৬৬ সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সরে যাওয়ায় বাংলাদেশে সম্ভাব্য প্রভাব

৬৬ সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সরে যাওয়ায় বাংলাদেশে সম্ভাব্য প্রভাব

জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাসহ মোট ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংগঠন থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণার দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার। গত বুধবার এক প্রেসিডেন্সিয়াল স্মারকের মাধ্যমে এসব সংস্থার তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি)সহ জাতিসংঘের ৩১টি সংস্থার নাম রয়েছে।

 

এই ঘোষণার পর বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত বহুপাক্ষিক সহযোগিতা কাঠামোকে দুর্বল করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

রোববার (১১ জানুয়ারি) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। ইউএনএফসিসিসি, আইপিসিসি ও অন্যান্য জলবায়ু সংস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অর্থায়ন, নীতিগত সমর্থন ও নৈতিক অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারত। যুক্তরাষ্ট্র এসব সংস্থা থেকে সরে গেলে জলবায়ু অভিযোজন ও ক্ষতিপূরণমূলক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, এসব সংস্থা ‘আমেরিকান স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ’ এবং ‘অকার্যকর ও বৈরি এজেন্ডা’ অনুসরণ করছে- এই যুক্তিতেই যুক্তরাষ্ট্র সরে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউএনএফসিসিসি ছাড়াও ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি)। জলবায়ু বিজ্ঞান বিষয়ে আইপিসিসি বিশ্বের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য গবেষণা সংস্থা হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্র সরে গেলে সেখানে দেশটির বিজ্ঞানীদের অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

 

এ ছাড়া জাতিসংঘের আরও যেসব সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টার, জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল, জাতিসংঘ গণতন্ত্র তহবিল ও ইউএন ইউনিভার্সিটি।

 

জাতিসংঘের বাইরে ৩৫টি সংস্থার মধ্যে আছে আন্তর্জাতিক সৌর জোট, ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি ফোরাম ও গ্লোবাল কাউন্টারটেররিজম ফোরামের মতো সংগঠন।

 

মোট কথা গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু চুক্তি, মানবাধিকার, গণতন্ত্র, লিঙ্গসমতা ও নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করা বহু বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাচ্ছে।

 

এছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবাধিকার, লিঙ্গসমতা ও মানবিক সহায়তায় কাজ করা বহু আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে পারে। বাংলাদেশে এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সংস্থা মার্কিন সহায়তায় প্রকল্প পরিচালনা করে আসছিল।

 

প্রভাব আগেই টের পেয়েছে বাংলাদেশ

এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে বাংলাদেশে ইউএসএআইডি অর্থায়িত বহু প্রকল্প স্থগিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশ প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৫০ কোটি ডলার মার্কিন সহায়তা পেয়ে আসছিল। এই সহায়তা খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, গণতন্ত্র, পরিবেশ ও রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে রোহিঙ্গা সহায়তা ছাড়া অন্যান্য প্রায় সব খাতে মার্কিন অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

 

বিশ্বব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরে দাঁড়ানোর প্রতীকী মূল্যও অনেক বড়। এতে অন্য ধনী দেশগুলোরও অর্থায়ন কমানোর প্রবণতা বাড়তে পারে। তাঁর মতে, এতে বৈশ্বিক সহযোগিতা দুর্বল হবে এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বিভাজন আরও গভীর হতে পারে।

 

সূত্র: বিবিসি বাংলা

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

প্লাস্টিক দূষণ রোধে বৈশ্বিক চুক্তির আলোচনা করতে নতুন নেতা নির্বাচিত  

৬৬ সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সরে যাওয়ায় বাংলাদেশে সম্ভাব্য প্রভাব

আপডেট সময় ০১:১০:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাসহ মোট ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংগঠন থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণার দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার। গত বুধবার এক প্রেসিডেন্সিয়াল স্মারকের মাধ্যমে এসব সংস্থার তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি)সহ জাতিসংঘের ৩১টি সংস্থার নাম রয়েছে।

 

এই ঘোষণার পর বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত বহুপাক্ষিক সহযোগিতা কাঠামোকে দুর্বল করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

রোববার (১১ জানুয়ারি) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। ইউএনএফসিসিসি, আইপিসিসি ও অন্যান্য জলবায়ু সংস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অর্থায়ন, নীতিগত সমর্থন ও নৈতিক অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারত। যুক্তরাষ্ট্র এসব সংস্থা থেকে সরে গেলে জলবায়ু অভিযোজন ও ক্ষতিপূরণমূলক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, এসব সংস্থা ‘আমেরিকান স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ’ এবং ‘অকার্যকর ও বৈরি এজেন্ডা’ অনুসরণ করছে- এই যুক্তিতেই যুক্তরাষ্ট্র সরে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউএনএফসিসিসি ছাড়াও ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি)। জলবায়ু বিজ্ঞান বিষয়ে আইপিসিসি বিশ্বের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য গবেষণা সংস্থা হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্র সরে গেলে সেখানে দেশটির বিজ্ঞানীদের অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

 

এ ছাড়া জাতিসংঘের আরও যেসব সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টার, জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল, জাতিসংঘ গণতন্ত্র তহবিল ও ইউএন ইউনিভার্সিটি।

 

জাতিসংঘের বাইরে ৩৫টি সংস্থার মধ্যে আছে আন্তর্জাতিক সৌর জোট, ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি ফোরাম ও গ্লোবাল কাউন্টারটেররিজম ফোরামের মতো সংগঠন।

 

মোট কথা গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু চুক্তি, মানবাধিকার, গণতন্ত্র, লিঙ্গসমতা ও নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করা বহু বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাচ্ছে।

 

এছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবাধিকার, লিঙ্গসমতা ও মানবিক সহায়তায় কাজ করা বহু আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে পারে। বাংলাদেশে এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সংস্থা মার্কিন সহায়তায় প্রকল্প পরিচালনা করে আসছিল।

 

প্রভাব আগেই টের পেয়েছে বাংলাদেশ

এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে বাংলাদেশে ইউএসএআইডি অর্থায়িত বহু প্রকল্প স্থগিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশ প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৫০ কোটি ডলার মার্কিন সহায়তা পেয়ে আসছিল। এই সহায়তা খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, গণতন্ত্র, পরিবেশ ও রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে রোহিঙ্গা সহায়তা ছাড়া অন্যান্য প্রায় সব খাতে মার্কিন অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

 

বিশ্বব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরে দাঁড়ানোর প্রতীকী মূল্যও অনেক বড়। এতে অন্য ধনী দেশগুলোরও অর্থায়ন কমানোর প্রবণতা বাড়তে পারে। তাঁর মতে, এতে বৈশ্বিক সহযোগিতা দুর্বল হবে এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বিভাজন আরও গভীর হতে পারে।

 

সূত্র: বিবিসি বাংলা