খুব দ্রুত সময়ে প্রবল শক্তিধর হয়ে ওঠা ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহ (দিতওয়া অথবা দিত্য) তাণ্ডব চালিয়েছে দ্বীপদেশ শ্রীলংকায়। এখন পর্যন্ত ১৬০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সামুদ্রিক এই দানবীয় ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হচ্ছে, নিখোঁজ ২০০ জনের বেশি, বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যা। মূলত প্রাণহানির মূল কারণ ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধস।
এ পরিস্থিতিতে দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সরকার। ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহ’র আঘাতে বিপর্যস্ত শ্রীলংকার পাশে দাঁড়াতে বিশেষ মানবিক সহায়তা প্রকল্প ‘অপারেশন সাগরবন্ধু’ শুরু করেছে ভারত, এতে অংশ নিচ্ছে ভারতীয় নৌবাহিনী।

শ্রীলংকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে, দুর্যোগ থেকে বাঁচতে ১ লাখ ৮ হাজারের বেশি মানুষ সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন।
ঘূর্ণিঝড় দিতওয়ার প্রভাবে সৃষ্ট ভয়াবহ এই বন্যায় দুই লাখেরও বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২০ হাজারের বেশি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। বিদ্যুৎ ও সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় এখনো নেই বিদ্যুৎ কিংবা নিরাপদ পানি।

কেলানি নদীর পানির স্তর দ্রুত বাড়তে থাকায় কয়েকটি এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কেন্দ্রীয় জেলা কান্ডি ও বাদুল্লা। এসব এলাকার অনেক গ্রাম এখনো বিচ্ছিন্ন।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহ দুর্বল হয়ে ভারতের উপকূলের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে। এতে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাডু ও অন্ধ্রপ্রদেশে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতেও জারি করা হয়েছে একই সতর্কতা। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ইতোমধ্যেই উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বেড়েছে। আর এরই জেরে বাতিল হয়েছে বহু ফ্লাইট।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 




















