সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ঢাকায় জরুরি পানি সরবরাহে ৯২০ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়েছে সরকার Logo ঘোড়ার মাংসের ‘অবৈধ কারবার’ বন্ধে হাইকোর্টে জয়া Logo ভয়াবহ গতিতে দেবে যাচ্ছে মেক্সিকো সিটি Logo দেশে বিড়াল পোষার প্রবণতা বেড়েছে, কারণ কী? Logo আগাম বন্যা-ঢলে কেবল নেত্রকোণাতেই ৭৮ হাজার কৃষকের ৩৭২ কোটি টাকার ক্ষতি Logo ট্রাম্পের হুমকি: ইরানের ইউরেনিয়াম স্পেস ফোর্সের নজরদারিতে, কাছে ঘেঁষলেই ‘উড়িয়ে দেবো’ Logo যে আদিম মাছটি এখনো সাঁতরে বেড়ায় বাংলাদেশের পাহাড়ি নদীতে Logo আরেকটি বৃষ্টিবলয় সক্রিয় হতে পারে ১২ মে থেকে, প্রভাব বেশি থাকতে পারে ৩ বিভাগে Logo প্রকৃতিমা: জননী ও ধরিত্রী যেন একই সত্তা, সৃষ্টি আর ধৈর্যে একাকার Logo জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন: পুলিশের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

মানবহিতৈষী মনু মিয়ার ঘোড়াটির সঙ্গে এ কেমন অমানবিকতা!  

মানবহিতৈষী মনু মিয়ার ঘোড়াটির সঙ্গে এ কেমন অমানবিকতা!  

দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোতে আজকে একজন বৃদ্ধ ও তার ঘোড়ার ছবি দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে এক হৃদয়বিদারক খবর। খবরে বলা হয়েছে, এই বৃদ্ধের নাম মনু নিয়া, যিনি তার ঘোড়াটিতে চেপে গ্রামে গ্রামে গিয়ে মৃতের সৎকার করেন স্বেচ্ছায়, পরম মমতায় মানুষের শেষ আশ্রয় কবর খোঁড়েন। ঘোড়ায় চড়ে মানুষের শেষ ঠিকানা নিশ্চিত করা মনু মিয়া ও তার ঘোড়াটিকে নিয়ে আগেও সংবাদ হয়েছে, ইউটিউবে তাকে নিয়ে আছে বেশ কয়েকটি ভিডিও। আজ মনু মিয়া অসুস্থ, তিনি ঢাকায়। ওদিকে অভিভাবকহীন তার ঘোড়াটিকে কে বা কারা মেরে ফেলেছে! এতে এলাকায় এবং নেটপাড়ায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

মনু মিয়া, কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলার জয়সিদ্ধি ইউনিয়নের আলগাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। ৬৭ বছর বয়সী মানুষটি ৩ হাজারের বেশি মুসলিমের শেষ আশ্রয় অর্থাৎ কবর খুঁড়েছেন, এই কাজে তিনি নেননি কোনো পারিশ্রমিক কিংবা বকশিসপ্রায় ৪৯ বছর ধরে এই মানবহিতৈষী কাজ করে চলেছেন মনু মিয়া। দশ বছর আগে বাজারের দোকান বিক্রি করে একটি ঘোড়া কেনেন মনু মিয়া। যার পিঠে চড়ে ছুটে যেতেন কবর খুঁড়তে, বিদায় জানাতেন মানুষকে। মানুষের সেবায় নিবেদিত মনু মিয়া নিজে যখন অসুস্থ হলেন তখন সেই মানুষদের মাঝেই লুকিয়ে থাকা চরম অমানবিকতার শিকার হলো তার ঘোড়াটি।

 

বয়সের ভারে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এমন সময়ই তার প্রিয় ঘোড়াটি পাশের মিঠামইনের হাশিমপুরে ঘাস খেতে গেলে অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীরা বল্লমের আঘাতে সেটিকে হত্যা করে। মনু মিয়ার শারীরিক অবস্থার কথা চিন্তা করে পরিবার এখনও মনু মিয়ার কাছে এ ঘটনা গোপন করে রেখেছে।

মনু মিয়ার এমন সংকটকালেই বর্বরতার বলি হয়েছে তার প্রিয় ঘোড়াটি। বাড়িতে মনু মিয়া ও তার স্ত্রী রহিমা বেগমের অনুপস্থিতিতে অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়ে ঘোড়াটি। গত তিনদিন যাবৎ গ্রামবাসী কারো নজরে পড়েনি ঘোড়াটি। শুক্রবার সকালে পার্শ্ববর্তী মিঠামইন উপজেলার কাটখাল ইউনিয়নের হাশিমপুর ছত্রিশ গ্রাম থেকে গ্রামবাসীর কাছে একটি ফোনকলে আসে দুঃসংবাদটি। হাশিমপুর ছত্রিশ গ্রামের একটি মাদরাসার পাশের জমির পানির মধ্যে ঘোড়াটির মরদেহ পড়ে ছিল। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান আলগাপাড়া গ্রামের কয়েক যুবক। তারা গিয়ে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকা ঘোড়াটিকে দেখতে পায়। বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিথর হয়ে পড়ে ছিল মনু মিয়ার প্রিয় ঘোড়াটি।

 

মনু মিয়ার স্ত্রী রহিমা বেগম বলেন, ‘উনার অবস্থা ভালো না। একমাত্র আল্লাহ পাকের রহমতেই উনি সুস্থ হতে পারেন। উনি জীবনে কারো কোনো ক্ষতি করেননি। এতোদিন জানতাম, উনাকে মানুষ ভালোবাসে। উনার এমন খারাপ অবস্থায় কি করে এমনভাবে উনার প্রিয় ঘোড়াটিকে মানুষ মেরে ফেলতে পারল। এই খবরটা আমরা উনাকে দিলে উনি কোনোভাবেই সহ্য করতে পারবেন না।’

মনু মিয়ার প্রতিবেশী আলমগীর বলেন, ‘অনেক দিন আগে মনু চাচা বাজারের দোকান বিক্রি করে এই ঘোড়াটি কিনেছিলেন। মানুষ মারা গেলে মনু চাচা এই ঘোড়ায় করে ওই স্থানে ছুটে যেতেন। শুক্রবার কে বা কারা ঘোড়াটিকে হত্যা করেছে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আমরা পুলিশের কাছে দাবি জানাই তদন্ত করে এটার সুষ্ঠু বিচার করা হোক।’

 

মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির জানান, তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকায় জরুরি পানি সরবরাহে ৯২০ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়েছে সরকার

মানবহিতৈষী মনু মিয়ার ঘোড়াটির সঙ্গে এ কেমন অমানবিকতা!  

আপডেট সময় ১২:৫১:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ মে ২০২৫

দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোতে আজকে একজন বৃদ্ধ ও তার ঘোড়ার ছবি দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে এক হৃদয়বিদারক খবর। খবরে বলা হয়েছে, এই বৃদ্ধের নাম মনু নিয়া, যিনি তার ঘোড়াটিতে চেপে গ্রামে গ্রামে গিয়ে মৃতের সৎকার করেন স্বেচ্ছায়, পরম মমতায় মানুষের শেষ আশ্রয় কবর খোঁড়েন। ঘোড়ায় চড়ে মানুষের শেষ ঠিকানা নিশ্চিত করা মনু মিয়া ও তার ঘোড়াটিকে নিয়ে আগেও সংবাদ হয়েছে, ইউটিউবে তাকে নিয়ে আছে বেশ কয়েকটি ভিডিও। আজ মনু মিয়া অসুস্থ, তিনি ঢাকায়। ওদিকে অভিভাবকহীন তার ঘোড়াটিকে কে বা কারা মেরে ফেলেছে! এতে এলাকায় এবং নেটপাড়ায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

মনু মিয়া, কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলার জয়সিদ্ধি ইউনিয়নের আলগাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। ৬৭ বছর বয়সী মানুষটি ৩ হাজারের বেশি মুসলিমের শেষ আশ্রয় অর্থাৎ কবর খুঁড়েছেন, এই কাজে তিনি নেননি কোনো পারিশ্রমিক কিংবা বকশিসপ্রায় ৪৯ বছর ধরে এই মানবহিতৈষী কাজ করে চলেছেন মনু মিয়া। দশ বছর আগে বাজারের দোকান বিক্রি করে একটি ঘোড়া কেনেন মনু মিয়া। যার পিঠে চড়ে ছুটে যেতেন কবর খুঁড়তে, বিদায় জানাতেন মানুষকে। মানুষের সেবায় নিবেদিত মনু মিয়া নিজে যখন অসুস্থ হলেন তখন সেই মানুষদের মাঝেই লুকিয়ে থাকা চরম অমানবিকতার শিকার হলো তার ঘোড়াটি।

 

বয়সের ভারে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এমন সময়ই তার প্রিয় ঘোড়াটি পাশের মিঠামইনের হাশিমপুরে ঘাস খেতে গেলে অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীরা বল্লমের আঘাতে সেটিকে হত্যা করে। মনু মিয়ার শারীরিক অবস্থার কথা চিন্তা করে পরিবার এখনও মনু মিয়ার কাছে এ ঘটনা গোপন করে রেখেছে।

মনু মিয়ার এমন সংকটকালেই বর্বরতার বলি হয়েছে তার প্রিয় ঘোড়াটি। বাড়িতে মনু মিয়া ও তার স্ত্রী রহিমা বেগমের অনুপস্থিতিতে অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়ে ঘোড়াটি। গত তিনদিন যাবৎ গ্রামবাসী কারো নজরে পড়েনি ঘোড়াটি। শুক্রবার সকালে পার্শ্ববর্তী মিঠামইন উপজেলার কাটখাল ইউনিয়নের হাশিমপুর ছত্রিশ গ্রাম থেকে গ্রামবাসীর কাছে একটি ফোনকলে আসে দুঃসংবাদটি। হাশিমপুর ছত্রিশ গ্রামের একটি মাদরাসার পাশের জমির পানির মধ্যে ঘোড়াটির মরদেহ পড়ে ছিল। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান আলগাপাড়া গ্রামের কয়েক যুবক। তারা গিয়ে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকা ঘোড়াটিকে দেখতে পায়। বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিথর হয়ে পড়ে ছিল মনু মিয়ার প্রিয় ঘোড়াটি।

 

মনু মিয়ার স্ত্রী রহিমা বেগম বলেন, ‘উনার অবস্থা ভালো না। একমাত্র আল্লাহ পাকের রহমতেই উনি সুস্থ হতে পারেন। উনি জীবনে কারো কোনো ক্ষতি করেননি। এতোদিন জানতাম, উনাকে মানুষ ভালোবাসে। উনার এমন খারাপ অবস্থায় কি করে এমনভাবে উনার প্রিয় ঘোড়াটিকে মানুষ মেরে ফেলতে পারল। এই খবরটা আমরা উনাকে দিলে উনি কোনোভাবেই সহ্য করতে পারবেন না।’

মনু মিয়ার প্রতিবেশী আলমগীর বলেন, ‘অনেক দিন আগে মনু চাচা বাজারের দোকান বিক্রি করে এই ঘোড়াটি কিনেছিলেন। মানুষ মারা গেলে মনু চাচা এই ঘোড়ায় করে ওই স্থানে ছুটে যেতেন। শুক্রবার কে বা কারা ঘোড়াটিকে হত্যা করেছে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আমরা পুলিশের কাছে দাবি জানাই তদন্ত করে এটার সুষ্ঠু বিচার করা হোক।’

 

মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির জানান, তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।