সংবাদ শিরোনাম ::
Logo খাগড়াছড়িতে বনমোরগ জব্দ করে ‘দেশি মোরগ’ অবমুক্ত! Logo চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে জ্বালানিবাহী ৮ জাহাজ Logo আগামী ৫ দিন দেশের কয়েক জায়গায় বৃষ্টি-বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে Logo ভারতের তৃতীয় নাকি নিউজিল্যান্ডের প্রথম? আজ কার হাতে উঠবে শিরোপা? Logo নেপালের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন আলোচিত-সমালোচিত বালেন্দ্র শাহ      Logo ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা পেলেন খালেদা জিয়াসহ ৬ নারী Logo ইরান কতদিন পর্যন্ত তীব্র হামলা চালিয়ে যেতে পারবে জানালো আইআরজিসি Logo যুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো কাতার থেকে ছাড়ছে এলএনজির জাহাজ, গন্তব্য বাংলাদেশ! Logo আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ Logo স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন প্রকৃতিবন্ধু মুকিত মজুমদার বাবু

হাঁপানির ইনহেলার থেকে বছরে ৫ লাখ গাড়ির সমপরিমাণ কার্বন নিঃসরণ!

হাঁপানির ইনহেলার থেকে বছরে ৫ লাখ গাড়ির সমপরিমাণ কার্বন নিঃসরণ!

হাঁপানি রোগীদের আপদকালের পরমবন্ধু ইনহেলার। কিন্তু মিটারেড ডোজ ইনহেলারে (MDIs) ব্যবহৃত হয়য় হাইড্রোফ্লুরোকার্বন (HFC)। এই এইচএফসি একটি গ্রিনহাউস গ্যাস, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়নে অন্যতম দায়ী। একটি মিটারেড ডোজ ইনহেলারের কার্বন ফুটপ্রিন্ট একটি গাড়ির প্রতি কিলোমিটারে কার্বন নিঃসরণের সমতুল্য হতে পারে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই এসব ইনহেলার থেকে বছরে যত পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ হয়, তা আধা মিলিয়ন বা ৫ লাখ গাড়ির সমান।

 

এই আপাতত নিরীহ ইনহেলারের ভয়ানক প্রভাব নিয়ে করা গবেষণা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আলজাজিরা।

 

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, লস অ্যাঞ্জেলেস (ইউসিএলএ) ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে হাঁপানি ও ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি) চিকিৎসায় ব্যবহৃত তিন ধরনের ইনহেলারের জলবায়ু ক্ষতিকর গ্যাস নির্গমন বিশ্লেষণ করেন। এই গবেষণাটি জার্নাল অব দ্য আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (জেএএমএ)-এ প্রকাশিত হয়েছে।

 

গবেষণায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিক বীমা ও সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি (মেডিকেইড ও মেডিকেয়ার) ব্যবহাকারী রোগীদের ইনহেলারগুলো গত এক দশকে মোট ২ কোটি ৪৯ লাখ মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমপরিমাণ গ্যাস নির্গমন করেছে।

 

এর মধ্যে মিটারড ডোজ ইনহেলার বা জনপ্রিয়ভাবে পরিচিত “পাফার” ইনহেলারগুলো সবচেয়ে ক্ষতিকর, যা মোট নিঃসরণের ৯৮ শতাংশের জন্য দায়ী। এসব ইনহেলারে হাইড্রোফ্লুরোআলকেন (এইচএফএ) নামের গ্যাস ব্যবহার করা হয়, যা একটি শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস।

 

অন্যদিকে, ড্রাই পাউডার ইনহেলার ও সফট মিস্ট ইনহেলার পরিবেশের জন্য তুলনামূলকভাবে অনেক কম ক্ষতিকর। ড্রাই পাউডার ইনহেলার রোগীর নিজস্ব শ্বাসের জোরে ওষুধ ছাড়ে, আর সফট মিস্ট ইনহেলার তরলকে সূক্ষ্ম স্প্রে আকারে রূপান্তর করে।

বিভিন্ন ধরনের ড্রাই পাউডার ইনহেলার

গবেষণার প্রধান লেখক ও ইউসিএলএ’র ফুসফুস বিশেষজ্ঞ ড. উইলিয়াম ফেল্ডম্যান বলেন, প্রতিবছর ৫ লাখ ৩০ হাজার গাড়ির সমান নিঃসরণ একটি বিশাল সংখ্যা। কিন্তু বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এতে করে ইনহেলারের যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ে নতুন করে ভাবার আলোচনা হবে।

 

তিনি জানান, চিকিৎসাগতভাবে খুব অল্প সংখ্যক রোগীর আসলে মিটারড-ডোজ ইনহেলারের প্রয়োজন। খুব ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে স্পেসার ব্যবহারের কারণে এগুলোর প্রয়োজন হয়, আবার বয়স্ক দুর্বল ফুসফুসের রোগীরাও কখনো এ ধরনের ইনহেলারের উপর নির্ভরশীল হন।

 

বলেছেন ফেল্ডম্যানের মতে, বেশিরভাগ রোগীর জন্য ড্রাই পাউডার বা সফট মিস্ট ইনহেলারই যথেষ্ট। সুইডেন ও জাপানের মতো দেশে বিকল্প ইনহেলার ব্যবহারে কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা যায়নি।

 

গবেষণায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে পরিবেশবান্ধব ইনহেলার ব্যবহারে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে মূলত বীমা কাভারেজ ও বাজার নীতির কারণে।

 

ড. ফেল্ডম্যান বলেন, এই গবেষণার উদ্দেশ্য রোগীদের দায়ী করা নয়, বরং নীতিনির্ধারক ও বীমা সংস্থাগুলোর কাছে পরিবর্তনের আহ্বান জানানো।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

খাগড়াছড়িতে বনমোরগ জব্দ করে ‘দেশি মোরগ’ অবমুক্ত!

হাঁপানির ইনহেলার থেকে বছরে ৫ লাখ গাড়ির সমপরিমাণ কার্বন নিঃসরণ!

আপডেট সময় ০৬:২২:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫

হাঁপানি রোগীদের আপদকালের পরমবন্ধু ইনহেলার। কিন্তু মিটারেড ডোজ ইনহেলারে (MDIs) ব্যবহৃত হয়য় হাইড্রোফ্লুরোকার্বন (HFC)। এই এইচএফসি একটি গ্রিনহাউস গ্যাস, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়নে অন্যতম দায়ী। একটি মিটারেড ডোজ ইনহেলারের কার্বন ফুটপ্রিন্ট একটি গাড়ির প্রতি কিলোমিটারে কার্বন নিঃসরণের সমতুল্য হতে পারে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই এসব ইনহেলার থেকে বছরে যত পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ হয়, তা আধা মিলিয়ন বা ৫ লাখ গাড়ির সমান।

 

এই আপাতত নিরীহ ইনহেলারের ভয়ানক প্রভাব নিয়ে করা গবেষণা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আলজাজিরা।

 

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, লস অ্যাঞ্জেলেস (ইউসিএলএ) ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে হাঁপানি ও ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি) চিকিৎসায় ব্যবহৃত তিন ধরনের ইনহেলারের জলবায়ু ক্ষতিকর গ্যাস নির্গমন বিশ্লেষণ করেন। এই গবেষণাটি জার্নাল অব দ্য আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (জেএএমএ)-এ প্রকাশিত হয়েছে।

 

গবেষণায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিক বীমা ও সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি (মেডিকেইড ও মেডিকেয়ার) ব্যবহাকারী রোগীদের ইনহেলারগুলো গত এক দশকে মোট ২ কোটি ৪৯ লাখ মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমপরিমাণ গ্যাস নির্গমন করেছে।

 

এর মধ্যে মিটারড ডোজ ইনহেলার বা জনপ্রিয়ভাবে পরিচিত “পাফার” ইনহেলারগুলো সবচেয়ে ক্ষতিকর, যা মোট নিঃসরণের ৯৮ শতাংশের জন্য দায়ী। এসব ইনহেলারে হাইড্রোফ্লুরোআলকেন (এইচএফএ) নামের গ্যাস ব্যবহার করা হয়, যা একটি শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস।

 

অন্যদিকে, ড্রাই পাউডার ইনহেলার ও সফট মিস্ট ইনহেলার পরিবেশের জন্য তুলনামূলকভাবে অনেক কম ক্ষতিকর। ড্রাই পাউডার ইনহেলার রোগীর নিজস্ব শ্বাসের জোরে ওষুধ ছাড়ে, আর সফট মিস্ট ইনহেলার তরলকে সূক্ষ্ম স্প্রে আকারে রূপান্তর করে।

বিভিন্ন ধরনের ড্রাই পাউডার ইনহেলার

গবেষণার প্রধান লেখক ও ইউসিএলএ’র ফুসফুস বিশেষজ্ঞ ড. উইলিয়াম ফেল্ডম্যান বলেন, প্রতিবছর ৫ লাখ ৩০ হাজার গাড়ির সমান নিঃসরণ একটি বিশাল সংখ্যা। কিন্তু বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এতে করে ইনহেলারের যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ে নতুন করে ভাবার আলোচনা হবে।

 

তিনি জানান, চিকিৎসাগতভাবে খুব অল্প সংখ্যক রোগীর আসলে মিটারড-ডোজ ইনহেলারের প্রয়োজন। খুব ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে স্পেসার ব্যবহারের কারণে এগুলোর প্রয়োজন হয়, আবার বয়স্ক দুর্বল ফুসফুসের রোগীরাও কখনো এ ধরনের ইনহেলারের উপর নির্ভরশীল হন।

 

বলেছেন ফেল্ডম্যানের মতে, বেশিরভাগ রোগীর জন্য ড্রাই পাউডার বা সফট মিস্ট ইনহেলারই যথেষ্ট। সুইডেন ও জাপানের মতো দেশে বিকল্প ইনহেলার ব্যবহারে কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা যায়নি।

 

গবেষণায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে পরিবেশবান্ধব ইনহেলার ব্যবহারে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে মূলত বীমা কাভারেজ ও বাজার নীতির কারণে।

 

ড. ফেল্ডম্যান বলেন, এই গবেষণার উদ্দেশ্য রোগীদের দায়ী করা নয়, বরং নীতিনির্ধারক ও বীমা সংস্থাগুলোর কাছে পরিবর্তনের আহ্বান জানানো।