সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সাকার ফিশের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধে’ নেমেছে সেনাবাহিনী! Logo হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু Logo চলতি মাসে ২-৩ টি তীব্র কালবৈশাখী হতে পারে, রয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা Logo পদ্মা ব্যারেজ: ইলিশের ভাল-মন্দ Logo ২৭তম বিসিএসের বঞ্চিত আরও ৯৬ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন Logo ঈদযাত্রার ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু Logo পরিবেশ দূষণকারীদের ‘মানুষরূপী চতুষ্পদ প্রাণী’ বললেন গাজীপুরের ডিসি   Logo লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় সরকারের নিন্দা Logo শতবর্ষে প্রকৃতির কণ্ঠস্বর: স্যার ডেভিড অ্যাটেনবরো, জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ুর এক অনন্য যোদ্ধা Logo মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানকে বিধ্বস্ত করেছে বাংলাদেশ

হাম হলে শিশুকে যেসব খাবার খাওয়াবেন

হাম হলে শিশুকে যেসব খাবার খাওয়াবেন

১৬ এপ্রিল ২০২৬

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক তীব্র ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত শিশুদের আক্রান্ত করে। তবে যেকোনো বয়সেই এ রোগ হতে পারে। বর্তমানে বিশ্বজুড়েই এ রোগে শিশুমৃত্যুর হার উদ্বেগজনক। ভাইরাসটি শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায় এবং প্রধান লক্ষণ শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া। সাধারণত সংক্রমণের প্রায় ১৪ দিন পর উপসর্গ প্রকাশ পায় এবং তা ধীরে ধীরে মাথা থেকে শরীরের নিচের অংশে ছড়িয়ে পড়ে। ফুসকুড়ি ওঠার চার দিন আগে থেকে শুরু করে চার দিন পর পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তি সংক্রামক থাকে।

যেসব লক্ষণ দেখা যায়

  • উচ্চ জ্বর
  • নাক দিয়ে পানি পড়া
  • কাশি
  • চোখ লাল হওয়া ও পানি পড়া
  • চ্যাপ্টা লাল ফুসকুড়ি, যা পরে উঁচু হতে পারে

শিশুকে যা খাওয়াবেন

হাম থেকে দ্রুত সেরে ওঠার জন্য সুষম পুষ্টি ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম অত্যন্ত জরুরি। এ সময় শিশুর জন্য পরিকল্পিত ও পুষ্টিকর খাদ্যতালিকা প্রয়োজন। হাম (Measles) হলে শিশু শারীরিকভাবে বেশ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এই সময়ে সঠিক পুষ্টির দিকে নজর দেওয়া খুব জরুরি যাতে শিশু দ্রুত সেরে ওঠে এবং কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না হয়। কারণ শিশুর শরীর দুর্বল হয়ে যায়, জ্বর, ফুসকুড়ি ও মুখে ঘা হতে পারে। তাই তখন খাবার হওয়া উচিত সহজপাচ্য, পুষ্টিকর এবং শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এমন।

শিশুকে যেসব খাবার খাওয়ানো উচিত:

  • ফলের রস ও হালকা খাবার: প্রাথমিক পর্যায়ে কমলা ও লেবুর মতো ফলের রস দেওয়া যেতে পারে। এতে ক্ষুধা বাড়ে এবং শরীর কিছুটা শক্তি পায়।
  • পর্যাপ্ত তরল খাবার: পানিশূন্যতা এড়াতে প্রচুর পানি, স্যুপ, পানিযুক্ত ফল ও শাকসবজি খাওয়াতে হবে। কুসুম গরম তরল খাবার শরীরকে স্বস্তি দেয় এবং টক্সিন দূর করতে সহায়তা করে।
  • ভিটামিন ‘এ’সমৃদ্ধ খাবার: ভিটামিন ‘এ’ সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়ক। গাজর, মিষ্টি আলু, পালংশাক ও ব্রকলি খাদ্যতালিকায় রাখুন।
  • প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার: শরীরের পুনরুদ্ধারের জন্য চর্বিহীন মাংস, মাছ, ডিম, দুধ, ডাল, বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার উপকারী।
  • জিংকসমৃদ্ধ খাবার: রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে লাল মাংস, মুরগি, শিম, বাদাম ও পূর্ণ শস্য উপকারী।
  • ভিটামিন ‘সি’সমৃদ্ধ খাবার: লেবুজাতীয় ফল, স্ট্রবেরি, ক্যাপসিকাম ও কিউই রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।

যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন

  • চিনিযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার
  • অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার
  • ঝাল খাবার (গলা ও কাশি বাড়াতে পারে)
  • ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় (পানিশূন্যতা বাড়ায়)

কিছু জরুরি পরামর্শ:

  • ভিটামিন-এ ক্যাপসুল: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুকে উচ্চমাত্রার ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি হামের জটিলতা অনেক কমিয়ে দেয়।
  • অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ান: শিশু একবারে বেশি খেতে না চাইলে জোর করবেন না। বরং অল্প পরিমাণ খাবার বারবার দিন।
  • পরিচ্ছন্নতা: শিশুর খাওয়ার পাত্র ও চারপাশ পরিষ্কার রাখুন।

সতর্কতা: যদি শিশুর শ্বাসকষ্ট হয়, প্রচুর কাশি থাকে, কান দিয়ে পুঁজ পড়ে কিংবা শিশু অস্বাভাবিক নিস্তেজ হয়ে পড়ে, তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

অতিরিক্ত যত্ন

হাম অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখতে হবে। সম্পূর্ণ বিশ্রাম নিশ্চিত করা জরুরি, কারণ এটি দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত পানি, পুষ্টিকর খাবার এবং বিশ্রামের সমন্বয়ই দ্রুত আরোগ্যের মূল চাবিকাঠি।

এ সময় শিশুর খাদ্যতালিকা বা উপসর্গ নিয়ে কোনো উদ্বেগ থাকলে পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন।

 

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাকার ফিশের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধে’ নেমেছে সেনাবাহিনী!

হাম হলে শিশুকে যেসব খাবার খাওয়াবেন

আপডেট সময় ০৫:৪৩:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

১৬ এপ্রিল ২০২৬

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক তীব্র ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত শিশুদের আক্রান্ত করে। তবে যেকোনো বয়সেই এ রোগ হতে পারে। বর্তমানে বিশ্বজুড়েই এ রোগে শিশুমৃত্যুর হার উদ্বেগজনক। ভাইরাসটি শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায় এবং প্রধান লক্ষণ শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া। সাধারণত সংক্রমণের প্রায় ১৪ দিন পর উপসর্গ প্রকাশ পায় এবং তা ধীরে ধীরে মাথা থেকে শরীরের নিচের অংশে ছড়িয়ে পড়ে। ফুসকুড়ি ওঠার চার দিন আগে থেকে শুরু করে চার দিন পর পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তি সংক্রামক থাকে।

যেসব লক্ষণ দেখা যায়

  • উচ্চ জ্বর
  • নাক দিয়ে পানি পড়া
  • কাশি
  • চোখ লাল হওয়া ও পানি পড়া
  • চ্যাপ্টা লাল ফুসকুড়ি, যা পরে উঁচু হতে পারে

শিশুকে যা খাওয়াবেন

হাম থেকে দ্রুত সেরে ওঠার জন্য সুষম পুষ্টি ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম অত্যন্ত জরুরি। এ সময় শিশুর জন্য পরিকল্পিত ও পুষ্টিকর খাদ্যতালিকা প্রয়োজন। হাম (Measles) হলে শিশু শারীরিকভাবে বেশ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এই সময়ে সঠিক পুষ্টির দিকে নজর দেওয়া খুব জরুরি যাতে শিশু দ্রুত সেরে ওঠে এবং কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না হয়। কারণ শিশুর শরীর দুর্বল হয়ে যায়, জ্বর, ফুসকুড়ি ও মুখে ঘা হতে পারে। তাই তখন খাবার হওয়া উচিত সহজপাচ্য, পুষ্টিকর এবং শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এমন।

শিশুকে যেসব খাবার খাওয়ানো উচিত:

  • ফলের রস ও হালকা খাবার: প্রাথমিক পর্যায়ে কমলা ও লেবুর মতো ফলের রস দেওয়া যেতে পারে। এতে ক্ষুধা বাড়ে এবং শরীর কিছুটা শক্তি পায়।
  • পর্যাপ্ত তরল খাবার: পানিশূন্যতা এড়াতে প্রচুর পানি, স্যুপ, পানিযুক্ত ফল ও শাকসবজি খাওয়াতে হবে। কুসুম গরম তরল খাবার শরীরকে স্বস্তি দেয় এবং টক্সিন দূর করতে সহায়তা করে।
  • ভিটামিন ‘এ’সমৃদ্ধ খাবার: ভিটামিন ‘এ’ সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়ক। গাজর, মিষ্টি আলু, পালংশাক ও ব্রকলি খাদ্যতালিকায় রাখুন।
  • প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার: শরীরের পুনরুদ্ধারের জন্য চর্বিহীন মাংস, মাছ, ডিম, দুধ, ডাল, বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার উপকারী।
  • জিংকসমৃদ্ধ খাবার: রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে লাল মাংস, মুরগি, শিম, বাদাম ও পূর্ণ শস্য উপকারী।
  • ভিটামিন ‘সি’সমৃদ্ধ খাবার: লেবুজাতীয় ফল, স্ট্রবেরি, ক্যাপসিকাম ও কিউই রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।

যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন

  • চিনিযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার
  • অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার
  • ঝাল খাবার (গলা ও কাশি বাড়াতে পারে)
  • ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় (পানিশূন্যতা বাড়ায়)

কিছু জরুরি পরামর্শ:

  • ভিটামিন-এ ক্যাপসুল: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুকে উচ্চমাত্রার ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি হামের জটিলতা অনেক কমিয়ে দেয়।
  • অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ান: শিশু একবারে বেশি খেতে না চাইলে জোর করবেন না। বরং অল্প পরিমাণ খাবার বারবার দিন।
  • পরিচ্ছন্নতা: শিশুর খাওয়ার পাত্র ও চারপাশ পরিষ্কার রাখুন।

সতর্কতা: যদি শিশুর শ্বাসকষ্ট হয়, প্রচুর কাশি থাকে, কান দিয়ে পুঁজ পড়ে কিংবা শিশু অস্বাভাবিক নিস্তেজ হয়ে পড়ে, তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

অতিরিক্ত যত্ন

হাম অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখতে হবে। সম্পূর্ণ বিশ্রাম নিশ্চিত করা জরুরি, কারণ এটি দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত পানি, পুষ্টিকর খাবার এবং বিশ্রামের সমন্বয়ই দ্রুত আরোগ্যের মূল চাবিকাঠি।

এ সময় শিশুর খাদ্যতালিকা বা উপসর্গ নিয়ে কোনো উদ্বেগ থাকলে পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন।