কিডনি আমাদের শরীরের গুরত্বপূর্ণ অঙ্গ। মানবদেহে কিডনি এক আশ্চর্যজনক ছোট ফিল্টার। এটি রক্ত থেকে বিষাক্ত পদার্থ পরিষ্কার করে। খনিজ পদার্থের ভারসাম্য বজায় রাখে। এটি আমাদের পেটের ভেতরে মেরুদণ্ডের দুই পাশে অবস্থিত। কিডনি দেখতে শিমের বিচির মতো। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ থেকে ৫ ইঞ্চি। সাধারণত একজন সুস্থ মানুষের দুটি কিডনি থাকে। তবে একটি কিডনি নিয়েও মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।
কিডনির মূল কাজ হলো শরীরকে সুস্থ রাখা। কিডনি রক্ত থেকে ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন এবং অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয়। বিভিন্ন হরমোন নিঃসরণের মাধ্যমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ভিটামিন ডি-কে সক্রিয় করে, যা হাড়ের স্বাস্থ্য এবং ক্যালসিয়াম শোষণের জন্য অপরিহার্য। এরিথ্রোপোয়েটিন নামক একটি হরমোন তৈরি করে, যা হাড়ের মজ্জাকে লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদনে উৎসাহিত করে।
কিডনির সুস্থতা আমাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিছু পানীয় আছে যা কিডনির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে এবং দীর্ঘমেয়াদে কিডনির কার্যকারিতা হ্রাস করতে পারে। তাহলে কিডনি ভালো রাখতে হলে আমাদের কি করণীয়। ক্ষতিকর কোমল পানীয় ব্যতীত আমরা কি ধরনের পানীয় পান করে কিডনি ভালো রাখতে পারি?
কিডনি সুস্থ রাখার জন্য সবচেয়ে উপকারী পানীয় হল বিশুদ্ধ পানি। প্রতিদিন পর্যাপ্ত (২–৩ লিটার, তবে বয়স, ওজন ও স্বাস্থ্য অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে) পানি পান করা উচিত। পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করলে কিডনিতে পাথর জমার ঝুঁকি কমে যায়। শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ বের হয়ে যায়। তবে অনেক পানীয় রয়েছে যা কিডনিকে শক্তিশালী ও কার্যক্ষম রাখতে সাহায্য করে।
কিডনি ভালো রাখতে কোন কোন পানীয় পান করবেন-
লেবু পানীয়: লেবু পানি কেবল সতেজ করে না- এটি শরীরে সাইট্রিক অ্যাসিডও সরবরাহ করে। যা প্রস্রাবের অন্যান্য খনিজ পদার্থের সঙ্গে ক্যালসিয়ামের আবদ্ধতা বন্ধ করে। কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে সাহায্য করে। তবে ভুলেও তাতে চিনি যোগ করবেন না।
বিভিন্ন ভেষজ চা: ভেষজ চা শরীরকে হাইড্রেট করে। যেমন আদা চা, ক্যামোমাইল চা বা ড্যানডেলিয়ন মূলের চা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হতে পারে। এই চায়ের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং মৃদু মূত্রবর্ধক প্রভাব রয়েছে। যা আপনার কিডনিতে বর্জ্য পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। এ ধরনের পানীয় শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর যা পাথরের ঝুঁকি কমাতে এবং কিডনির কার্যকারিতা বজায় রাখতে কাজ করে।
মিশ্রিত পানি: ফল, ভেষজ, পুদিনা, শসা বা বেরির মতো উপাদান নিয়মিত পানিতে ভিজিয়ে পান করুন। এটি অতিরিক্ত চিনি বা কৃত্রিম উপাদান ছাড়াই আপনার পানি পানের আগ্রহ বাড়বে। কিডনি ভালো রাখতে নিয়মিত লেবু, স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, শসা এবং তাজা পুদিনা এসব পানিতে ভিজিয়ে পান করুন।
কম চিনিযুক্ত ফলের রস: আনারস, স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, আপেল এবং গাজর ইত্যদি শরীরকে হাইড্রেট করে। সেইসঙ্গে এগুলো অতিরিক্ত পুষ্টি অর্জনের একটি উপায়। তাজা ফলের রস, যেমন ক্র্যানবেরি বা আপেলের রস কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। ক্র্যানবেরি রসে থাকা উপাদান মূত্রনালীর সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে। তবে কলা এবং মিষ্টি বা উচ্চ চিনিযুক্ত দই এড়িয়ে চলুন।
ডাবের পানি (পরিমিত): ডাবের পানি হাইড্রেশন এবং ইলেক্ট্রোলাইট সরবরাহ করে। প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ, ডিহাইড্রেশন রোধ করে। কিডনির উপর চাপ কমায়। তবে এতে পটাসিয়াম বেশি হতে পারে, তাই এটি কিডনি সুস্থ ও স্বাভাবিক রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য সবচেয়ে ভালো। যাদের পটাসিয়াম নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এটি পান করবেন। কিডনি রোগীদের জন্য ডাবের পানি, স্পোর্টস ড্রিংকস এবং উচ্চ পটাশিয়াম ও ফসফরাসযুক্ত পানীয় ক্ষতিকর হতে পারে।
কিডনি রোগীদের কোনো পানীয় পান করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সবচেয়ে ভালো পানীয় হলো বিশুদ্ধ পানি, যা কিডনিকে সুস্থ রাখতে এবং শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করলে কিডনি পরিষ্কার থাকে এবং বর্জ্য পদার্থ সহজে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়।
ডেস্ক রিপোর্ট 




















