গাজায় যুদ্ধবিরতিতে বিলম্ব, বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তেও হামলা

গাজায় যুদ্ধবিরতিতে বিলম্ব, বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তেও হামলা

রোববার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টা থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, যতক্ষণ হামাস জিম্মিদের তালিকা না দেবে ততক্ষণ যুদ্ধবিরতি শুরু হবে না। তার দপ্তর থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) যুদ্ধবিরতি শুরু না করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

চুক্তির শর্তে জিম্মি-বন্দি বিনিময়ের ২৪ ঘণ্টা আগেই নামের তালিকা দেওয়ার কথা রয়েছে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

হামাস জানিয়েছে, কারিগরি জটিলতায় তালিকা দিতে দেরি হচ্ছে।

পরে আইডিএফের এক মুখপাত্রও জানান, হামাস শর্ত না মানায় যুদ্ধবিরতি নির্ধারিত সময়ে শুরু হচ্ছে না।

সোয়া এক বছরের যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত তার অবসানে রোববার স্থানীয় সময় সকাল থেকে গাজায় শুরু হওয়ার কথা ছিল ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার বহুল আকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধবিরতি। কিন্তু চুক্তির শর্ত অনুযায়ী হামাস কোন কোন জিম্মিকে মুক্তি দেবে তার তালিকা না দেওয়ায় যু্দ্ধবিরতি শুরুর সময় পিছিয়ে দিয়েছে তেল আবিব।

বিবিসি জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তেও হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজার কয়েক জায়গায় বিস্ফোরণের পর ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।

রোববার ভোরের আগেই ইসরায়েলি বাহিনী গাজার রাফাহ থেকে মিশর ও গাজার সীমান্তবর্তী ফিলাডেলফি করিডোরের দিকে সরতে শুরু করেছিল বলে হামাসপন্থি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতির চুক্তি করতে মিশর, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্র মাসের পর মাস ধরে চেষ্টা চালিয়ে গেছে, শেষ পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের আগে গলে বরফ।

চুক্তি অনুযায়ী, তিন ধাপে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা। প্রথম ধাপের সময়কাল ছয় সপ্তাহ। এই সময়ের মধ্যে হামাস তাদের হাতে থাকা ৯৮ জিম্মির ৩৩ জনকে মুক্তি দেবে। বিনিময়ে ইসরায়েল ছেড়ে দেবে তাদের হাতে আটক ও বন্দি থাকা প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনিকে।

গাজায় থাকবে কী করে মানুষ?

১৫ মাসের ভয়াবহ হামলায় গাজায় আর অবশিষ্ট বলে তেমন কিছুই নেই। ৯০ শতাংশ বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে এবং সেখানকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অবকাঠামো পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এখন ২০ লাখের বেশি শরণার্থী গাজায় ফিরবে কি ফিরবে না এই প্রশ্নই বড় হয়ে উঠছে। গাজা উপত্যকা পুনর্গঠনের একটা জটিল ও যন্ত্রণাদায়ক যাত্রাও শুরু করতে হবে ফিলিস্তিনিদের।

জাতিসংঘের হিসাবে, গাজা থেকে চার কোটি ২০ লাখ টনের বেশি ধ্বংসাবশেষ সরাতে হবে। এতে সময় লেগে যেতে পারে ১০ বছর; আর অর্থ লাগবে প্রায় ৭০ কোটি ডলার।

এনভায়রনমেন্টাল কোয়ালিটি অথরিটি অব প্যালেস্টাইনের বরাতে আল জাজিরা বলছে, গাজায় অন্তত ৮৫ হাজার টন বোমা ফেলেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এর মধ্যে অনেক বোমাই ধ্বংসস্তূপের নিচে অবিস্ফোরিত অবস্থায় চাপা পড়ে আছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘মাইন অ্যাডভাইজরি গ্রুপের (এমএজি) পরিচালক (প্রোগ্রাম) গ্রেগ ক্রোদার মনে করেন, “অবিস্ফোরিত এসব বোমা অপসারণ কিংবা নিষ্ক্রিয় করতে প্রায় ১০ বছর সময় লাগবে। খরচ হবে কোটি কোটি ডলার।” এসব বোমায় হতাহতের ঝুঁকির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “অনেকেই আছেন, যারা যথাযথ পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করবেন না। “তারা বাড়িতে যাবেন; একটি ট্রাক ভাড়া করবেন এবং হাত দিয়েই ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু করে দেবেন। এসব কাজে অনেক শিশুও হাত লাগাবে, যেটা আরেকটা বড় ভয়ের ব্যাপার।”

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

গাজায় যুদ্ধবিরতিতে বিলম্ব, বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তেও হামলা

আপডেট সময় ০২:৩৫:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৫

রোববার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টা থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, যতক্ষণ হামাস জিম্মিদের তালিকা না দেবে ততক্ষণ যুদ্ধবিরতি শুরু হবে না। তার দপ্তর থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) যুদ্ধবিরতি শুরু না করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

চুক্তির শর্তে জিম্মি-বন্দি বিনিময়ের ২৪ ঘণ্টা আগেই নামের তালিকা দেওয়ার কথা রয়েছে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

হামাস জানিয়েছে, কারিগরি জটিলতায় তালিকা দিতে দেরি হচ্ছে।

পরে আইডিএফের এক মুখপাত্রও জানান, হামাস শর্ত না মানায় যুদ্ধবিরতি নির্ধারিত সময়ে শুরু হচ্ছে না।

সোয়া এক বছরের যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত তার অবসানে রোববার স্থানীয় সময় সকাল থেকে গাজায় শুরু হওয়ার কথা ছিল ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার বহুল আকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধবিরতি। কিন্তু চুক্তির শর্ত অনুযায়ী হামাস কোন কোন জিম্মিকে মুক্তি দেবে তার তালিকা না দেওয়ায় যু্দ্ধবিরতি শুরুর সময় পিছিয়ে দিয়েছে তেল আবিব।

বিবিসি জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তেও হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজার কয়েক জায়গায় বিস্ফোরণের পর ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।

রোববার ভোরের আগেই ইসরায়েলি বাহিনী গাজার রাফাহ থেকে মিশর ও গাজার সীমান্তবর্তী ফিলাডেলফি করিডোরের দিকে সরতে শুরু করেছিল বলে হামাসপন্থি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতির চুক্তি করতে মিশর, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্র মাসের পর মাস ধরে চেষ্টা চালিয়ে গেছে, শেষ পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের আগে গলে বরফ।

চুক্তি অনুযায়ী, তিন ধাপে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা। প্রথম ধাপের সময়কাল ছয় সপ্তাহ। এই সময়ের মধ্যে হামাস তাদের হাতে থাকা ৯৮ জিম্মির ৩৩ জনকে মুক্তি দেবে। বিনিময়ে ইসরায়েল ছেড়ে দেবে তাদের হাতে আটক ও বন্দি থাকা প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনিকে।

গাজায় থাকবে কী করে মানুষ?

১৫ মাসের ভয়াবহ হামলায় গাজায় আর অবশিষ্ট বলে তেমন কিছুই নেই। ৯০ শতাংশ বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে এবং সেখানকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অবকাঠামো পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এখন ২০ লাখের বেশি শরণার্থী গাজায় ফিরবে কি ফিরবে না এই প্রশ্নই বড় হয়ে উঠছে। গাজা উপত্যকা পুনর্গঠনের একটা জটিল ও যন্ত্রণাদায়ক যাত্রাও শুরু করতে হবে ফিলিস্তিনিদের।

জাতিসংঘের হিসাবে, গাজা থেকে চার কোটি ২০ লাখ টনের বেশি ধ্বংসাবশেষ সরাতে হবে। এতে সময় লেগে যেতে পারে ১০ বছর; আর অর্থ লাগবে প্রায় ৭০ কোটি ডলার।

এনভায়রনমেন্টাল কোয়ালিটি অথরিটি অব প্যালেস্টাইনের বরাতে আল জাজিরা বলছে, গাজায় অন্তত ৮৫ হাজার টন বোমা ফেলেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এর মধ্যে অনেক বোমাই ধ্বংসস্তূপের নিচে অবিস্ফোরিত অবস্থায় চাপা পড়ে আছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘মাইন অ্যাডভাইজরি গ্রুপের (এমএজি) পরিচালক (প্রোগ্রাম) গ্রেগ ক্রোদার মনে করেন, “অবিস্ফোরিত এসব বোমা অপসারণ কিংবা নিষ্ক্রিয় করতে প্রায় ১০ বছর সময় লাগবে। খরচ হবে কোটি কোটি ডলার।” এসব বোমায় হতাহতের ঝুঁকির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “অনেকেই আছেন, যারা যথাযথ পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করবেন না। “তারা বাড়িতে যাবেন; একটি ট্রাক ভাড়া করবেন এবং হাত দিয়েই ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু করে দেবেন। এসব কাজে অনেক শিশুও হাত লাগাবে, যেটা আরেকটা বড় ভয়ের ব্যাপার।”