সংবাদ শিরোনাম ::
Logo এবার মুস্তাফিজকে নিয়ে মুখ খুললেন সাকিব আল হাসান Logo বাঘ-হাতি হত্যা করলে ৭ বছর জেল, ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অন্যান্য প্রাণী শিকারেও দ্বিগুণ শাস্তি Logo নির্বাচনে ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা Logo হাইড্রোজেন ওয়াটার যে উপকারে আসে Logo ট্রাম্পের সামরিক বৈঠক, ইরানও প্রস্তুত! দুই দেশ কি তবে শিগগিরই যুদ্ধে জড়াচ্ছে? Logo তাহসান-রোজার বিচ্ছেদ নিয়ে পাওয়া গেল চাঞ্চল্যকর তথ্য Logo এবার স্পন্সরশিপ হারাচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেট Logo মাত্র ২ চিকিৎসক দিয়ে দেশের সব বন্যপ্রাণীর চিকিৎসা! Logo মুহাম্মদ মনির হোসেন সম্পাদিত ‘নদীকাহন’ গ্রন্থের পাঠ উন্মোচন Logo শ্রমিকরাই মূলত দেশ গড়ার কারিগর: ড. মঈন খান

হাতি সংরক্ষণে হাতে নেয়া হয়েছে প্রকল্প, রেললাইনে বসছে ক্যামেরা

হাতি সংরক্ষণে হাতে নেয়া হয়েছে প্রকল্প, রেললাইনে বসছে ক্যামেরা

অবশেষে হাতি রক্ষায় প্রথমবারের মতো নেওয়া হলো প্রকল্প। আহত হাতির চিকিৎসার জন্য সিলেট, শেরপুর, চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটিতে হবে হাসপাতাল। আর ব্যক্তি পর্যায়ে থাকা হাতি বাঁচাতে কক্সবাজার চুনতি বনে গড়ে তোলা হবে অভয়াশ্রম। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ৩৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকার এই প্রকল্প চলতি বছর থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে ২০২৮ এর জুনে।

 

খাবার সংকট থাকায় হাতির দল প্রায়ই চলে আসে লোকালয়ে। এতে স্থানীয়দের হামলায় হাতি ও মানুষের সংঘাত বাড়ছে। রাঙামাটি, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার খাগড়াছড়ি ও শেরপুরে গত এক বছরে ২০টি হাতি মারা গেছে।

মোঘল থেকে ব্রিটিশ আমলে রাজা-বাদশাহরা ব্যবহার করতেন হাতি। কাজে এসেছে বনের গাছের গুড়ি টানতেও। এর পর আসে সার্কাস। এখন ব্যক্তিপর্যায়ের হাতি দিয়ে করা হচ্ছে চাঁদাবাজি। তাই পোষা হাতি বাঁচাতে একটি অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হবে কক্সবাজারে চুনতি বনে। যার আয়তন হবে ১০ কিলোমিটার। হবে হাতির খাবার উপযোগী গাছের বনায়ন। ৩০টি লবণের সল্টলিক, ৪০টি জলাধার গড়ে তোলা হবে।

 

চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত নির্মিত ১০৩ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথের ২৭ কিলোমিটার গেছে সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে।

 

এমন জায়গায় রেললাইন তৈরি করা হয়েছে, যেটি ছিল এশিয়ান হাতির করিডর (চলচলের পথ)। এভাবে লাইন স্থাপনের কারণে হাতির চলাচলের পথে বাধা তৈরি হয়। যদিও হাতির চলাফেরা নির্বিঘ্ন করার জন্য রেললাইনের ওপর নির্মাণ করা হয় ওভারপাস ও আন্ডারপাস। এরপরও দুর্ঘটনা ঘটছে।

বর্তমানে চুনতি অভয়ারণ্যে প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি হাতি আছে। এই হাতির পাল লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও চকরিয়ার বনজুড়ে চলাচল করে। এ জন্য রেললাইন পার হতে হয়।

 

রেললাইনে এসে বিপণ্নপ্রায় এশিয়ান হাতির যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সে জন্য ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে। দেশের বাইরে থেকে আনা হচ্ছে এসব ক্যামেরা। মূলত এগুলো সেন্সর ক্যামেরা হিসেবে কাজ করবে। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে হাতি চলাচলের যেসব পথ রয়েছে, সেখানে বসানো হবে ক্যামেরাগুলো।

 

ক্যামেরাগুলো হাতির অবয়ব চিহ্নিত করতে পারবে। যদি কখনো হাতি বা হাতির পাল রেললাইনে চলে আসে, তাহলে তা ছবি আকারে সিগন্যাল বা সংকেত পাঠাবে। এই সংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রেললাইনের পাশে থাকা লাল বাতিগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলে উঠবে। এই লাল বাতি দেখে চলন্ত ট্রেনের ট্রেনচালক (লোকোমাস্টার) বুঝতে পারবেন, রেললাইনে হাতির পাল বা হাতি রয়েছে। তখন তিনি ট্রেনের গতি কমাবেন এবং থামাবেন।

 

দেখা যাক, অস্তিত্ব সংকটে পড়া দেশের হাতিদের রক্ষায় কতটুকু কাজে আসে এসব প্রকল্প।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

এবার মুস্তাফিজকে নিয়ে মুখ খুললেন সাকিব আল হাসান

হাতি সংরক্ষণে হাতে নেয়া হয়েছে প্রকল্প, রেললাইনে বসছে ক্যামেরা

আপডেট সময় ০২:৫৪:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫

অবশেষে হাতি রক্ষায় প্রথমবারের মতো নেওয়া হলো প্রকল্প। আহত হাতির চিকিৎসার জন্য সিলেট, শেরপুর, চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটিতে হবে হাসপাতাল। আর ব্যক্তি পর্যায়ে থাকা হাতি বাঁচাতে কক্সবাজার চুনতি বনে গড়ে তোলা হবে অভয়াশ্রম। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ৩৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকার এই প্রকল্প চলতি বছর থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে ২০২৮ এর জুনে।

 

খাবার সংকট থাকায় হাতির দল প্রায়ই চলে আসে লোকালয়ে। এতে স্থানীয়দের হামলায় হাতি ও মানুষের সংঘাত বাড়ছে। রাঙামাটি, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার খাগড়াছড়ি ও শেরপুরে গত এক বছরে ২০টি হাতি মারা গেছে।

মোঘল থেকে ব্রিটিশ আমলে রাজা-বাদশাহরা ব্যবহার করতেন হাতি। কাজে এসেছে বনের গাছের গুড়ি টানতেও। এর পর আসে সার্কাস। এখন ব্যক্তিপর্যায়ের হাতি দিয়ে করা হচ্ছে চাঁদাবাজি। তাই পোষা হাতি বাঁচাতে একটি অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হবে কক্সবাজারে চুনতি বনে। যার আয়তন হবে ১০ কিলোমিটার। হবে হাতির খাবার উপযোগী গাছের বনায়ন। ৩০টি লবণের সল্টলিক, ৪০টি জলাধার গড়ে তোলা হবে।

 

চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত নির্মিত ১০৩ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথের ২৭ কিলোমিটার গেছে সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে।

 

এমন জায়গায় রেললাইন তৈরি করা হয়েছে, যেটি ছিল এশিয়ান হাতির করিডর (চলচলের পথ)। এভাবে লাইন স্থাপনের কারণে হাতির চলাচলের পথে বাধা তৈরি হয়। যদিও হাতির চলাফেরা নির্বিঘ্ন করার জন্য রেললাইনের ওপর নির্মাণ করা হয় ওভারপাস ও আন্ডারপাস। এরপরও দুর্ঘটনা ঘটছে।

বর্তমানে চুনতি অভয়ারণ্যে প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি হাতি আছে। এই হাতির পাল লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও চকরিয়ার বনজুড়ে চলাচল করে। এ জন্য রেললাইন পার হতে হয়।

 

রেললাইনে এসে বিপণ্নপ্রায় এশিয়ান হাতির যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সে জন্য ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে। দেশের বাইরে থেকে আনা হচ্ছে এসব ক্যামেরা। মূলত এগুলো সেন্সর ক্যামেরা হিসেবে কাজ করবে। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে হাতি চলাচলের যেসব পথ রয়েছে, সেখানে বসানো হবে ক্যামেরাগুলো।

 

ক্যামেরাগুলো হাতির অবয়ব চিহ্নিত করতে পারবে। যদি কখনো হাতি বা হাতির পাল রেললাইনে চলে আসে, তাহলে তা ছবি আকারে সিগন্যাল বা সংকেত পাঠাবে। এই সংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রেললাইনের পাশে থাকা লাল বাতিগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলে উঠবে। এই লাল বাতি দেখে চলন্ত ট্রেনের ট্রেনচালক (লোকোমাস্টার) বুঝতে পারবেন, রেললাইনে হাতির পাল বা হাতি রয়েছে। তখন তিনি ট্রেনের গতি কমাবেন এবং থামাবেন।

 

দেখা যাক, অস্তিত্ব সংকটে পড়া দেশের হাতিদের রক্ষায় কতটুকু কাজে আসে এসব প্রকল্প।