সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বুদ্ধ পূর্ণিমায় কেন প্রাণী অবমুক্ত করা হয়? Logo পরিবেশবান্ধব পরিবহনে উৎসাহ: ই-বাস, ট্রাক আমদানিতে বড় শুল্ক ছাড় দিলো সরকার Logo পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি এগিয়ে, মমতাযুগের সমাপ্তির ইঙ্গিত Logo পরিবেশের জন্য ইরান যুদ্ধ শাপে বর: জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে আগ্রহ বাড়ছে Logo যুক্তরাষ্ট্রে হত্যার শিকার শিক্ষার্থী লিমনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে Logo হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু Logo এপ্রিলে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টি, মে মাসে প্রবণতা কমে তাপমাত্রা বৃদ্ধির আভাস Logo বিলুপ্তির প্রায় ২০০ বছর পর নিজ পরিবেশে ফিরে এলো কেলোনাইডিস নাইজার কচ্ছপ Logo এবছর বন্যায় আক্রান্ত হতে পারে দক্ষিণ এশিয়াসহ আফ্রিকা-ইউরোপের যেসব দেশ Logo সুস্থ থাকতে প্রতিদিন কতবার খাওয়া উচিত

পরিবেশের জন্য ইরান যুদ্ধ শাপে বর: জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে আগ্রহ বাড়ছে

পরিবেশের জন্য ইরান যুদ্ধ শাপে বর: জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে আগ্রহ বাড়ছে

ইরান ও সংলগ্ন অঞ্চল অর্থাৎ পশ্চিম এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বাজারেও।

তেল ও গ্যাসের দামের অস্থিরতার মধ্যে এখন অনেক বিনিয়োগকারী পরিচ্ছন্ন বা নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অর্থ ঢালছেন। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুশক্তি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোয় বিনিয়োগ দ্রুত বাড়ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান মর্নিংস্টারের তথ্যানুযায়ী, এপ্রিলে নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বৈশ্বিক ইটিএফ বা এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ এসেছে। ফলে এসব তহবিলের মোট সম্পদের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩০০ কোটি ডলারে। ২০২১ সালের জানুয়ারির পর এটিই সবচেয়ে বড় মাসিক বিনিয়োগ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কয়েক বছর আগে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বিনিয়োগের প্রধান কারণ ছিল জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা। তবে এখন পরিস্থিতি বদলেছে। বর্তমানে অনেক দেশ ও বিনিয়োগকারী জ্বালানি নিরাপত্তাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সে প্রবণতাকে আরো জোরালো করেছে।

ফরাসি ব্যাংক সোসিয়েতে জেনারেলের বৈশ্বিক ইকুইটি কৌশল বিভাগের প্রধান চার্লস ডি বোয়েসজন বলেন, ‘‌বর্তমানে বিদেশী জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি বুঝতে পারছেন বিনিয়োগকারীরা।’ তার ভাষায়, এটি শুধু নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রতি আগ্রহ নয়, বরং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি কৌশল।

তিনি আরো বলেন, ‘‌যুক্তরাষ্ট্রে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও সেটি উল্টো এ খাতের জন্য সহায়ক হয়েছে। কারণ অনেক বিনিয়োগকারী এখন দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ ও স্থিতিশীল জ্বালানি উৎস খুঁজছেন।’

যুক্তরাষ্ট্রেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিরোধিতা ও পরিবেশবিষয়ক বিভিন্ন গবেষণা এবং নিয়ন্ত্রণ নীতিতে বাধা দেয়ার পরও অনেক নবায়নযোগ্য জ্বালানি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরে অরস্টেডের শেয়ারদর প্রায় ৩৭ শতাংশ বেড়েছে। যদিও গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে কোম্পানিটির একটি বায়ুশক্তি প্রকল্প স্থগিত করেছিল।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বায়ু ও গ্যাস টারবাইন নির্মাতা এবং গ্রিড সরঞ্জাম সরবরাহকারী জিই ভারনোভার শেয়ারদর চলতি বছর ৬৫ শতাংশ বেড়েছে। ফ্লোরিডাভিত্তিক নেক্সটএরা এনার্জির শেয়ারও বেড়েছে ২২ শতাংশ। কোম্পানিটি নবায়নযোগ্য উৎস থেকে অধিকাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের পেছনে শুধু জলবায়ু বা জ্বালানি স্বাধীনতা কাজ করছে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির বিস্তারও বড় কারণ হয়ে উঠেছে। কারণ এআই ডেটা সেন্টার পরিচালনায় বিপুল বিদ্যুতের প্রয়োজন হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বেড়ে যায়। এরপর‌ই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম গত সপ্তাহে ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারে পৌঁছায়। আগে এটি ছিল প্রায় ৭০ ডলার।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পরিস্থিতিতে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরও বাড়ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিসংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারের ওঠানামা পরিমাপ করে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল ক্লিন এনার্জি ট্রানজিশন সূচক। সম্প্রতি একই সময়ে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল অয়েলের চেয়ে জ্বালানি সূচকটি ভালো অবস্থানে ছিল।

বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান বার্নস্টাইনের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি বিশ্লেষক দীপা ভেঙ্কটেশ্বরন বলেন, ‘‌স্বল্পমেয়াদে তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলো বাড়তি মুনাফা পেলেও দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ জ্বালানি মূল্য চাহিদা কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রয়োজনীয়তা আরো বাড়বে।’

তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি সৌর ও বায়ুশক্তির মতো বিকল্প জ্বালানির পক্ষে শক্ত যুক্তি তৈরি করছে। একই সঙ্গে বিদ্যুতায়নের (পেট্রল বা ডিজেলের গাড়ির বদলে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি ব্যবহার) চাহিদাও বাড়াচ্ছে।

ইউরোপে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। ব্যাংক অব আমেরিকা মার্চ শেষে ইউরোপের অফশোর বায়ুশক্তি কোম্পানি অরস্টেডের শেয়ার নিয়ে ইতিবাচক অবস্থান নেয়। প্রতিষ্ঠানটি মনে করছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ইউরোপকে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে আরো চাপ দেবে। এতে অফশোর বায়ুশক্তি বা বড় জলাশয়ের গভীরে বায়ু টারবাইন স্থাপন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাত বড় সুবিধা পাবে।

এদিকে জার্মানির বায়ুচালিত টারবাইন নির্মাতা নরডেক্সের শেয়ার চলতি বছর ৬৭ শতাংশ বেড়েছে। কোম্পানিটির সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার স্পেনের নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাকসিওনার শেয়ারদরও বেড়েছে ৩৩ শতাংশ।

এছাড়া জার্মানির সিমেন্স এনার্জির শেয়ারদর বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি বায়ুচালিত টারবাইন, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ সরঞ্জাম ও গ্রিড প্রযুক্তি সরবরাহ করে।

নর্ডিয়া অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা ক্যাসপার এলমগ্রিন বলেন, ‘২০২২ সালে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পর থেকেই ইউরোপে জ্বালানি স্বনির্ভরতা নিয়ে নতুন চিন্তা শুরু হয়। ইরান যুদ্ধ সে উদ্বেগকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।’

তার মতে, আগে নবায়নযোগ্য প্রযুক্তির প্রসার মূলত পরিবেশ ও জলবায়ু নীতির কারণে হচ্ছিল। এখন ইউরোপে এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: ফিনান্সিয়াল টাইমস, বণিক বার্তা

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

বুদ্ধ পূর্ণিমায় কেন প্রাণী অবমুক্ত করা হয়?

পরিবেশের জন্য ইরান যুদ্ধ শাপে বর: জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে আগ্রহ বাড়ছে

আপডেট সময় ০১:০৪:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

ইরান ও সংলগ্ন অঞ্চল অর্থাৎ পশ্চিম এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বাজারেও।

তেল ও গ্যাসের দামের অস্থিরতার মধ্যে এখন অনেক বিনিয়োগকারী পরিচ্ছন্ন বা নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অর্থ ঢালছেন। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুশক্তি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোয় বিনিয়োগ দ্রুত বাড়ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান মর্নিংস্টারের তথ্যানুযায়ী, এপ্রিলে নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বৈশ্বিক ইটিএফ বা এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ এসেছে। ফলে এসব তহবিলের মোট সম্পদের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩০০ কোটি ডলারে। ২০২১ সালের জানুয়ারির পর এটিই সবচেয়ে বড় মাসিক বিনিয়োগ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কয়েক বছর আগে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বিনিয়োগের প্রধান কারণ ছিল জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা। তবে এখন পরিস্থিতি বদলেছে। বর্তমানে অনেক দেশ ও বিনিয়োগকারী জ্বালানি নিরাপত্তাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সে প্রবণতাকে আরো জোরালো করেছে।

ফরাসি ব্যাংক সোসিয়েতে জেনারেলের বৈশ্বিক ইকুইটি কৌশল বিভাগের প্রধান চার্লস ডি বোয়েসজন বলেন, ‘‌বর্তমানে বিদেশী জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি বুঝতে পারছেন বিনিয়োগকারীরা।’ তার ভাষায়, এটি শুধু নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রতি আগ্রহ নয়, বরং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি কৌশল।

তিনি আরো বলেন, ‘‌যুক্তরাষ্ট্রে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও সেটি উল্টো এ খাতের জন্য সহায়ক হয়েছে। কারণ অনেক বিনিয়োগকারী এখন দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ ও স্থিতিশীল জ্বালানি উৎস খুঁজছেন।’

যুক্তরাষ্ট্রেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিরোধিতা ও পরিবেশবিষয়ক বিভিন্ন গবেষণা এবং নিয়ন্ত্রণ নীতিতে বাধা দেয়ার পরও অনেক নবায়নযোগ্য জ্বালানি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরে অরস্টেডের শেয়ারদর প্রায় ৩৭ শতাংশ বেড়েছে। যদিও গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে কোম্পানিটির একটি বায়ুশক্তি প্রকল্প স্থগিত করেছিল।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বায়ু ও গ্যাস টারবাইন নির্মাতা এবং গ্রিড সরঞ্জাম সরবরাহকারী জিই ভারনোভার শেয়ারদর চলতি বছর ৬৫ শতাংশ বেড়েছে। ফ্লোরিডাভিত্তিক নেক্সটএরা এনার্জির শেয়ারও বেড়েছে ২২ শতাংশ। কোম্পানিটি নবায়নযোগ্য উৎস থেকে অধিকাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের পেছনে শুধু জলবায়ু বা জ্বালানি স্বাধীনতা কাজ করছে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির বিস্তারও বড় কারণ হয়ে উঠেছে। কারণ এআই ডেটা সেন্টার পরিচালনায় বিপুল বিদ্যুতের প্রয়োজন হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বেড়ে যায়। এরপর‌ই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম গত সপ্তাহে ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারে পৌঁছায়। আগে এটি ছিল প্রায় ৭০ ডলার।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পরিস্থিতিতে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরও বাড়ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিসংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারের ওঠানামা পরিমাপ করে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল ক্লিন এনার্জি ট্রানজিশন সূচক। সম্প্রতি একই সময়ে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল অয়েলের চেয়ে জ্বালানি সূচকটি ভালো অবস্থানে ছিল।

বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান বার্নস্টাইনের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি বিশ্লেষক দীপা ভেঙ্কটেশ্বরন বলেন, ‘‌স্বল্পমেয়াদে তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলো বাড়তি মুনাফা পেলেও দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ জ্বালানি মূল্য চাহিদা কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রয়োজনীয়তা আরো বাড়বে।’

তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি সৌর ও বায়ুশক্তির মতো বিকল্প জ্বালানির পক্ষে শক্ত যুক্তি তৈরি করছে। একই সঙ্গে বিদ্যুতায়নের (পেট্রল বা ডিজেলের গাড়ির বদলে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি ব্যবহার) চাহিদাও বাড়াচ্ছে।

ইউরোপে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। ব্যাংক অব আমেরিকা মার্চ শেষে ইউরোপের অফশোর বায়ুশক্তি কোম্পানি অরস্টেডের শেয়ার নিয়ে ইতিবাচক অবস্থান নেয়। প্রতিষ্ঠানটি মনে করছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ইউরোপকে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে আরো চাপ দেবে। এতে অফশোর বায়ুশক্তি বা বড় জলাশয়ের গভীরে বায়ু টারবাইন স্থাপন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাত বড় সুবিধা পাবে।

এদিকে জার্মানির বায়ুচালিত টারবাইন নির্মাতা নরডেক্সের শেয়ার চলতি বছর ৬৭ শতাংশ বেড়েছে। কোম্পানিটির সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার স্পেনের নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাকসিওনার শেয়ারদরও বেড়েছে ৩৩ শতাংশ।

এছাড়া জার্মানির সিমেন্স এনার্জির শেয়ারদর বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি বায়ুচালিত টারবাইন, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ সরঞ্জাম ও গ্রিড প্রযুক্তি সরবরাহ করে।

নর্ডিয়া অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা ক্যাসপার এলমগ্রিন বলেন, ‘২০২২ সালে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পর থেকেই ইউরোপে জ্বালানি স্বনির্ভরতা নিয়ে নতুন চিন্তা শুরু হয়। ইরান যুদ্ধ সে উদ্বেগকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।’

তার মতে, আগে নবায়নযোগ্য প্রযুক্তির প্রসার মূলত পরিবেশ ও জলবায়ু নীতির কারণে হচ্ছিল। এখন ইউরোপে এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: ফিনান্সিয়াল টাইমস, বণিক বার্তা