সিলেটের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জে সাদাপাথর এলাকায় গত এক বছর ধরে চলা পাথর হরিলুটের খবরে তোলপাড় শুরু হয় দেশজুড়ে। এতদিন কোনো ব্যবস্থা নেয়া না হলেও সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে পাথর লুটের খবর প্রচারের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন, অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন। আপাতত লুট হওয়া কিছু পাথর উদ্ধার করে প্রকৃতি ধ্বংসের খবর ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা হলেও থলের বেড়াল বেরিয়ে এসেছে। সাদাপাথর এলাকায় লুটপাটের খবরের সূত্র ধরে এখন গোটা সিলেট এলাকায় টিলা কাটা, পাথর লুটের খবর একের পর এক প্রকাশিত হচ্ছে। সমকাল পত্রিকায় শাহ আরেফিন টিলা নিশ্চিহ্নের খবর প্রকাশের পর এবার বিডিনিউজের প্রতিবেদনে জানা গেছে, জৈন্তাপুর উপজেলার ‘রাংপানি’ পর্যটনকেন্দ্রে চলছে পাথর লুট।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে: উপজেলার শ্রীপুর সীমান্তবর্তী এলাকায় ‘জল-নুড়ি-পাথর’ জমে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া এই পর্যটনকেন্দ্র অসাধুদের থাবায় ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, লুটেরাদের সঙ্গে স্থানীয় রাজনীতিবিদ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘অসৎ’ লোকজনও জড়িত।
রাংপানিতে পাথর লুট চলছে গত কয়েক বছর ধরেই। তবে গত বছরের ৫ অগাস্টের পর থেকে বেড়েছে লুটপাট। বর্তমানে সীমান্তের ওপারে গিয়ে শ্রমিকেরা পাথর তুলে নিয়ে আসছেন। রাজনৈতিক নেতাদের মদদেই এ লুটপাট চলছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয়রা বলছেন, রাংপানির পাথর আগে আওয়ামী লীগ নেতাদের মদদে লুট করা হত। আর এখন লুটপাট হচ্ছে বিএনপি ও যুবদলের কয়েক নেতার নেতৃত্বে। তারা প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা তোলেন। প্রতি ট্রিপে এক বারকি নৌকা থেকে ৮০০ টাকা, আর ট্রাক থেকে তিন হাজার টাকা নেওয়া হয়।
এই পাথর লুট করে নিয়ে রাখা হয় রাংপানি ক্যাপ্টেন রশিদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের পেছনে। আর সেখান থেকে ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে চলে যায় পাথর।
আরেক প্রতিবেদনে ঢাকা পোস্ট জানিয়েছে, সিলেটের আরেক পর্যটন আকর্ষণ উৎমাছড়া সীমান্ত এলাকা থেকে লুট করা প্রায় ২ লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
এই প্রতিবেদনে জানা গেছে: উৎমাছড়া প্রাকৃতিকভাবে বালু ও পাথরে সমৃদ্ধ এলাকা এবং এটি জনপ্রিয় একটি পর্যটন স্পট। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কিছু অসাধু চক্র অবৈধভাবে ওই এলাকা থেকে পাথর উত্তোলন করে আদর্শপাড়া গ্রামের বিভিন্নস্থানে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুদ করে আসছিল।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 




















