাকা জরিমানা বা উভয় হতে পারে।

 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শৈলকূপায় যখন একের পর এক এমন ঘটনা ঘটছে, তখন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। প্রাণীদের সুরক্ষায় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না তাদের।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

এবার মুস্তাফিজকে নিয়ে মুখ খুললেন সাকিব আল হাসান

শৈলকূপায় একের পর এক বন্যপ্রাণী হত্যা, নির্বিকার প্রশাসন!

আপডেট সময় ০৪:৩৬:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৫

দেশে বন্যপ্রাণী হত্যা আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অথচ প্রাণী হত্যা থেমে নেই। জনসচেতনতার অভাব, নির্বিকার প্রশাসন ও শাস্তির ব্যবস্থা না হওয়ায় দেশের প্রত্যন্ত জনপদগুলোতে বন্যপ্রাণী হত্যা চলছে, এমনকি এসব প্রাণী আক্রমণাত্মক হিংস্র না হলেও মানুষের হিংস্রতার শিকার হচ্ছে। গত কয়েক মাসে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় একের পর এক ঘটে চলেছে বন্যপ্রাণী হত্যা। এই নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে গ্রামেরকাগজ নামের একটি পত্রিকার অনলাইনে।

 

এম হাসান মুসা নামের এক সংবাদকর্মী তার প্রতিবেদনে জানিয়েছেন: গত জুনে শৈলকুপার হাকিমপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে খাবারের খোঁজে একটি  কুমির রাতে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে, শিকার হয় নির্মমতার। উত্তেজিত জনতা কুমিরটিকে পিটিয়ে হত্যা করে এবং উল্লাস করতে থাকে। এই ঘটনার এক মাস না পেরোতেই গড়াই নদীতে জেলেদের জালে আটকে পড়ে একটি শুশুক। আহত এই প্রাণীটিকে মেরে ফেলা হয়।

 

সর্বশেষ, শৈলকুপা পৌরসভার সাতগাছিতে ঘটে আরও একটি মর্মান্তিক ঘটনা। একটি মেছো বিড়াল ধানের ক্ষেতে আশ্রয় নিলে ধান কাটা মেশিনে গুরুতর আহত হয়। আহত অবস্থায় স্থানীয় জনগণ তাকে পিটিয়ে হত্যা করে। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে আরেকটি মেছো বিড়াল পিটিয়ে মেরেছিল স্থানীয়রা।

 

এভাবে একের পর এক বিরল প্রজাতির প্রাণী হত্যার ঘটনা স্থানীয় পরিবেশে মারাত্মক বিপর্যয়ের আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।

 

বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ কার্যকর রয়েছে। এই আইন অনুযায়ী, যেকোনো বন্যপ্রাণী হত্যা, শিকার, বা তাদের বাসস্থান ধ্বংস করা একটি গুরুতর অপরাধ। এই আইনের তফসিল-১ অনুযায়ী, কুমির, শুশুক এবং মেছোবাঘ হলো সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী। এদের হত্যা করলে বা ক্ষতিসাধন করলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

 

এই আইনের ধারা ৩৮ (১) অনুযায়ী, সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী হত্যা বা শিকার করলে দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ এক লক্ষ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে।

 

একই অপরাধ দ্বিতীয়বার করলে শাস্তির মাত্রা আরও বাড়ে, যা সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা দুই লক্ষ টাকা জরিমানা বা উভয় হতে পারে।

 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শৈলকূপায় যখন একের পর এক এমন ঘটনা ঘটছে, তখন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। প্রাণীদের সুরক্ষায় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না তাদের।