সাধারণ জ্বর ও ভাইরাল ফ্লু হলে কী খাবেন

সাধারণ জ্বর ও ভাইরাল ফ্লু হলে কী খাবেন

সাধারণত বর্ষাকাল ও গ্রীষ্মকালে নানা ধরনের সংক্রামক জ্বরের মৌসুম বলে বিবেচিত। বিশেষত চিকুনগুনিয়া, টাইফয়েড এবং সাধারণ ভাইরাল জ্বর এসময় উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং সুস্থতা পুনরুদ্ধারে পুষ্টিকর খাদ্য মৌলিক ভূমিকা পালন করতে পারে। যা অনেকের নিকট অবহেলিত থাকে। জ্বর হলে শরীরের দুর্বলতা কাটাতে এবং দ্রুত সুস্থ হতে কিছু নির্দিষ্ট খাবার খাওয়া খুব জরুরি। সহজে হজম হয় এমন পুষ্টিকর খাবার এই সময় খেতে হয়।

জ্বর হলে যা খাবেন:

  • তরল জাতীয় খাবার:জ্বর হলে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি বেরিয়ে যায়, তাই শরীরকে সতেজ রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল গ্রহণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
  • ডাবের পানি:এতে প্রচুর পরিমাণে ইলেক্ট্রোলাইট থাকে যা শরীরের পানিশূন্যতা রোধ করে।
  • ফলের রস:লেবু, কমলা, মাল্টা, জাম্বুরা, বেদানা, আনারস ইত্যাদি ফলের রস পান করতে পারেন। ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং মুখের রুচি ফিরিয়ে আনে।
  • স্যুপ:মুরগির মাংস বা বিভিন্ন সবজি দিয়ে তৈরি স্যুপ খুব উপকারী। এতে প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ থাকে, যা দ্রুত শক্তি যোগায়। এটি হজম করাও সহজ।
  • আদার পানি/চা:আদা ভাইরাস প্রতিরোধে এবং বমি বমি ভাব কমাতে সাহায্য করে।
  • ওরস্যালাইন:যদি শরীর খুব দুর্বল লাগে, তাহলে ৫০০ মিলি পানিতে ওরস্যালাইন মিশিয়ে অল্প অল্প করে খেতে পারেন।
    • সহজপাচ্য শর্করা:
  • খিচুড়ি/জাউ ভাত:হালকা, নরম খিচুড়ি বা জাউ ভাত হজমে সুবিধা করে এবং শরীরকে শক্তি যোগায়।
  • সেদ্ধ আলু:সেদ্ধ আলু সহজে হজম হয় এবং শক্তি দেয়।
    • প্রোটিন সমৃদ্ধ:
  • ডিম:সেদ্ধ ডিম বা ডিমের স্যুপ প্রোটিনের ভালো উৎস, যা দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।
  • ডাল:উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের উৎস হিসেবে ডাল সেদ্ধ করে খেতে পারেন।
    • দুগ্ধজাত খাবার (বিশেষ ক্ষেত্রে):
  • টক দই:টক দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিকস অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তবে, জ্বরের সঙ্গে যদি পাতলা পায়খানা বা বমির সমস্যা থাকে, তাহলে দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।
    • ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ সবজি:
  • সেদ্ধ পেঁপে, কুমড়ো, সবুজ মটর, গাজর, পালং শাক ইত্যাদি সেদ্ধ করে খেতে পারেন। এগুলো শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ সরবরাহ করে।

চিকুনগুনিয়া জ্বর

চিকুনগুনিয়া জ্বর একটি আর্বোভাইরাল রোগ, যা মশার মাধ্যমে ছড়ায়। এর লক্ষণ হিসেবে দেখা যায় হঠাৎ উচ্চ জ্বর, তীব্র অস্থি ও সন্ধির ব্যথা, র‍্যাশ ও ক্রনিক ক্লান্তি। চিকুনগুনিয়া জ্বরে আক্রান্ত হলে পানি ও ইলেকট্রোলাইট ব্যালান্স ঠিক রাখতে প্রতিদিন অন্তত ২.৫-৩ লিটার তরল গ্রহণ করতে হবে। (খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি, লবণ, চিনি পানি, চিড়ার পানি, মৌসুমি ফ্রেশ ফলের শরবত অবশ্যই বাসায় তৈরি।)

অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদানের জন্য আনারস-পেঁপে ব্রোমেলেইন ও প্যাপেইন নামক প্রাকৃতিক এনজাইম প্রদাহ ও হাড় জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধির ব্যথা কমাতে কার্যকর। প্রোটিন ও ইমিউন সাপোর্টের জন্য ডিম, সেদ্ধ মাছ ও মুরগির ঝোল– জ্বরের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কোষ, টিস্যু রিপেয়ার করে ও রোগ প্রতিরোধকারী অ্যান্টিবডি সৃষ্টিতে সহায়ক। এছাড়াও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ পেয়ারা, আমলকী, লেবু, কাঁচামরিচ, পেপে, কমলা, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রতিরক্ষার জন্য গুরুত্বপর্ণ উপাদান।

টাইফয়েড জ্বর

টাইফয়েড একটি এন্টারিক ফিভার, যা সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমিত হয়। এর ফলে অন্ত্রে প্রদাহ, জ্বর, দুর্বলতা, ক্ষুধামান্দ্য এবং দীর্ঘস্থায়ী পুষ্টিহীনতা দেখা দেয়। এজন্য সহজপাচ্য উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার যেমন; ভাতের মাড়, সেদ্ধ ওটস, মিষ্টি আলু, সুজি, কলা, চাল, মুগ ডালের নরম-পাতলা খিচুড়ি অন্ত্রের ওপর চাপ না দিয়ে শক্তি জোগায়।

জ্বর হলে যা এড়িয়ে চলবেন:

  • শক্ত ও গুরুপাক খাবার:বিস্কিট, ড্রাই কেক, বাসি খাবার, এবং যে কোনো শক্ত খাবার যা হজমে সমস্যা করে, সেগুলো এড়িয়ে চলুন।
  • ভাজাপোড়া ও মসলাদার খাবার:সিঙ্গাড়া, সমুচা, পুরি, বার্গার, পিজ্জা, ফাস্ট ফুড, এবং অতিরিক্ত তেল ও মসলাযুক্ত খাবার শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং হজমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
  • মিষ্টি ও চিনিযুক্ত খাবার:মিষ্টি, চিনিযুক্ত পানীয়, প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাকস, এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করতে পারে।
  • ঠান্ডা পানীয়:কোমল পানীয়, এনার্জি ড্রিংকস, এবং ঠাণ্ডা খাবার এড়িয়ে চলুন।
  • ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়:দুধ চা এবং কফি পান করা থেকে বিরত থাকুন, কারণ এগুলো শরীরকে পানিশূন্য করতে পারে।
  • লাল মাংস:গরুর মাংস বা খাসির মাংসের মতো লাল মাংস হজম করা কঠিন হতে পারে।
  • কাঁচা খাবার:সালাদ বা যেকোনো কাঁচা খাবার এই সময় এড়িয়ে চলা ভালো।

জ্বর হলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়াও খুব জরুরি। যদি জ্বর না কমে বা অন্যান্য জটিলতা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন। এছাড়া ঘরে তৈরি প্রাকৃতিক ডিটক্স খেতে পারেন। যেমন মধু, আদা, কালোজিরা এগুলোর মধ্যে অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ রয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

প্লাস্টিক দূষণ রোধে বৈশ্বিক চুক্তির আলোচনা করতে নতুন নেতা নির্বাচিত  

সাধারণ জ্বর ও ভাইরাল ফ্লু হলে কী খাবেন

আপডেট সময় ০৪:৫৫:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫

সাধারণত বর্ষাকাল ও গ্রীষ্মকালে নানা ধরনের সংক্রামক জ্বরের মৌসুম বলে বিবেচিত। বিশেষত চিকুনগুনিয়া, টাইফয়েড এবং সাধারণ ভাইরাল জ্বর এসময় উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং সুস্থতা পুনরুদ্ধারে পুষ্টিকর খাদ্য মৌলিক ভূমিকা পালন করতে পারে। যা অনেকের নিকট অবহেলিত থাকে। জ্বর হলে শরীরের দুর্বলতা কাটাতে এবং দ্রুত সুস্থ হতে কিছু নির্দিষ্ট খাবার খাওয়া খুব জরুরি। সহজে হজম হয় এমন পুষ্টিকর খাবার এই সময় খেতে হয়।

জ্বর হলে যা খাবেন:

  • তরল জাতীয় খাবার:জ্বর হলে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি বেরিয়ে যায়, তাই শরীরকে সতেজ রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল গ্রহণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
  • ডাবের পানি:এতে প্রচুর পরিমাণে ইলেক্ট্রোলাইট থাকে যা শরীরের পানিশূন্যতা রোধ করে।
  • ফলের রস:লেবু, কমলা, মাল্টা, জাম্বুরা, বেদানা, আনারস ইত্যাদি ফলের রস পান করতে পারেন। ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং মুখের রুচি ফিরিয়ে আনে।
  • স্যুপ:মুরগির মাংস বা বিভিন্ন সবজি দিয়ে তৈরি স্যুপ খুব উপকারী। এতে প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ থাকে, যা দ্রুত শক্তি যোগায়। এটি হজম করাও সহজ।
  • আদার পানি/চা:আদা ভাইরাস প্রতিরোধে এবং বমি বমি ভাব কমাতে সাহায্য করে।
  • ওরস্যালাইন:যদি শরীর খুব দুর্বল লাগে, তাহলে ৫০০ মিলি পানিতে ওরস্যালাইন মিশিয়ে অল্প অল্প করে খেতে পারেন।
    • সহজপাচ্য শর্করা:
  • খিচুড়ি/জাউ ভাত:হালকা, নরম খিচুড়ি বা জাউ ভাত হজমে সুবিধা করে এবং শরীরকে শক্তি যোগায়।
  • সেদ্ধ আলু:সেদ্ধ আলু সহজে হজম হয় এবং শক্তি দেয়।
    • প্রোটিন সমৃদ্ধ:
  • ডিম:সেদ্ধ ডিম বা ডিমের স্যুপ প্রোটিনের ভালো উৎস, যা দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।
  • ডাল:উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের উৎস হিসেবে ডাল সেদ্ধ করে খেতে পারেন।
    • দুগ্ধজাত খাবার (বিশেষ ক্ষেত্রে):
  • টক দই:টক দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিকস অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তবে, জ্বরের সঙ্গে যদি পাতলা পায়খানা বা বমির সমস্যা থাকে, তাহলে দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।
    • ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ সবজি:
  • সেদ্ধ পেঁপে, কুমড়ো, সবুজ মটর, গাজর, পালং শাক ইত্যাদি সেদ্ধ করে খেতে পারেন। এগুলো শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ সরবরাহ করে।

চিকুনগুনিয়া জ্বর

চিকুনগুনিয়া জ্বর একটি আর্বোভাইরাল রোগ, যা মশার মাধ্যমে ছড়ায়। এর লক্ষণ হিসেবে দেখা যায় হঠাৎ উচ্চ জ্বর, তীব্র অস্থি ও সন্ধির ব্যথা, র‍্যাশ ও ক্রনিক ক্লান্তি। চিকুনগুনিয়া জ্বরে আক্রান্ত হলে পানি ও ইলেকট্রোলাইট ব্যালান্স ঠিক রাখতে প্রতিদিন অন্তত ২.৫-৩ লিটার তরল গ্রহণ করতে হবে। (খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি, লবণ, চিনি পানি, চিড়ার পানি, মৌসুমি ফ্রেশ ফলের শরবত অবশ্যই বাসায় তৈরি।)

অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদানের জন্য আনারস-পেঁপে ব্রোমেলেইন ও প্যাপেইন নামক প্রাকৃতিক এনজাইম প্রদাহ ও হাড় জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধির ব্যথা কমাতে কার্যকর। প্রোটিন ও ইমিউন সাপোর্টের জন্য ডিম, সেদ্ধ মাছ ও মুরগির ঝোল– জ্বরের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কোষ, টিস্যু রিপেয়ার করে ও রোগ প্রতিরোধকারী অ্যান্টিবডি সৃষ্টিতে সহায়ক। এছাড়াও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ পেয়ারা, আমলকী, লেবু, কাঁচামরিচ, পেপে, কমলা, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রতিরক্ষার জন্য গুরুত্বপর্ণ উপাদান।

টাইফয়েড জ্বর

টাইফয়েড একটি এন্টারিক ফিভার, যা সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমিত হয়। এর ফলে অন্ত্রে প্রদাহ, জ্বর, দুর্বলতা, ক্ষুধামান্দ্য এবং দীর্ঘস্থায়ী পুষ্টিহীনতা দেখা দেয়। এজন্য সহজপাচ্য উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার যেমন; ভাতের মাড়, সেদ্ধ ওটস, মিষ্টি আলু, সুজি, কলা, চাল, মুগ ডালের নরম-পাতলা খিচুড়ি অন্ত্রের ওপর চাপ না দিয়ে শক্তি জোগায়।

জ্বর হলে যা এড়িয়ে চলবেন:

  • শক্ত ও গুরুপাক খাবার:বিস্কিট, ড্রাই কেক, বাসি খাবার, এবং যে কোনো শক্ত খাবার যা হজমে সমস্যা করে, সেগুলো এড়িয়ে চলুন।
  • ভাজাপোড়া ও মসলাদার খাবার:সিঙ্গাড়া, সমুচা, পুরি, বার্গার, পিজ্জা, ফাস্ট ফুড, এবং অতিরিক্ত তেল ও মসলাযুক্ত খাবার শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং হজমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
  • মিষ্টি ও চিনিযুক্ত খাবার:মিষ্টি, চিনিযুক্ত পানীয়, প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাকস, এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করতে পারে।
  • ঠান্ডা পানীয়:কোমল পানীয়, এনার্জি ড্রিংকস, এবং ঠাণ্ডা খাবার এড়িয়ে চলুন।
  • ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়:দুধ চা এবং কফি পান করা থেকে বিরত থাকুন, কারণ এগুলো শরীরকে পানিশূন্য করতে পারে।
  • লাল মাংস:গরুর মাংস বা খাসির মাংসের মতো লাল মাংস হজম করা কঠিন হতে পারে।
  • কাঁচা খাবার:সালাদ বা যেকোনো কাঁচা খাবার এই সময় এড়িয়ে চলা ভালো।

জ্বর হলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়াও খুব জরুরি। যদি জ্বর না কমে বা অন্যান্য জটিলতা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন। এছাড়া ঘরে তৈরি প্রাকৃতিক ডিটক্স খেতে পারেন। যেমন মধু, আদা, কালোজিরা এগুলোর মধ্যে অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ রয়েছে।