পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ঐতিহাসিক পালাবদল ঘটতে চলেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে প্রথমবারের মতো সরকার গঠনের পথে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। সোমবার (৪ মে) ভোট গণনার ট্রেন্ডে ম্যাজিক ফিগার পার করে ফেলেছে গেরুয়া শিবির। এর ফলে টানা চতুর্থবারের জন্য ক্ষমতায় ফেরার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল এবার হয়তো বিজেপিপৃষ্ট হতে চলেছে।
ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্র সরকারের ক্ষমতায় থাকা বিজেপি ১৬৮টি এবং গত তিন মেয়াদে রাজ্যের ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস ৮২টি আসনে এগিয়ে আছে। এখনো কোনো আসনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা হয়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোও অধিকাংশ আসনে বিজেপির এগিয়ে থাকার তথ্য দিচ্ছে।
আনন্দবাজারের সর্বশেষ আপডেট বলছে, এখন পর্যন্ত গণনা করা ভোটের প্রবণতা অনুযায়ী, বিজেপি এগিয়ে ১৮৩ আসনে এবং তৃণমূল ১০২ আসনে এগিয়ে আছে।
আজকের ফলাফল থেকেই নির্ধারিত হবে যে আগামী ৫ বছর পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতির মূল নিয়ন্ত্রণ থাকবে কাদের কাছে। দুপুরের মধ্যে জয়–পরাজয়ের গতিপ্রকৃতি জানা যাবে। তবে গণনা পুরোপুরি শেষ হতে কোনো কোনো কেন্দ্রে রাতও হয়ে যেতে পারে।
ভোট গণনায় বিশেষ নজর থাকবে ভবানীপুরে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ফলাফলের ওপর। কারণ, আজকের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই এ দু’জনের মধ্যে একজন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হবেন।
ভোট গণনায় এখন পর্যন্ত ভবানীপুর আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এগিয়ে আছেন। এখানে পিছিয়ে আছেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারী।
তবে নিজের দলের পারফরম্যান্স নিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। সংবাদ সংস্থা এএনআই জানায়, সাংবাদিকদের শুভেন্দু বলেন, ‘বিজেপি সরকার গঠন করছে।’
বিজেপির এই উত্থানের কারণ ব্যাখ্যা করে শুভেন্দু আরও বলেন, ‘সেখানে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ রয়েছে, সেই সাথে হিন্দুরা পদ্মফুলের (বিজেপির প্রতীক) পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এটি আমাদের জন্য একটি খুব ভালো সংকেত… এছাড়া মুসলিম ভোটেও বিভাজন হয়েছে, বিশেষ করে মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুরে।’
গত ২৩ এপ্রিল রাজ্যের ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। তার পরে দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ হয় দক্ষিণবঙ্গের সাত জেলার ১৪২টি আসনে। ২৯৪টি আসনের ভোটগ্রহণ হয়ে গেলেও আজ ভোটগণনা হবে ২৯৩টি কেন্দ্রের। কারণ, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা আসনে নির্বাচনে ‘অনিয়মের অভিযোগে’ গোটা ভোটই বাতিল বলে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২১ মে ফলতায় নতুন করে ভোটগ্রহণ হবে। ২৪ মে হবে সেই ভোটের গণনা।
সবশেষ ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস জিতেছিল ২১৫টি আসন। বিজেপির ঝুলিতে ছিল ৭৭টি আসন এবং বাকি দু’টি আসন পেয়েছিল অন্যান্যরা।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 











