সাদাপাথর হরিলুটের খবর প্রচারের পর সবার যেন টনক নড়লো!

সাদাপাথর হরিলুটের খবর প্রচারের পর সবার যেন টনক নড়লো!

৫ আগস্টের পর থেকে সিলেটের সাদাপাথর পর্যটন এলাকায় নজীরবিহীন হরিলুট দেখেছে পুরো দেশ। মানুষের লোভে প্রকৃতি ধ্বংসের ভয়াল রূপ হিসেবে পাথর লুটের সাক্ষী হয়েছে সাদাপাথর। লুটে ধ্বংস হওয়া প্রকৃতির ছবি মূলধারা গণমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশের পর শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা। আর এতে যেন সব হারানোর পর টনক নড়েছে সরকারি সংস্থাগুলোর, এমনকি দুর্নীতি দমন কমিশনেরও যেন ঘুম ভেঙেছে। সর্বশেষ খবর মতে, সাদাপাথর নিয়ে দেশব্যাপী তুমুল সমালোচনার মুখে প্রশাসন সক্রিয় হওয়ায় এখন পর্যন্ত সাদাপাথর এলাকায় রাতারাতি ১২ হাজার ঘনফুট পাথর ফিরে এসেছে!

 

১৪ আগস্ট জাগো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিলেটের পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথর থেকে লুট হওয়া পাথর উদ্ধারে রাতভর অভিযান চালিয়েছে যৌথবাহিনী। অভিযানে ধলাই নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন স্থান থেকে ১২ হাজার ঘনফুট লুটের পাথর উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা পাথর পুনরায় ধলাই নদীতে ফেলা হয়েছে। বুধবার (১৩ আগস্ট) রাত ১২টার পর থেকে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।

 

একই দিন ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদনে জানা গেছে, পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথরে অবৈধভাবে পাথর লুট ও পাচারের বিরুদ্ধে বুধবার রাত থেকে শুরু করে আজ বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দুপুর পর্যন্ত বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৩০টি গাড়ি তল্লাশি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৭০টি ট্রাকে থাকা প্রায় ৩৫ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার করে নদীতে পুনরায় ফেলার প্রক্রিয়া চলছে। সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আক্তার মিতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

ইনডিপেনডেন্ট টিভি অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, পাথর লুটের অভিযোগে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান আলমগীর আলমকে আটক করেছে পুলিশ। ওই উপজেলার ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর পর্যটন কেন্দ্রের পাথর লুট নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার সকালে তাকে আটক করা হয়।

 

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজায়ের আল মাহমুদ আদনান এ তথ্য জানান। তিনি জানান, ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীরের বিরুদ্ধে পাথর লুটে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। কোম্পানীগঞ্জের ইসলামপুর এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়েছে।

 

এদিকে আজ চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিলেটে সাদাপাথর লুটের ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে দায়ের করা রিটের শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত। আগামী রোববার (১৭ আগস্ট) হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

 

এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মীর কে এম নুরুন্নবী হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন। রিটে ঘটনার তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রসচিব ছাড়াও পরিবেশ সচিব, আইজিপি, ডিসি সিলেট, ইউএনও কোম্পানিগঞ্জসহ ১০ জনকে এতে বিবাদী করা হয়েছে।

 

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদা সোনাখ্যাত দেশের শীর্ষ পর্যটন কেন্দ্র ভোলাগঞ্জে সাদা পাথর অবাধে লুটপাট চলছে এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ পাথর লুটের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়। পরে এ নিয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন। বুধবার (১৩ আগস্ট) দুদকের একটি টিমও সেখানে অভিযান চালায়।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় রাতের আঁধারে মাঝেমধ্যে পাথর চুরি হলেও এখন দিনে-দুপুরে চুরি হচ্ছে কয়েক কোটি টাকার সাদা পাথর। যার কারণে বর্তমানে বিলীন হওয়ার উপক্রম সাদা পাথর। প্রশাসনের সামনে দিয়ে বালু-পাথর লুট করে নিয়ে গেলেও কোনো কর্ণপাত নেই তাদের। সাদা পাথর লুটের জন্য ওই এলাকার বাসিন্দারা প্রশাসনকেই দুষছেন।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

প্লাস্টিক দূষণ রোধে বৈশ্বিক চুক্তির আলোচনা করতে নতুন নেতা নির্বাচিত  

সাদাপাথর হরিলুটের খবর প্রচারের পর সবার যেন টনক নড়লো!

আপডেট সময় ০১:৪৪:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫

৫ আগস্টের পর থেকে সিলেটের সাদাপাথর পর্যটন এলাকায় নজীরবিহীন হরিলুট দেখেছে পুরো দেশ। মানুষের লোভে প্রকৃতি ধ্বংসের ভয়াল রূপ হিসেবে পাথর লুটের সাক্ষী হয়েছে সাদাপাথর। লুটে ধ্বংস হওয়া প্রকৃতির ছবি মূলধারা গণমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশের পর শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা। আর এতে যেন সব হারানোর পর টনক নড়েছে সরকারি সংস্থাগুলোর, এমনকি দুর্নীতি দমন কমিশনেরও যেন ঘুম ভেঙেছে। সর্বশেষ খবর মতে, সাদাপাথর নিয়ে দেশব্যাপী তুমুল সমালোচনার মুখে প্রশাসন সক্রিয় হওয়ায় এখন পর্যন্ত সাদাপাথর এলাকায় রাতারাতি ১২ হাজার ঘনফুট পাথর ফিরে এসেছে!

 

১৪ আগস্ট জাগো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিলেটের পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথর থেকে লুট হওয়া পাথর উদ্ধারে রাতভর অভিযান চালিয়েছে যৌথবাহিনী। অভিযানে ধলাই নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন স্থান থেকে ১২ হাজার ঘনফুট লুটের পাথর উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা পাথর পুনরায় ধলাই নদীতে ফেলা হয়েছে। বুধবার (১৩ আগস্ট) রাত ১২টার পর থেকে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।

 

একই দিন ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদনে জানা গেছে, পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথরে অবৈধভাবে পাথর লুট ও পাচারের বিরুদ্ধে বুধবার রাত থেকে শুরু করে আজ বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দুপুর পর্যন্ত বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৩০টি গাড়ি তল্লাশি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৭০টি ট্রাকে থাকা প্রায় ৩৫ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার করে নদীতে পুনরায় ফেলার প্রক্রিয়া চলছে। সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আক্তার মিতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

ইনডিপেনডেন্ট টিভি অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, পাথর লুটের অভিযোগে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান আলমগীর আলমকে আটক করেছে পুলিশ। ওই উপজেলার ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর পর্যটন কেন্দ্রের পাথর লুট নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার সকালে তাকে আটক করা হয়।

 

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজায়ের আল মাহমুদ আদনান এ তথ্য জানান। তিনি জানান, ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীরের বিরুদ্ধে পাথর লুটে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। কোম্পানীগঞ্জের ইসলামপুর এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়েছে।

 

এদিকে আজ চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিলেটে সাদাপাথর লুটের ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে দায়ের করা রিটের শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত। আগামী রোববার (১৭ আগস্ট) হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

 

এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মীর কে এম নুরুন্নবী হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন। রিটে ঘটনার তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রসচিব ছাড়াও পরিবেশ সচিব, আইজিপি, ডিসি সিলেট, ইউএনও কোম্পানিগঞ্জসহ ১০ জনকে এতে বিবাদী করা হয়েছে।

 

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদা সোনাখ্যাত দেশের শীর্ষ পর্যটন কেন্দ্র ভোলাগঞ্জে সাদা পাথর অবাধে লুটপাট চলছে এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ পাথর লুটের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়। পরে এ নিয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন। বুধবার (১৩ আগস্ট) দুদকের একটি টিমও সেখানে অভিযান চালায়।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় রাতের আঁধারে মাঝেমধ্যে পাথর চুরি হলেও এখন দিনে-দুপুরে চুরি হচ্ছে কয়েক কোটি টাকার সাদা পাথর। যার কারণে বর্তমানে বিলীন হওয়ার উপক্রম সাদা পাথর। প্রশাসনের সামনে দিয়ে বালু-পাথর লুট করে নিয়ে গেলেও কোনো কর্ণপাত নেই তাদের। সাদা পাথর লুটের জন্য ওই এলাকার বাসিন্দারা প্রশাসনকেই দুষছেন।