শ্রমিকরাই মূলত দেশ গড়ার কারিগর: ড. মঈন খান

শ্রমিকরাই মূলত দেশ গড়ার কারিগর: ড. মঈন খান

শ্রমিকরাই মূলত দেশ গড়ার কারিগর উল্লেখ করে ড. মঈন খান বলেন, শ্রমিকের অধিকার বাস্তবায়নের বিষয়টি ৫৪ বছর আগেই আমাদের সংবিধানে লিখিত আকারে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তাহলে কেন আজ আবার এই অধিকার নিয়ে নতুন করে দাবি তুলতে হচ্ছে?

রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে সোমবার (১২ জানুয়ারি) ন্যাশনাল কনভেনশন অন লেবার মেনিফেস্টো শীর্ষক আলোচনায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

ড. মঈন খান বলেন, ১৮৮৬ সালে যেদিন শ্রমিকেরা বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিল। সে সময়ও দাবি দাওয়া ছিল শ্রমিকেরা ৮ ঘণ্টা কাজ করবে। সেদিন থেকে শুরু করে আজকে প্রায় ১৫০ বছরেরও অধিক সময় পার হয়ে গেছে তবুও তারা তাদের এই দাবি বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সম্পদ সৃষ্টি। সম্পদ সৃষ্টির মাধ্যমেই দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব। এর জন্য সঠিক ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ অপরিহার্য।

শ্রমিকরাই মূলত দেশ গড়ার কারিগর: ড. মঈন খান prokritibarta

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ‘শ্রমিক ইশতেহার’ প্রসঙ্গে বলেন, দেশের শ্রমিক আন্দোলন ও শ্রমিকদের স্বার্থে যারা দীর্ঘদিন কাজ করেছেন, তাদের সহায়তায় একটি পূর্ণাঙ্গ ‘শ্রমিক ইশতেহার’ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে যারা ক্ষমতায় আসবে, এই ইশতেহার বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব তাদের ওপরই বর্তাবে।

তিনি বলেন, যারা ক্ষমতার বাইরে থাকবে, তাদের দায়িত্ব হবে এই ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারকে নিয়মিত চাপ প্রয়োগ করা।

শ্রমিকরাই মূলত দেশ গড়ার কারিগর: ড. মঈন খান prokritibarta

সভায় বিলসের নির্বাহী পরিচালক ও শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান সুলতান উদ্দিন আহমেদ ইশতেহারের ১৫ দফা দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— শ্রম আইন সংশোধনের মাধ্যমে সকল শ্রমিকের (প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক) আইনি স্বীকৃতি, নিবন্ধন ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা। শোভন ও মর্যাদাপূর্ণ কাজের অধিকার নিশ্চিত করা। স্থায়ী কাজে আউটসোর্সিং বা অস্থায়ী নিয়োগ বন্ধ করা। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করে ভারসাম্যপূর্ণ মজুরি কাঠামো প্রণয়ন করা। নারী, পুরুষ, প্রতিবন্ধী ও আদিবাসী শ্রমিকের জন্য সমান মজুরি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক করা। মাতৃত্বকালীন ছুটি সবেতনে ৬ মাসে উন্নীত করা এবং শিশুশ্রম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

সভায় শ্রমিক ইশতেহারে যেসব দাবি তুলে ধরা হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে সব রাজনৈতিক দলের সহায়তা চান বক্তারা।

শ্রমিকরাই মূলত দেশ গড়ার কারিগর: ড. মঈন খান prokritibarta

শ্রমিক অধিকার জাতীয় এডভোকেসি এলায়েন্স (বিলস) আয়োজিত এ সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় অ্যাডভোকেসি এলায়েন্সের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মেসবাহ উদ্দীন আহমেদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের,বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলি আকন্দ, বাংলাদেশ জাসদ-এর কেন্দ্রীয় নেতা নাজমুল হক প্রধান, গণঅধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি আব্দুর রহমান, এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আরিফুর রহমান,প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের হেড অফ ইভেন্ট খন্দকার আহমেদ শাহেদ, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর এ এম এম খায়রুল আনামসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যাক্তিবর্গ।

প্লাস্টিক দূষণ রোধে বৈশ্বিক চুক্তির আলোচনা করতে নতুন নেতা নির্বাচিত  

শ্রমিকরাই মূলত দেশ গড়ার কারিগর: ড. মঈন খান

আপডেট সময় ০৯:২৫:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
শ্রমিকরাই মূলত দেশ গড়ার কারিগর উল্লেখ করে ড. মঈন খান বলেন, শ্রমিকের অধিকার বাস্তবায়নের বিষয়টি ৫৪ বছর আগেই আমাদের সংবিধানে লিখিত আকারে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তাহলে কেন আজ আবার এই অধিকার নিয়ে নতুন করে দাবি তুলতে হচ্ছে?

রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে সোমবার (১২ জানুয়ারি) ন্যাশনাল কনভেনশন অন লেবার মেনিফেস্টো শীর্ষক আলোচনায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

ড. মঈন খান বলেন, ১৮৮৬ সালে যেদিন শ্রমিকেরা বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিল। সে সময়ও দাবি দাওয়া ছিল শ্রমিকেরা ৮ ঘণ্টা কাজ করবে। সেদিন থেকে শুরু করে আজকে প্রায় ১৫০ বছরেরও অধিক সময় পার হয়ে গেছে তবুও তারা তাদের এই দাবি বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সম্পদ সৃষ্টি। সম্পদ সৃষ্টির মাধ্যমেই দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব। এর জন্য সঠিক ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ অপরিহার্য।

শ্রমিকরাই মূলত দেশ গড়ার কারিগর: ড. মঈন খান prokritibarta

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ‘শ্রমিক ইশতেহার’ প্রসঙ্গে বলেন, দেশের শ্রমিক আন্দোলন ও শ্রমিকদের স্বার্থে যারা দীর্ঘদিন কাজ করেছেন, তাদের সহায়তায় একটি পূর্ণাঙ্গ ‘শ্রমিক ইশতেহার’ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে যারা ক্ষমতায় আসবে, এই ইশতেহার বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব তাদের ওপরই বর্তাবে।

তিনি বলেন, যারা ক্ষমতার বাইরে থাকবে, তাদের দায়িত্ব হবে এই ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারকে নিয়মিত চাপ প্রয়োগ করা।

শ্রমিকরাই মূলত দেশ গড়ার কারিগর: ড. মঈন খান prokritibarta

সভায় বিলসের নির্বাহী পরিচালক ও শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান সুলতান উদ্দিন আহমেদ ইশতেহারের ১৫ দফা দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— শ্রম আইন সংশোধনের মাধ্যমে সকল শ্রমিকের (প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক) আইনি স্বীকৃতি, নিবন্ধন ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা। শোভন ও মর্যাদাপূর্ণ কাজের অধিকার নিশ্চিত করা। স্থায়ী কাজে আউটসোর্সিং বা অস্থায়ী নিয়োগ বন্ধ করা। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করে ভারসাম্যপূর্ণ মজুরি কাঠামো প্রণয়ন করা। নারী, পুরুষ, প্রতিবন্ধী ও আদিবাসী শ্রমিকের জন্য সমান মজুরি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক করা। মাতৃত্বকালীন ছুটি সবেতনে ৬ মাসে উন্নীত করা এবং শিশুশ্রম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

সভায় শ্রমিক ইশতেহারে যেসব দাবি তুলে ধরা হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে সব রাজনৈতিক দলের সহায়তা চান বক্তারা।

শ্রমিকরাই মূলত দেশ গড়ার কারিগর: ড. মঈন খান prokritibarta

শ্রমিক অধিকার জাতীয় এডভোকেসি এলায়েন্স (বিলস) আয়োজিত এ সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় অ্যাডভোকেসি এলায়েন্সের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মেসবাহ উদ্দীন আহমেদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের,বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলি আকন্দ, বাংলাদেশ জাসদ-এর কেন্দ্রীয় নেতা নাজমুল হক প্রধান, গণঅধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি আব্দুর রহমান, এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আরিফুর রহমান,প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের হেড অফ ইভেন্ট খন্দকার আহমেদ শাহেদ, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর এ এম এম খায়রুল আনামসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যাক্তিবর্গ।