দেশের কিছু গাছপালা ঘেরা গ্রাম মহল্লায় সন্ধ্যায় ভেসে আসে পোলাওয়ের গন্ধ। এই গন্ধ আশপাশের কোনো বাড়ির রান্নাঘর থেকে নয়, আসে একটি রহস্যময় প্রাণীর শরীর থেকে। প্রাণীটির অনেক নাম। নেউল, খাটাশ, বাগডাশ, তাল খাটাশ, ভোন্দর, লেনজা, সাইরেল নানান নামে পরিচিত এই প্রাণী। তালের রস বা তাড়ি পান করে বলে তাড়ি বা টডি বিড়াল নামেও পরিচিত। এছাড়া গন্ধের কারণে পোলাওপ্রাণী নামেও অনেক অঞ্চলে পরিচিত এই প্রাণীটি।
পুস্তকী নাম তার গন্ধগোকুল। গন্ধগোকুলের শরীর থেকে পোলাও চালের মতো সুগন্ধ আসার মূল কারণ তাদের শরীরের বিশেষ গ্রন্থি।
এদের লেজের গোড়ার কাছে বা শরীরের নিচের অংশে বিশেষ গন্ধ উৎপাদনকারী গ্রন্থি থাকে।
এই গ্রন্থি থেকে এক ধরণের সুগন্ধি তরল বা রস নিঃসৃত হয়, যার গন্ধ অনেকটা পোলাও চালের সুগন্ধের মতো মিষ্টি।
এরা নিশাচর প্রাণী এবং রাতের বেলা চলাচলের সময় এই গ্রন্থি থেকে গন্ধ ছড়াতে থাকে। এই গন্ধ সাধারণত তাদের এলাকা চিহ্নিত করতে বা সঙ্গীকে আকৃষ্ট করতে ব্যবহৃত হয়। কখনো কখনো ভয় পেলেও তারা গ্রন্থি থেকে তীব্র গন্ধ বের করতে সক্ষম।

গন্ধগোকুলের এই প্রবণতার সঙ্গে আমেরিকার স্কাঙ্ক নামের এক নিশাচর প্রাণীর স্বভাবের মিল আছে। এরা আত্মরক্ষার জন্য পায়ুপথের গ্রন্থি থেকে তীব্র দুর্গন্ধযুক্ত তরল স্প্রে করার ক্ষমতার জন্য সুপরিচিত। তবে আমাদের গন্ধগোকুল পোলাওয়ের সুবাস ছড়ায়, যদিও মাঝে মাঝে এই গন্ধও বেশ তীব্র হয়।

বাসস্থান ও খাদ্য কমে যাওয়া এবং মানুষের আগ্রাসী আক্রমণের শিকার হয়ে দেশ থেকে গন্ধগোকুল এখন বিলুপ্ত প্রায়। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) বিবেচনায় পৃথিবীর বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় উঠে এসেছে এই প্রাণী।
অথচ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গন্ধগোকুলের রয়েছে বিশেষ এক ভূমিকা। খাদ্যশৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান প্রাণীটির। গন্ধগোকুল ইঁদুরসহ ক্ষতিকর পোকামাকড় খায়। এ ছাড়া ফলমূল খেয়ে এর বীজ বিস্তারের মাধ্যমে সবুজের বিস্তার ঘটায়।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 

















