গুজ-বিকড হোয়েল, সহজ বাংলায় হাঁসমুখো তিমি। বিশেষ প্রজাতির এই তিমি পৃথিবীতে গভীরতম ডুব দেয়ার রেকর্ডধারী প্রাণী। এটি প্রায় ৯ হাজার ৮১৬ ফুট গভীরে ডুব দিতে সক্ষম। বিজ্ঞানীরা এই তিমির অক্সিজেন ব্যবহারের বিশেষ কৌশল নিয়ে গবেষণা করছেন, যা একদিন মানুষের নানা প্রাণঘাতী রোগ, যেমন স্ট্রোক ও ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন দিশা দেখাতে পারে।
আগে কাভিয়েরের ঠোঁটওয়ালা তিমি নামে পরিচিত, হাঁসমুখো তিমি অন্যান্য পরিচিত স্তন্যপায়ীর তুলনায় গভীরে ডুব দেয় এবং বিশ্বের বেশিরভাগ মহাসাগরে এদের পাওয়া যায়। এই অধরা প্রাণীরা নিয়মিত প্রায় ৩,৩০০ ফুট গভীরে ডুব দেয় এবং টানা ২০ থেকে ৪০ মিনিট ধরে শিকার করে। রেকর্ডে তাদের গভীরতম ডুব ৯,৮১৬ ফুট, এবং জানা সবচেয়ে দীর্ঘতম ডুব ২২২ মিনিট স্থায়ী হয়। এই তুলনায় নীল তিমি মাত্র ১,৬৪০ ফুট গভীরে পৌঁছায় যেখানে ডুব দেওয়ার সময়কাল ১০ থেকে ২০ মিনিট!
ন্যাশনাল জিওগ্রাফির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা গুজ-বিকড তিমি নিয়ে গবেষণা করছেন। এই তিমির শরীর এমনভাবে অভিযোজিত হয়েছে, যে তারা দীর্ঘ সময় অক্সিজেনের কম মাত্রায় গভীর সমুদ্রে ডুব দিয়ে থাকতে পারে। গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো, তিমির শরীরে কীভাবে অক্সিজেনের অভাব থাকা সত্ত্বেও কোষগুলো শক্তি উৎপাদন করে, তা জানা। এটি মানবদেহে স্ট্রোক, ক্যানসার এবং অন্যান্য অক্সিজেন সংক্রান্ত রোগের চিকিৎসায় সহায়ক হতে পারে।
গবেষকরা এই তিমির ত্বক, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, পেশী এবং মস্তিষ্কের টিস্যু সংগ্রহ করেছেন। এই টিস্যুগুলো ল্যাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে, যেখানে তিমির ত্বক কোষগুলো অক্সিজেনের অভাবে কাজ করতে সক্ষম বলে প্রমাণিত হয়েছে। অন্যদিকে, ডলফিন, গরু এবং মানুষের ত্বক কোষগুলো অক্সিজেন কম পেলে তাদের কার্যকারিতা কমে যায়।
তিমির কোষে এমন কিছু বিশেষ জেনেটিক অভিযোজন পাওয়া গেছে, যা তাদের অক্সিজেনের অভাবে শক্তি উৎপাদনের সক্ষম করে। এ অভিযোজন মানবদেহে অনুপস্থিত, যা মানুষের জন্য নতুন চিকিৎসা বিকাশের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
গবেষণার তথ্য-উপাত্ত ভবিষ্যতে স্ট্রোক এবং ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় নতুন দিশা দিতে পারে।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 




















