সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সাকার ফিশের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধে’ নেমেছে সেনাবাহিনী! Logo হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু Logo চলতি মাসে ২-৩ টি তীব্র কালবৈশাখী হতে পারে, রয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা Logo পদ্মা ব্যারেজ: ইলিশের ভাল-মন্দ Logo ২৭তম বিসিএসের বঞ্চিত আরও ৯৬ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন Logo ঈদযাত্রার ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু Logo পরিবেশ দূষণকারীদের ‘মানুষরূপী চতুষ্পদ প্রাণী’ বললেন গাজীপুরের ডিসি   Logo লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় সরকারের নিন্দা Logo শতবর্ষে প্রকৃতির কণ্ঠস্বর: স্যার ডেভিড অ্যাটেনবরো, জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ুর এক অনন্য যোদ্ধা Logo মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানকে বিধ্বস্ত করেছে বাংলাদেশ

সাহারা মরুভূমিতে বন্যা!

সাহারা মরুভূমিতে বন্যা!

চারদিকে কেবল বালু, দিনে প্রখর রোদ, সবুজের দেখা কদাচিৎ মিললেও কেবল ঝোপঝাড়। পানির দেখা পাওয়া খুবই কঠিন। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মরুভূমি সাহারার এই রূপ। তবে এবার এক ভিন্ন রূপ দেখা গেল সেখানে। সাব-সাহারান দেশগুলোর মধ্যে মরক্কো একটি। মরক্কোর দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে দুই দিন ধরে ব্যাপক বৃষ্টির কারণে সাহারা মরুভূমির কিছু অংশে মারাত্মক বন্যা দেখা দিয়েছে। মরুভূমি এলাকায় এ ধরনের আকস্মিক বন্যার ঘটনা বিরল।

নাসার স্যাটেলাইটে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে শুকিয়ে যাওয়া জাগোরা ও টাটা এলাকার মধ্যে ইরিকুয়ি নামের শুকনো হ্রদটি পানিতে ভরে গেছে।

মরক্কোর আবহাওয়া দফতরের কর্মকর্তা হুসেইন ইয়াবেব বলেন, গত ৩০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এত কম সময়ে এত বেশি বৃষ্টি দেখিনি।

দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে মরক্কোর বন্যায় ১৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগের বছরে সেখানে ব্যাপক ভূমিকম্পের ধকল এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি মানুষ। গত সেপ্টেম্বরে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের কারণে মরক্কোয় বাঁধ দিয়ে তৈরি জলাধারগুলো সব পরিপূর্ণ হয়ে গেছে।

এর আগে, পর পর ছয় বছর খরার প্রকোপে ভুগতে হয় মরক্কোর বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে।  চাষবাস ছেড়ে কৃষকরা শহরে চলে যান। গ্রামে গ্রামে বৃষ্টির পানি মজুত করার কাজও শুরু হয়। সেপ্টেম্বরে অতিবৃষ্টির পর অনেকেই হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন। এতে মরুভূমির নীচে, ভূগর্ভের পানিরস্তর বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদী তাঁরা।

যদিও সাহারা মরুভূমিতে অতিবৃষ্টি এবং বন্যার খবরে অশনি সঙ্কেতও দেখছেন অনেকে। বৃষ্টির পর এত দ্রুত রুক্ষ অঞ্চলে গাছপালা গজিয়ে ওঠা বা বন্যার নজির নেই। এর নেপথ্যে জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবর্তন শীল আবহাওয়া রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আফ্রিকায় বর্ষার চরিত্রবদল ঘটেছে বলেও দাবি তাঁদের। ইতিহাস বলছে, পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম মরুভূমি সাহারা একসময় সবুজ বনভূমি ছিল। ঘন জঙ্গল, হাজার হাজার হ্রদ ছিল সেখানে। খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ সাল থেকে বর্ষা ক্রমশ দক্ষিণে সরে যেতে শুরু করে, তাতেই ধীরে ধীরে মরুভূমিতে পরিণত হয় সাহারা। গত ১৩ হাজার বছর ধরে সাহারা মরুভূমি রূপেই বিরাজ করছে। বিজ্ঞানীদের দাবি, প্রতি ২০ বছর পর পর সাহারা চরিত্রগত পরিবর্তন ঘটে।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

সাকার ফিশের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধে’ নেমেছে সেনাবাহিনী!

সাহারা মরুভূমিতে বন্যা!

আপডেট সময় ১১:৪৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৪

চারদিকে কেবল বালু, দিনে প্রখর রোদ, সবুজের দেখা কদাচিৎ মিললেও কেবল ঝোপঝাড়। পানির দেখা পাওয়া খুবই কঠিন। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মরুভূমি সাহারার এই রূপ। তবে এবার এক ভিন্ন রূপ দেখা গেল সেখানে। সাব-সাহারান দেশগুলোর মধ্যে মরক্কো একটি। মরক্কোর দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে দুই দিন ধরে ব্যাপক বৃষ্টির কারণে সাহারা মরুভূমির কিছু অংশে মারাত্মক বন্যা দেখা দিয়েছে। মরুভূমি এলাকায় এ ধরনের আকস্মিক বন্যার ঘটনা বিরল।

নাসার স্যাটেলাইটে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে শুকিয়ে যাওয়া জাগোরা ও টাটা এলাকার মধ্যে ইরিকুয়ি নামের শুকনো হ্রদটি পানিতে ভরে গেছে।

মরক্কোর আবহাওয়া দফতরের কর্মকর্তা হুসেইন ইয়াবেব বলেন, গত ৩০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এত কম সময়ে এত বেশি বৃষ্টি দেখিনি।

দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে মরক্কোর বন্যায় ১৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগের বছরে সেখানে ব্যাপক ভূমিকম্পের ধকল এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি মানুষ। গত সেপ্টেম্বরে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের কারণে মরক্কোয় বাঁধ দিয়ে তৈরি জলাধারগুলো সব পরিপূর্ণ হয়ে গেছে।

এর আগে, পর পর ছয় বছর খরার প্রকোপে ভুগতে হয় মরক্কোর বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে।  চাষবাস ছেড়ে কৃষকরা শহরে চলে যান। গ্রামে গ্রামে বৃষ্টির পানি মজুত করার কাজও শুরু হয়। সেপ্টেম্বরে অতিবৃষ্টির পর অনেকেই হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন। এতে মরুভূমির নীচে, ভূগর্ভের পানিরস্তর বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদী তাঁরা।

যদিও সাহারা মরুভূমিতে অতিবৃষ্টি এবং বন্যার খবরে অশনি সঙ্কেতও দেখছেন অনেকে। বৃষ্টির পর এত দ্রুত রুক্ষ অঞ্চলে গাছপালা গজিয়ে ওঠা বা বন্যার নজির নেই। এর নেপথ্যে জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবর্তন শীল আবহাওয়া রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আফ্রিকায় বর্ষার চরিত্রবদল ঘটেছে বলেও দাবি তাঁদের। ইতিহাস বলছে, পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম মরুভূমি সাহারা একসময় সবুজ বনভূমি ছিল। ঘন জঙ্গল, হাজার হাজার হ্রদ ছিল সেখানে। খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ সাল থেকে বর্ষা ক্রমশ দক্ষিণে সরে যেতে শুরু করে, তাতেই ধীরে ধীরে মরুভূমিতে পরিণত হয় সাহারা। গত ১৩ হাজার বছর ধরে সাহারা মরুভূমি রূপেই বিরাজ করছে। বিজ্ঞানীদের দাবি, প্রতি ২০ বছর পর পর সাহারা চরিত্রগত পরিবর্তন ঘটে।