মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কাছে কাউকে যেতে দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। তার দাবি, ওই পারমাণবিক উপাদান এখন মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘কঠোর নজরদারিতে’ রয়েছে।
রোববার প্রচারিত মার্কিন টেলিভিশন অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা ইউরেনিয়াম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন নয়। কারণ, পুরো এলাকা তাদের নজরদারিতে রয়েছে।
ট্রাম্পের এসব কথা নিছকই হুমকি নাকি বাস্তবেই যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু করতে পারে? এর জবাবে মার্কিন তৎপরতা বিশ্লেষণে জানা গেছে যে, ২০২৬ সালের মে মাসের তথ্যানুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক ভাণ্ডার জব্দ করার পরিকল্পনা করছে, যার আওতায় মার্কিন স্পেস ফোর্স তাদের উন্নত নজরদারি সক্ষমতা ব্যবহার করে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত পর্যবেক্ষণ করছে। এই পরিকল্পনায় স্পেস ফোর্সের রিয়েল-টাইম নজরদারিতে ইরানের পরমাণু স্থাপনা থেকে বিশেষ কমান্ডো অভিযানের মাধ্যমে ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত।
ট্রাম্পের অঙ্গীকার: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি রোধে দেশটিতে থাকা প্রায় ৪৫০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম (৬০ শতাংশ পর্যন্ত) সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করেছেন।
স্পেস ফোর্সের ভূমিকা: মার্কিন [Space Force] (মহাকাশ বাহিনী) তাদের উপগ্রহ এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইরানের পারমাণবিক সাইটগুলোর ওপর ২৪/৭ নজরদারি রাখছে, যাতে কোনো ব্যক্তি বা যানবাহন ওই এলাকার আশেপাশে থাকলে তা শনাক্ত করা যায়।
ইসরায়েলের অবস্থান: প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন এবং ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত পুরোপুরি সরিয়ে ফেলার ওপর জোর দিয়েছেন।
প্রেক্ষাপট: ইরানের ফোরদো (Fordow) এবং নাতানজ (Natanz) পারমাণবিক স্থাপনায় এই সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া চলছে বলে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) জানিয়েছে।
এদিকে ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিতে আগ্রহ দেখিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পুতিন বলেছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পরিবহন ও সংরক্ষণ করতে মস্কো প্রস্তুত। রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন একথা বলেন।
তিনি বলেন, রাশিয়া ২০১৫ সালে ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম স্থানান্তর করেছিল। সেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি করতে প্রস্তুত রাশিয়া।
পুতিন বলেন, ইরান যুদ্ধে জড়িত সব পক্ষই তেহরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশটির বাইরে স্থানান্তরের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে একমত হয়েছিল। কিন্তু পরে আলোচনা থমকে যায়।
“যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান কঠোর করে দাবি করেছিল যে (ইরানের) ইউরেনিয়াম কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই পরিবহন করতে হবে। তখন ইরানও কঠোর অবস্থানে চলে যায়”, বলেন তিনি।
মস্কো ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে জানিয়ে পুতিন আরও বলেন, এ যুদ্ধ যত দ্রুত সম্ভব শেষ হবে বলে তিনি আশা করছেন।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 



















