সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ৭ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, আগাম বন্যার শঙ্কা Logo বুদ্ধ পূর্ণিমায় কেন প্রাণী অবমুক্ত করা হয়? Logo পরিবেশবান্ধব পরিবহনে উৎসাহ: ই-বাস, ট্রাক আমদানিতে বড় শুল্ক ছাড় দিলো সরকার Logo পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি এগিয়ে, মমতাযুগের সমাপ্তির ইঙ্গিত Logo পরিবেশের জন্য ইরান যুদ্ধ শাপে বর: জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে আগ্রহ বাড়ছে Logo যুক্তরাষ্ট্রে হত্যার শিকার শিক্ষার্থী লিমনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে Logo হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু Logo এপ্রিলে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টি, মে মাসে প্রবণতা কমে তাপমাত্রা বৃদ্ধির আভাস Logo বিলুপ্তির প্রায় ২০০ বছর পর নিজ পরিবেশে ফিরে এলো কেলোনাইডিস নাইজার কচ্ছপ Logo এবছর বন্যায় আক্রান্ত হতে পারে দক্ষিণ এশিয়াসহ আফ্রিকা-ইউরোপের যেসব দেশ

বুদ্ধ পূর্ণিমায় কেন প্রাণী অবমুক্ত করা হয়?

বুদ্ধ পূর্ণিমায় কেন প্রাণী অবমুক্ত করা হয়?

১ মে, রাতের আকাশ আলোকিত করেছিল বুদ্ধ পূর্ণিমার পূর্ণ চাঁদ। এই পুণ্যোৎসব বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে উদযাপিত হয়। বৈশাখী পূর্ণিমা দিনটি বুদ্ধের ত্রিস্মৃতি বিজড়িত। এই তিথিতে বুদ্ধ জন্মগ্রহণ করেছিলেন, বুদ্ধত্ব করেছিলেন এবং মহাপরিনির্বাণ লাভ করেছিলেন।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র এই রাতে পূর্ণিমার চাঁদের স্নিগ্ধ আলোর সঙ্গে প্রতি বছর আসে মানবতার একটি আলোকিত দিক। সেটি হলো জীবে দয়া। “জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক“, গৌতম বুদ্ধের অহিংসা ও করুণার এই বাণী ধারণ করে অন্য প্রাণীর জীবন রক্ষায় বুদ্ধ পূর্ণিমা উৎসবে থাকে একটি বিশেষ অংশ। বুদ্ধ পূর্ণিমায় মূলত পাখি বা মাছ অবমুক্ত করা হয়। অনেক সময় কচ্ছপ বা অন্য কোনো বন্দি প্রাণীও ছেড়ে দেওয়া হয়।

কেন করা হয়?

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা মনে করেন, বুদ্ধ পূর্ণিমার এই পবিত্র দিনে বন্দি প্রাণীকে খাঁচা বা বন্ধন থেকে মুক্তি দেওয়া একটি বড় পুণ্যর কাজ।

এর পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো—জীবের প্রতি করুণা: গৌতম বুদ্ধের অহিংসা ও করুণার বাণী ধারণ করে অন্য প্রাণীর জীবন রক্ষা করা।

বন্ধন মুক্তি: বিশ্বাস করা হয় যে, অন্য প্রাণীকে মুক্ত করলে নিজের জীবনের দুঃখ ও পাপের বন্ধন থেকেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

শান্তি কামনা: জগতের সকল প্রাণীর মঙ্গল ও শান্তি কামনায় এই প্রতীকী আচার পালন করা হয়।

প্রতিবছরের মতো এবারও বুদ্ধ পূর্ণিমায় রাজবন বিহারে আয়োজিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অনেক পুণ্যার্থী প্রতীকীভাবে ও ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে মাছ অবমুক্ত করেছেন। বান্দরবান শহরের রাজবাড়ি প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া মঙ্গল শোভাযাত্রার সময় শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে সাদা পায়রা উড়ানো হয়েছে। খাগড়াছড়ির পানখাইয়াপাড়া কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহার থেকে এক বিশাল মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। এসময় উৎসবে আসা পুণ্যার্থীরা জগতের সকল প্রাণীর হিতসুখ কামনায় আকাশে রঙিন বেলুন ও পায়রা অবমুক্ত করেন।

দীঘিনালার বিভিন্ন বিহারে দায়ক-দায়িকারা সমবেত হয়ে পঞ্চশীল গ্রহণ করেন। এখানে বিশেষ রীতি হিসেবে অনেক পুণ্যার্থী স্থানীয় নালা বা জলাশয়ে মাছ অবমুক্ত করে জীবদান করেন, যা এই এলাকায় বুদ্ধ পূর্ণিমার একটি অন্যতম পুণ্যকর্ম।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

৭ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, আগাম বন্যার শঙ্কা

বুদ্ধ পূর্ণিমায় কেন প্রাণী অবমুক্ত করা হয়?

আপডেট সময় ০৪:৪৯:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

১ মে, রাতের আকাশ আলোকিত করেছিল বুদ্ধ পূর্ণিমার পূর্ণ চাঁদ। এই পুণ্যোৎসব বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে উদযাপিত হয়। বৈশাখী পূর্ণিমা দিনটি বুদ্ধের ত্রিস্মৃতি বিজড়িত। এই তিথিতে বুদ্ধ জন্মগ্রহণ করেছিলেন, বুদ্ধত্ব করেছিলেন এবং মহাপরিনির্বাণ লাভ করেছিলেন।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র এই রাতে পূর্ণিমার চাঁদের স্নিগ্ধ আলোর সঙ্গে প্রতি বছর আসে মানবতার একটি আলোকিত দিক। সেটি হলো জীবে দয়া। “জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক“, গৌতম বুদ্ধের অহিংসা ও করুণার এই বাণী ধারণ করে অন্য প্রাণীর জীবন রক্ষায় বুদ্ধ পূর্ণিমা উৎসবে থাকে একটি বিশেষ অংশ। বুদ্ধ পূর্ণিমায় মূলত পাখি বা মাছ অবমুক্ত করা হয়। অনেক সময় কচ্ছপ বা অন্য কোনো বন্দি প্রাণীও ছেড়ে দেওয়া হয়।

কেন করা হয়?

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা মনে করেন, বুদ্ধ পূর্ণিমার এই পবিত্র দিনে বন্দি প্রাণীকে খাঁচা বা বন্ধন থেকে মুক্তি দেওয়া একটি বড় পুণ্যর কাজ।

এর পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো—জীবের প্রতি করুণা: গৌতম বুদ্ধের অহিংসা ও করুণার বাণী ধারণ করে অন্য প্রাণীর জীবন রক্ষা করা।

বন্ধন মুক্তি: বিশ্বাস করা হয় যে, অন্য প্রাণীকে মুক্ত করলে নিজের জীবনের দুঃখ ও পাপের বন্ধন থেকেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

শান্তি কামনা: জগতের সকল প্রাণীর মঙ্গল ও শান্তি কামনায় এই প্রতীকী আচার পালন করা হয়।

প্রতিবছরের মতো এবারও বুদ্ধ পূর্ণিমায় রাজবন বিহারে আয়োজিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অনেক পুণ্যার্থী প্রতীকীভাবে ও ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে মাছ অবমুক্ত করেছেন। বান্দরবান শহরের রাজবাড়ি প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া মঙ্গল শোভাযাত্রার সময় শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে সাদা পায়রা উড়ানো হয়েছে। খাগড়াছড়ির পানখাইয়াপাড়া কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহার থেকে এক বিশাল মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। এসময় উৎসবে আসা পুণ্যার্থীরা জগতের সকল প্রাণীর হিতসুখ কামনায় আকাশে রঙিন বেলুন ও পায়রা অবমুক্ত করেন।

দীঘিনালার বিভিন্ন বিহারে দায়ক-দায়িকারা সমবেত হয়ে পঞ্চশীল গ্রহণ করেন। এখানে বিশেষ রীতি হিসেবে অনেক পুণ্যার্থী স্থানীয় নালা বা জলাশয়ে মাছ অবমুক্ত করে জীবদান করেন, যা এই এলাকায় বুদ্ধ পূর্ণিমার একটি অন্যতম পুণ্যকর্ম।