সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা, টানা ৪ দিনের ছুটিতে দেশ Logo ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের Logo ৮ ইউএনওকে বদলির আদেশ বাতিল Logo সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জাতিসংঘের ঐতিহাসিক চুক্তি কার্যকর, স্বাগত জানালো চীন Logo মাঘে শীত কেন কম লাগছে? যা বলছে আবহাওয়া অধিদপ্তর Logo বদ্বীপে নতুন বিপদ: সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির চেয়েও দ্রুত নামছে মাটির স্তর Logo বিশ্বকাপ খেলতে হলে বাংলাদেশকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজি হতে হবে! Logo নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু: মানতে হবে ইসির আচরণবিধি Logo প্রকৃতি ও জীবনের ৪০০ তম পর্ব ‘চর ও জীবন’ Logo ভারতে যদি বাংলাদেশ না খেলে তাহলে বিশ্বকাপে বিকল্প দল নেবে আইসিসি

সবুজ দিয়ে নবীনবরণ করলো ঢাবির লাল বাস ‘কিঞ্চিৎ’  

  • নাসিমুল শুভ
  • আপডেট সময় ০৯:২১:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫
  • 568

সবুজ দিয়ে নবীনবরণ করলো ঢাবির লাল বাস ‘কিঞ্চিৎ’  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপরিচিত প্রতীকগুলোর একটি হলো অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের প্রিয় পরিবহন লাল বাস। বাসগুলোর আছে বাহারি সব নাম, আলাদা পরিচয়! উল্লাস, ক্ষণিকা, চৈতালি, তরঙ্গ, কিঞ্চিৎ, মৈত্রী, আনন্দ- এমন সব নাম। আছে বাংলা মাস ও ঋতুর নামও! বৈশাখী, শ্রাবণ, ফাল্গুনী, হেমন্ত, বসন্ত! বাদ যায়নি বারো ভূঁইয়াও! বাসের নাম যে ঈশা খাঁ! বাহারি এসব বাংলা নামে একতলা-দোতলা (ডাবল ডেকার) বাসগুলো ছোটে রাজধানী ও শহরতলীর দিকে। ভোগান্তির ঢাকা  মহানগরে লাল বাস ভরসা, জ্যামে আটকা সময়ে গান-বাজনায় শ্রান্তি ভোলানো ভ্রাম্যমাণ ক্লাব, সব মিলিয়ে প্রতিদিনের যাত্রী অর্থাৎ ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে এসব বাস যেন আরেক পরিবার। বাসগুলো পরিচালনা করে শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত বাৎসরিক কমিটি। এসব বাসের রয়েছে নিজ নিজ নামে ফেসবুক পেইজ, যাতে থাকে রুটসহ নানা তথ্য। কমিটিগুলো আলাদাভাবে নবীনবরণ, ইফতার মাহফিল, ট্যুর সহ নানা আয়োজন করে। ১৯৮১ সালে ৭টি লাল বাসের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিবহন ব্যবস্থা চালু করে। বর্তমানে আরামবাগ, মালিবাগ, মৌচাক রুটে চলে ডাবল ডেকার ‘কিঞ্চিৎ’। নামে কিঞ্চিৎ হলেও বাস সার্ভিসটি নিজেই যেন এক প্রতিষ্ঠান হয়ে গেছে। এবার ক্যাম্পাসের এই ‘সিনিয়র’ বাস সার্ভিস ‘কিঞ্চিৎ’ নতুন এক উদাহরণ এবং দায়িত্বশীলতার নতুন নজির স্থাপন করলো।

বৃহস্পতিবার (২৮ অগাস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসএসি অডিটোরিয়ামে ব্যতিক্রমী এই নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কিঞ্চিৎ বাস কমিটি ২০২৫-২৬। এই আয়োজনে শামিল হয় প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন।

কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাস কমিটির নবীনবরণে থাকবে নাচ-গান, আনন্দ আর খাওয়াদাওয়া! এখানে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের কাজ কী?  এমন প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক, অনুষ্ঠান শুরুর আগে স্বল্প কথায় এই প্রশ্নের উত্তর দিলেন কিঞ্চিৎ বাস কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী সামিহা সামান্থা।

প্রকৃতিবন্ধুর হাত থেকে শুভেচ্ছা উপহার গাছের চারা নিচ্ছেন কিঞ্চিৎ বাস কমিটি ২০২৫-২৬ এর সাধারণ সম্পাদক সামিহা সামান্থা

পরিবেশের প্রতি শিক্ষার্থীদের দায় রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কিঞ্চিতের এবারের নবীনবরণ আয়োজনের উদ্দেশ্য ছিল নতুনদের সবুজের সাথে সম্পৃক্ত করা। আমরা চেয়েছি যেন আমাদের নবীন শিক্ষার্থীরা আরও সচেতন হন। জেনে-বুঝে আমাদের মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতি না হলেও এটা বাস্তব যে, আমাদের বাসগুলো পরিবেশবান্ধব জ্বালানীতে চলছে না, ফলে আমাদের প্রতিদিনের বাসে যাতায়াতে কার্বন নিঃসরণ হচ্ছে। সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে পরিবেশের এই ক্ষতি পূরণে আমাদের সাধ্যে যতটুকু সম্ভব আমরা তা করার উদ্যোগ শুরু করলাম মাত্র, আর এই উদ্যোগ শুরু হলো গাছের চারা বিতরণের মাধ্যমে। আমরা জানি যে, বৃক্ষরোপণ করা কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণের সহজ ও কার্যকর সমাধান।’

তিনি আরও বলেন, ‘কার্বন নিঃসরণ মোকাবিলার উপায় হলো যতোটা সম্ভব গাছ রোপণ করা। নবীনদের আমরা দায়টুকু বুঝিয়ে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করছি, আর এই কাজে আমরা প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনকে আমাদের পাশে পেয়েছি। তারাই আমাদের নবীনদের হাতে আজকে গাছের চারা তুলে দিয়েছে। পরিবেশ নিয়ে আমরা কিভাবে আরও সচেতন হবো, নিজেদের দায়িত্বটুকু কিভাবে পালন করবো আশা করি সেই বার্তাটুকু অনুষ্ঠানে তাদের মাধ্যমে আমরা পাবো।’

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশাকে ফুল দিয়ে বরণ করছেন কিঞ্চিৎ বাস কমিটি-২০২৫-২৬ এর সভাপতি ফাহমিদা হক

বিকেল ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে কিঞ্চিৎ বাসের নবীনদের স্বাগত জানান অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা।

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব বাস কেবল একটি পরিবহন ব্যবস্থাই নয় বরং সম্পর্ক নির্মাণ, মননশীলতা ও সৃজনশীলতা চর্চারও জায়গা। এখন মোবাইল ফোন, সামাজিক মাধ্যমের এই যুগে মানুষে মানুষে সরাসরি সম্পর্ক নির্মাণ, বন্ধুত্ব ,সুন্দর পরিবেশ তৈরি করার পরিসর এই বাসগুলো।’

তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘যে সময়টা তোমাদের যাতায়াতের জন্য লাগে সেসময়টায় তোমরা তোমাদের পাশের শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলতে, সম্পর্ক তৈরি করতে কাজে লাগাবে, ইতিবাচক চিন্তা, সৃজনশী ভাবনা বিনিময়ে কাজে লাগাবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেলবন্ধনটা যতো সুন্দর হবে, আমি মনে করি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশটা ততো সুন্দর হবে।’

বক্তব্য শেষে অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবুকে ক্রেস্ট দিয়ে স্বাগত জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, ‘জীবনে ইতিবাচকভাবে গতি বাড়াতে চাইলে প্রয়োজন সুষ্ঠু যোগাযোগ স্থাপন। যোগাযোগের মাধ্যমে আমরা সম্পর্ক গড়তে পারি, ইতিবাচক সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে পারি, ঢাবির এই বাসগুলোও হতে পারে এমন ইতিবাচক যোগাযোগ স্থাপন ও ভালো কাজ শুরু করার জন্য যোগাযোগের ক্ষেত্র।’

নবীন শিক্ষার্থীদের প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন এবং নিজের কাজের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে তিনি বলেন, ‘আমি পরিবেশ-প্রকৃতি নিয়ে কাজ করি। প্রকৃতির সাথে পরিবেশের সাথে আমাদের যেন একটা কার্যকর যোগাযোগ, একে অন্যকে রক্ষার জন্য যে যোগাযোগ দরকার তা করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করি। কারণ আমাদের অস্তিত্বের সাথে প্রকৃতি-পরিবেশ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই সত্যকে অবহেলা করলে আমরা পরিবেশ থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবো।’

নিজেদের অস্তিত্বের স্বার্থে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রকৃতিবন্ধু বলেন, ‘পরিবেশ-প্রকৃতির মাঝে বড় হয়েও আমরা অনেক সময় এসব অনুভব করি না। গাছের কী অবদান, পাখির কী অবদান, জলাশয়, বাতাস, এসবের অবদান আমরা অনেকে অনুভব করতে পারি না। এই অনুভব করতে না পারাতেই পরিবেশ-প্রকৃতির ক্ষতি হচ্ছে। এই অনুভবহীন অবহেলা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। না হলে আমরা পৃথিবীতে টিকতে পারবো না। অনুভবের এই শিক্ষাটা শুরু হওয়া উচিত বাসা থেকে, এরপর স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে।’

 

বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সচেতনতা বাড়েনি বলেই কিন্তু দেশে সর্বত্র সবভাবে প্রকৃতি-পরিবেশ বিনষ্ট হয়েছে, এজন্য আজকে এতো রোগব্যাধি। আমরা যদি এখনো সজাগ না হই তাহলে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম কোন জায়গায় কিভাবে থাকবে, আমরা বাসযোগ্য দেশ কি রেখে যাচ্ছি? এজন্য একটা কথা আমি সব সময় বলি, তা হলো আমাদের প্রত্যেকের কিছু না কিছু ক্ষমতা আছে, এই ক্ষমতার সঙ্গে মমতা মিশিয়ে সবাই এগিয়ে আসলেই আমরা ভাল থাকবো, আমাদের দেশটা ভাল থাকবে এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ রেখে যেতে পারবো।’

বক্তব্য শেষে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শিক্ষার্থীদের হাতে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেন। অনুষ্ঠান চলাকালে টিএসসি অডিটোরিয়ামে উপস্থিত কিঞ্চিৎ বাসে যাতায়াত করা সব নবীন শিক্ষার্থীকে উপহার হিসেবে গাছের চারা দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে আগতদের ধন্যবাদ জানিয়ে নবীনবরণের সভাপর্ব শেষ করেন কিঞ্চিৎ বাস কমিটি ২০২৫-২৬ এর সভাপতি ফাহমিদা হক।

অনুষ্ঠান শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রকৃতিবন্ধু মুকিত মজুমদার বাবু কিঞ্চিৎ বাস কমিটির নবীন-প্রবীণদের সঙ্গে নিয়ে টিএসসি প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ করেন।

 

কিঞ্চিৎ বাস পরিবারের নবীন সদস্যদের বরণ করে নেয়ার এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার ছিল চ্যানেল আই, প্রকৃতিবার্তা অনলাইন এবং রেডিওভূমি ৯২.৮ এফএম।

 

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা, টানা ৪ দিনের ছুটিতে দেশ

সবুজ দিয়ে নবীনবরণ করলো ঢাবির লাল বাস ‘কিঞ্চিৎ’  

আপডেট সময় ০৯:২১:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপরিচিত প্রতীকগুলোর একটি হলো অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের প্রিয় পরিবহন লাল বাস। বাসগুলোর আছে বাহারি সব নাম, আলাদা পরিচয়! উল্লাস, ক্ষণিকা, চৈতালি, তরঙ্গ, কিঞ্চিৎ, মৈত্রী, আনন্দ- এমন সব নাম। আছে বাংলা মাস ও ঋতুর নামও! বৈশাখী, শ্রাবণ, ফাল্গুনী, হেমন্ত, বসন্ত! বাদ যায়নি বারো ভূঁইয়াও! বাসের নাম যে ঈশা খাঁ! বাহারি এসব বাংলা নামে একতলা-দোতলা (ডাবল ডেকার) বাসগুলো ছোটে রাজধানী ও শহরতলীর দিকে। ভোগান্তির ঢাকা  মহানগরে লাল বাস ভরসা, জ্যামে আটকা সময়ে গান-বাজনায় শ্রান্তি ভোলানো ভ্রাম্যমাণ ক্লাব, সব মিলিয়ে প্রতিদিনের যাত্রী অর্থাৎ ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে এসব বাস যেন আরেক পরিবার। বাসগুলো পরিচালনা করে শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত বাৎসরিক কমিটি। এসব বাসের রয়েছে নিজ নিজ নামে ফেসবুক পেইজ, যাতে থাকে রুটসহ নানা তথ্য। কমিটিগুলো আলাদাভাবে নবীনবরণ, ইফতার মাহফিল, ট্যুর সহ নানা আয়োজন করে। ১৯৮১ সালে ৭টি লাল বাসের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিবহন ব্যবস্থা চালু করে। বর্তমানে আরামবাগ, মালিবাগ, মৌচাক রুটে চলে ডাবল ডেকার ‘কিঞ্চিৎ’। নামে কিঞ্চিৎ হলেও বাস সার্ভিসটি নিজেই যেন এক প্রতিষ্ঠান হয়ে গেছে। এবার ক্যাম্পাসের এই ‘সিনিয়র’ বাস সার্ভিস ‘কিঞ্চিৎ’ নতুন এক উদাহরণ এবং দায়িত্বশীলতার নতুন নজির স্থাপন করলো।

বৃহস্পতিবার (২৮ অগাস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসএসি অডিটোরিয়ামে ব্যতিক্রমী এই নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কিঞ্চিৎ বাস কমিটি ২০২৫-২৬। এই আয়োজনে শামিল হয় প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন।

কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাস কমিটির নবীনবরণে থাকবে নাচ-গান, আনন্দ আর খাওয়াদাওয়া! এখানে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের কাজ কী?  এমন প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক, অনুষ্ঠান শুরুর আগে স্বল্প কথায় এই প্রশ্নের উত্তর দিলেন কিঞ্চিৎ বাস কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী সামিহা সামান্থা।

প্রকৃতিবন্ধুর হাত থেকে শুভেচ্ছা উপহার গাছের চারা নিচ্ছেন কিঞ্চিৎ বাস কমিটি ২০২৫-২৬ এর সাধারণ সম্পাদক সামিহা সামান্থা

পরিবেশের প্রতি শিক্ষার্থীদের দায় রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কিঞ্চিতের এবারের নবীনবরণ আয়োজনের উদ্দেশ্য ছিল নতুনদের সবুজের সাথে সম্পৃক্ত করা। আমরা চেয়েছি যেন আমাদের নবীন শিক্ষার্থীরা আরও সচেতন হন। জেনে-বুঝে আমাদের মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতি না হলেও এটা বাস্তব যে, আমাদের বাসগুলো পরিবেশবান্ধব জ্বালানীতে চলছে না, ফলে আমাদের প্রতিদিনের বাসে যাতায়াতে কার্বন নিঃসরণ হচ্ছে। সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে পরিবেশের এই ক্ষতি পূরণে আমাদের সাধ্যে যতটুকু সম্ভব আমরা তা করার উদ্যোগ শুরু করলাম মাত্র, আর এই উদ্যোগ শুরু হলো গাছের চারা বিতরণের মাধ্যমে। আমরা জানি যে, বৃক্ষরোপণ করা কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণের সহজ ও কার্যকর সমাধান।’

তিনি আরও বলেন, ‘কার্বন নিঃসরণ মোকাবিলার উপায় হলো যতোটা সম্ভব গাছ রোপণ করা। নবীনদের আমরা দায়টুকু বুঝিয়ে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করছি, আর এই কাজে আমরা প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনকে আমাদের পাশে পেয়েছি। তারাই আমাদের নবীনদের হাতে আজকে গাছের চারা তুলে দিয়েছে। পরিবেশ নিয়ে আমরা কিভাবে আরও সচেতন হবো, নিজেদের দায়িত্বটুকু কিভাবে পালন করবো আশা করি সেই বার্তাটুকু অনুষ্ঠানে তাদের মাধ্যমে আমরা পাবো।’

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশাকে ফুল দিয়ে বরণ করছেন কিঞ্চিৎ বাস কমিটি-২০২৫-২৬ এর সভাপতি ফাহমিদা হক

বিকেল ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে কিঞ্চিৎ বাসের নবীনদের স্বাগত জানান অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা।

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব বাস কেবল একটি পরিবহন ব্যবস্থাই নয় বরং সম্পর্ক নির্মাণ, মননশীলতা ও সৃজনশীলতা চর্চারও জায়গা। এখন মোবাইল ফোন, সামাজিক মাধ্যমের এই যুগে মানুষে মানুষে সরাসরি সম্পর্ক নির্মাণ, বন্ধুত্ব ,সুন্দর পরিবেশ তৈরি করার পরিসর এই বাসগুলো।’

তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘যে সময়টা তোমাদের যাতায়াতের জন্য লাগে সেসময়টায় তোমরা তোমাদের পাশের শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলতে, সম্পর্ক তৈরি করতে কাজে লাগাবে, ইতিবাচক চিন্তা, সৃজনশী ভাবনা বিনিময়ে কাজে লাগাবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেলবন্ধনটা যতো সুন্দর হবে, আমি মনে করি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশটা ততো সুন্দর হবে।’

বক্তব্য শেষে অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবুকে ক্রেস্ট দিয়ে স্বাগত জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, ‘জীবনে ইতিবাচকভাবে গতি বাড়াতে চাইলে প্রয়োজন সুষ্ঠু যোগাযোগ স্থাপন। যোগাযোগের মাধ্যমে আমরা সম্পর্ক গড়তে পারি, ইতিবাচক সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে পারি, ঢাবির এই বাসগুলোও হতে পারে এমন ইতিবাচক যোগাযোগ স্থাপন ও ভালো কাজ শুরু করার জন্য যোগাযোগের ক্ষেত্র।’

নবীন শিক্ষার্থীদের প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন এবং নিজের কাজের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে তিনি বলেন, ‘আমি পরিবেশ-প্রকৃতি নিয়ে কাজ করি। প্রকৃতির সাথে পরিবেশের সাথে আমাদের যেন একটা কার্যকর যোগাযোগ, একে অন্যকে রক্ষার জন্য যে যোগাযোগ দরকার তা করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করি। কারণ আমাদের অস্তিত্বের সাথে প্রকৃতি-পরিবেশ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই সত্যকে অবহেলা করলে আমরা পরিবেশ থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবো।’

নিজেদের অস্তিত্বের স্বার্থে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রকৃতিবন্ধু বলেন, ‘পরিবেশ-প্রকৃতির মাঝে বড় হয়েও আমরা অনেক সময় এসব অনুভব করি না। গাছের কী অবদান, পাখির কী অবদান, জলাশয়, বাতাস, এসবের অবদান আমরা অনেকে অনুভব করতে পারি না। এই অনুভব করতে না পারাতেই পরিবেশ-প্রকৃতির ক্ষতি হচ্ছে। এই অনুভবহীন অবহেলা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। না হলে আমরা পৃথিবীতে টিকতে পারবো না। অনুভবের এই শিক্ষাটা শুরু হওয়া উচিত বাসা থেকে, এরপর স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে।’

 

বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সচেতনতা বাড়েনি বলেই কিন্তু দেশে সর্বত্র সবভাবে প্রকৃতি-পরিবেশ বিনষ্ট হয়েছে, এজন্য আজকে এতো রোগব্যাধি। আমরা যদি এখনো সজাগ না হই তাহলে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম কোন জায়গায় কিভাবে থাকবে, আমরা বাসযোগ্য দেশ কি রেখে যাচ্ছি? এজন্য একটা কথা আমি সব সময় বলি, তা হলো আমাদের প্রত্যেকের কিছু না কিছু ক্ষমতা আছে, এই ক্ষমতার সঙ্গে মমতা মিশিয়ে সবাই এগিয়ে আসলেই আমরা ভাল থাকবো, আমাদের দেশটা ভাল থাকবে এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ রেখে যেতে পারবো।’

বক্তব্য শেষে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শিক্ষার্থীদের হাতে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেন। অনুষ্ঠান চলাকালে টিএসসি অডিটোরিয়ামে উপস্থিত কিঞ্চিৎ বাসে যাতায়াত করা সব নবীন শিক্ষার্থীকে উপহার হিসেবে গাছের চারা দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে আগতদের ধন্যবাদ জানিয়ে নবীনবরণের সভাপর্ব শেষ করেন কিঞ্চিৎ বাস কমিটি ২০২৫-২৬ এর সভাপতি ফাহমিদা হক।

অনুষ্ঠান শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রকৃতিবন্ধু মুকিত মজুমদার বাবু কিঞ্চিৎ বাস কমিটির নবীন-প্রবীণদের সঙ্গে নিয়ে টিএসসি প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ করেন।

 

কিঞ্চিৎ বাস পরিবারের নবীন সদস্যদের বরণ করে নেয়ার এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার ছিল চ্যানেল আই, প্রকৃতিবার্তা অনলাইন এবং রেডিওভূমি ৯২.৮ এফএম।