একটি দেশের অগ্রযাত্রায় সুবিন্যস্ত ও সুপরিকল্পিত স্বাস্থ্যসেবা অনেকাংশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করলেও, এদেশের বহু মানুষই এ থেকে বঞ্চিত। প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের অভাব, নার্স ও স্বাস্থ্য সহকারী না থাকা, চিকিৎসা সরঞ্জামাদির অভাব, চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি এসব কারণে চিকিৎসা সেবা ক্রমাগত ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়াও দেশের বেশির ভাগ উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার নেই। যা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের আরো একটি অন্যতম দুর্বলতা।
শুধু তাই নয়, মেডিকেল পর্যায়ে যেসব শিক্ষার্থীরা দেশের চিকিৎসাখাতে অবদান রাখতে তৈরি হয়, তার একটা মেধাবী অংশ কেবল আর্থিক স্বচ্ছলতার অভাবে ছিটকে পড়ে। একজন সুযোগ্য ডাক্তার হয়ে দেশের মানুষের সেবা করার স্বপ্ন তখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। আজমাইন হোসাইন খান তাদেরই একজন।

ঢাকার মিরপুর-১ এ ডেলটা মেডিকেল কলেজে ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে ডেন্টাল বিভাগের ৮ নং ব্যাচের শিক্ষার্থী আজমাইন।
তার বাবা পেশায় একজন চায়ের দোকানদার। আর মা গৃহিণী। পূর্বে আজমাইনের বাবা ড্রাইভার পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। যা আয় করতেন, তার বড় একটা অংশ ব্যয় হতো ছেলের মেডিক্যাল পড়ার খরচ হিসেবে। কিন্তু, আকস্মিক এক দুর্ঘটনায় আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকে ড্রাইভিং পেশা ছেড়ে দেন এবং একটি চায়ের দোকান দিয়ে তা থেকে পরিবার ও সন্তানের পড়ার জন্য আয়ের ব্যবস্থা করতে থাকেন। চায়ের দোকান থেকে সংসারে কিছুটা আয় যোগ হলেও দ্রব্যমূল্যের দৌরাত্ম ও ছেলের পড়ার খরচ সামলে পারিবারিক অসচ্ছলতা কমাতে পারছিলেনই না, সেই সাথে আজমাইনের শিক্ষাজীবনে নেমে আসে নিদারুণ এক পরিস্থিতি। আর্থিক সমস্যার কারণে তার পড়াশুনার খরচ ও হোস্টেল ভাড়া দেওয়া কষ্টকর হয়ে পরায় মেডিকেলে পড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল।
পরবর্তীতে আজমাইন জানতে পারে প্রকৃতি ও জীবন স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র সম্পর্কে, যা দেশের বিভিন্ন জেলায় গরীব ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করে থাকে। নিজের শিক্ষাজীবন আলোকিত করতে সেও তাই আবেদন করে শিক্ষাবৃত্তি প্রাপ্তির প্রত্যাশায়।

আজমাইনের আবেদন এর প্রেক্ষিতে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে তার মেডিকেল কলেজের শিক্ষাজীবন চলমান রাখতে প্রকৃতি ও জীবন স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে জুলাই ২০২৩ থেকে প্রতি মাসে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে।
সে আশা করছে, শিক্ষাবৃত্তি চলমান থাকলে মেডিক্যালের পড়াশুনা শেষ করতে পারবে। আজমাইন শিক্ষাজীবন শেষে প্রকৃতি ও জীবন স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে স্বেচ্ছাসেবক চিকিৎসক হিসেবে মানবিক ও কল্যাণমূলক কাজে সশরীরে অংশগ্রহণ করতে চায়।
ডেস্ক রিপোর্ট 















