বন বিভাগ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের রাতভর চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এসেছে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের কলমতেজী টহল ফাঁড়ির এলাকার আগুন।
এদিকে কলমতেজী টহল ফাঁড়ি এলাকা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে নতুন করে বড় এলাকাজুড়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। আজ রোববার সকাল পৌনে ৯টার দিকে ড্রোন উড়িয়ে ওই ধোঁয়া দেখতে পান সংবাদকর্মীরা। পরে বন বিভাগ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গুলিশাখালী বন টহল ফাঁড়ি এলাকার অন্তত ৩টি এলাকায় আগুনের উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে।
তিন থেকে চারটি স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে ধোঁয়া দেখতে পাওয়া যাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন বন বিভাগের এক কর্মকর্তা। সেখানে দ্রুত ধোঁয়া বাড়ছে বলে জানান তিনি। তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট বন অফিসের কর্মীদের ঘটনাস্থলের দিকে পাঠানো হয়েছে।

আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) দিপন চন্দ্র দাসকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন—ধানসাগর স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা বিপুলেশ্বর দাস ও কলমতেজি টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধান ও বনভূমির ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) সাকরিয়া হায়দার রোববার (২৩ মার্চ) সকালে বলেন, ‘বাগেরহাট, শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জ নিয়ে মোট পাঁচটি ইউনিট সুন্দরবন সংলগ্ন ভোলা নদীর তীরে অবস্থান করছে। বনবিভাগের নিজস্ব সেচ পাম্প দিয়ে পানি ছেটানোর কাজ চলছে। আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা পাইপলাইন বসিয়ে কাজ শুরু করেছি। সুন্দরবনের যে এলাকায় আগুন লেগেছে সেখান থেকে মরা ভোলা নদীর দূরত্ব অন্তত তিন কিলোমিটার। এত দূরত্বে পানি নিয়ে তা দিয়ে আগুন নেভাতে দারুণ বেগ পেতে হচ্ছে।’

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মোহাম্মদ নূরুল করিম রোববার সকালে বলেন, ‘শনিবার দুপুর একটার দিকে বনকর্মীরা চাঁদপাই রেঞ্জের কলমতেজি টহল ফাঁড়ি এলাকায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখতে পায়। পরে বনকর্মীরা সেখানে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। আগুনের বড় কোনো শিখা নেই, আছে শুধু ধোঁয়া। আমাদের নিজস্ব সেচ পাম্প দিয়ে আগুন নেভাচ্ছি। শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত আমরা আগুন নেভানোর কাজ করি। যেখানেই ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখতে পাচ্ছি সেখানে পানি ছিটানো হচ্ছে। এখন আগুনের যে ধরণ দেখছি তাতে ভয়ের কিছু দেখছি না, আগুন অন্তত ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’
এরই মধ্যে এই ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান কাজী মোহাম্মদ নূরুল করিম।
প্রসঙ্গত, গত বছর ৪ মে চাঁদপাই রেঞ্জের আমুরবুনিয়া এলাকায় আগুন লাগে। এতে বনের পাঁচ একর এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 




















